আজ: ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৪ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি, বিকাল ৪:৩৭
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ মাধবপুরে অবৈধভাবে ভ‍্যাকু মেশিনে মাটি উত্তোলন করে ইট ভাটায় বিক্রি

মাধবপুরে অবৈধভাবে ভ‍্যাকু মেশিনে মাটি উত্তোলন করে ইট ভাটায় বিক্রি


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ২৮/০২/২০২৩ , ৫:২৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
মাধবপুরের আদাঐর ইউনিয়নের স্থানীয় প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীরা বোরো ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভ্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বোরো ফসলি জমি মাটি এখন ইট ভাটার দখলে।
উপজেলার শেওলিয়া ব্রীজ এলাকায় মাটি উত্তোলনের বিষয়ে নিউজ করায় আরও বেশি ফুঁসে উঠছে মাটি খেকোরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাধবপুর-মনতলা সড়কের শেওলিয়া ব্রীজ এলাকায় গত কয়েকদিন যাবৎ বোরো ফসলী জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভ‍্যাকু মেশিন দ্বারা মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
বোরো ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে গত ১৩ ফ্রেব্রুয়ারী হালুয়াপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল বাছির নামে এক ব্যক্তি  সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমান এর নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহসান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন অভিযোগ করেও কোন লাভ হয় নি। প্রতিদিনই ভ‍্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন করে আসছে। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, ভুমি কর্মকর্তা, থানার ওসি সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি প্রধান করেছেন। তারপরও মাটি উত্তোলন বন্ধ হয়নি।
হালুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুল বাছির বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা বোরো ফসলি জমি থেকে ভ‍্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন করে ইটের ভাটায় বিক্রি করছে। আমার লিখিত অভিযোগ করার পরেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এক নেতা সাংবাদিককে ফোন দিয়ে বলেন, পঙ্কজ সাহার মালিকানায় সোনাই ইট ভাটায় যে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে তার জন্য যেন কোন নিউজ পত্রিকায় না হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি থেকে মাটি বিক্রি এবং বোরো ফসলি জমি থেকে ভ‍্যাকু মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। প্রশাসন কি কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা আমার বোধগম্য হয় না। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন
এছাড়াও উপজেলার ছাতিয়াইন ইউপির পিয়াইম গ্রামের বিভিন্ন স্থানে, আন্দিউড়া ইউনিয়ন হারিয়া-মিরনগর গ্রামের বোয়ালিয়াখালে পারে জমিসহ আরও বিভিন্ন জায়গায় কোটি কোটি টাকার মাটি উত্তোলন করে ইট ভাটায় বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালীরা মহল।
ফলে একদিকে যেমন কৃষি নির্ভর আবাদি জমির পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পাশের ফসলি জমিগুলো। সরকার দলীয় লোকদের সহযোগিতায় আবারও অবৈধভাবে মাটি কাটা শুরু হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দিনরাত সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব। এ বিষয়ে প্রশাসনের চোখের সামনে হলেও তারা অদৃশ্য কারণে নিরব রয়েছে।
এ ব্যাপারে হালুয়াপাড়া গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমান বলেন, ইট ভাটার পাশে আমাদের নিজস্ব জমি আছে। আমার জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছি সোনাই ইট ভাটা অন্যটা আরমান ইট ভাটাতে।
মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রীধাম দাশগুপ্ত বলেন, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ড্রেজার ও ভ‍্যাকু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তারা শুধু মাটি ও বালু উত্তোলনই করছে না। তারা সরকারি খাশ জমি থেকে ভ্যাকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছে। তারা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।
আদাঐর ইউপি’র চেয়ারম্যান মীর খোরশেদ আলম বলেন, মাধবপুর-মনতলার রাস্তা হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহনের কারণে রাস্তার অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়েছে যে, জনসাধারণ তথা যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে রাস্তার ওপর পড়ে থাকা কাঁদা মাটি এবং ধুলো বালিসহ ট্রাক্টর কালো ধোঁয়ার কারণে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয়দের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালীরা কোন বাঁধাই মানছে না।
মাটি ও বালি উত্তোলনে হরিলোটের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহ্সান জানান, আদাঐর ইউনিয়নে শেওলিয়া ব্রীজ এলাকায় কিছু কিছু জায়গা থেকে কতিপয় লোকজন অবৈধ ভাবে ভ‍্যাকু ও ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন এবং ফসলি জমি থেকে মাটি কাটছিল বলে আমরা সংবাদ পেয়েছিলাম। সেই সংবাদের ভিত্তিতে আমরা সেখানে যাই।  সেখানে গিয়ে আমরা তা বন্ধ করে দিয়েছি। আবার নতুন করে কেউ যদি মাটি কাটে বা বালু উত্তোলন করে তাহলে আমরা তা বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Comments

comments