আজ: ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৪ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি, বিকাল ৩:৪০
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, রাজশাহী বিভাগ চাঁপাইনাবগঞ্জে গাছে গাছে সোনালী মুকুল

চাঁপাইনাবগঞ্জে গাছে গাছে সোনালী মুকুল


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ২৫/০২/২০২৩ , ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,রাজশাহী বিভাগ


মোঃ অনিক দেওয়ান স্টাফ রিপোর্টার: শীতের বিদায় লগ্নে প্রকৃতিতে আগমন ঘটেছে ঋতুরাজ বসন্তের। বসন্তের আগমনে আম গাছে ধরেছে মুকুল। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে চারপাশ। মানুষের মন আনন্দে উদ্বেলিত হচ্ছে মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুবাশে। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর পরিবর্তন জানিয়ে দিচ্ছে মধুমাসের আগমনি বার্তা।

যেদিকে চোখ যায় নজরে পড়ে শুধু সোনালী মুকুল। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে প্রতিটি আমগাছ। মৌমাছিরাও আসছে মধু আহরণে।

শীতের তীব্রতা কমে যাওয়ায় কোকিলের সুমধুর কুহু কুহু আওয়াজে ঋতুরাজ বসন্ত যেন তার আপন রুপে ফিরে এসেছে। আমের রাজধানী বলে স্বীকৃত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে সারি সারি আমগাছ। আর সেই আমগাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে সোনালী মুকুল। ফাগুনের আগাম প্রস্ফুটিতো আমের মুকুলের স্বর্ণালী আভা গাছে গাছে বিদ্যমান। নতুন ফুলে প্রকৃতি যেন এক অপরুপ সাজে সেজেছে।

মৌমাছির দল গুন গুন করে আহরণ করছে মধু। নতুন ফুলে ভরে উঠেছে গাছের শাখা প্রশাখা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। দেখে মনে হচ্ছে যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন ঘটেছে। বসন্তের ফাগুন আর আমের মুকুল যেন এক সুতোয় গাঁথা। বছরের এই নির্দিষ্ট এই সময় জুড়ে সব শ্রেণীর মানুষের দৃষ্টি থাকে সবুজ পাতায় ঢাকা আমের শাখা প্রশাখায়।

এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় গোমস্তাপুর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন আমচাষিরা। মুকুলে মুকুলে ছেয়ে যাওয়া আমগাছ দেখে আমচাষীদের মনে বইছে আনন্দ। সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি, গোমস্তাপুর, পার্বতীপুর, চৌডালা, বোয়ালিয়া ও রহনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে আমগাছগুলোতে মুকুলের সমারোহ। আমচাষীরা মুকুল রক্ষা এবং পরিচর্যার জন্য কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন। আমচাষীরা ইতিমধ্যে আমগাছের যত্ন নিতে শুরু করেছেন।

রহনপুর ইউনিয়নের ভাগলপুর গ্রামের আমচাষি আতাউর রহমান বলেন, ৪ বছর পূর্বে সাড়ে ১১ বিঘা জমি লীজ নিয়ে সেই জমিতে আমরুপালী, আশিনা, ফজলী, ল্যাংড়া ও হিমসাগরসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করেছি। ইতিমধ্যেই গাছগুলো বড় হয়েছে। এবার গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল রয়েছে। আমি ও আমার ছেলেরা মিলে দিনরাত পরিশ্রম করে আমগাছগুলোকে আমফল পাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলছি। দিনের বেশীরভাগ সময় কাটছে এখন আমগাছ পরিচর্যায়। আশাকরি আমের ফলন এবার ভালো পাবো। বোয়ালিয়া ইউনিয়নের আমচাষি রাশেদ আলী জানান, নিজের ৮ বিঘা সহ মোট ২৬ বিঘা জমিতে আমের বাগান করেছি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় আমের মুকুল বেশ ভালো রয়েছে। ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি। গতবছর আমের ফলন কম হয়েছিলো। কিন্তু মূল্য ভালো ছিলো। এবছর মুকুল ভালো হওয়ার কারণে উৎপাদন বেশী হতে পারে। ফলে দাম কম হলেও পুষিয়ে যাবে বলে ধারণা করছি। তবে কোমল পানীয় কোম্পানিগুলো গতবার যে পরিমাণ আম ক্রয় করেছে। এবারো যদি সেই পরিমাণ আম ক্রয় করে। তবে দাম গতবারের মতো থাকবে বলে আশা করছি। এখন পর্যন্ত যে আবহাওয়া রয়েছে। তা আমের মুকুলের জন্য বেশ উপযোগী বলে মনে হচ্ছে। কিছুদিন আগে হালকা কুয়াশায় কিছুটা ক্ষতি হলেও সার্বিকভাবে উপজেলার প্রায় প্রতিটি গাছে আমের মুকুল ভালো রয়েছে। গোমস্তাপুর উপজেলা আমচাষি ও আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আফতাব উদ্দিন লালন বলেন, এবারের আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ উপযোগী। আশাকরছি আমের বাম্পার ফলন হবে এবং আমচাষিরা গতবারের লোকসান কাটিয়ে উঠবে। আমচাষীরা এখন দিনরাত আমগাছ পরিচর্যায় কাজ করছে।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকার কারণে আমের গাছগুলোতে এবার বেশ মুকুল ধরেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি মেঘলামুক্ত এবং শীতের তীব্রতা কম ছিলো বলে উল্লেখ করেন। তিনি আশা করেন এরকম আবহাওয়া বিরাজ করলে এবার গতবারের তুলনায় আমের বাম্পার ফলন হবে। তিনি নিজেই ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সরজমিন মাঠে গিয়ে আমচাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন, উৎসাহ দিচ্ছেন এবং আমচাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করছেন। রপ্তানি যোগ্য উপজেলার মধ্যে গোমস্তাপুরের নাম থাকায় এবার আমচাষিদের প্রতি গুরুত্ব বেশি দিচ্ছেন। তাদের জন্য একটি লিঙ্কেজ তৈরি করে সময়োপযোগী করে তুলেছেন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমগাছে মুকুল এসেছে প্রায় ৯৫%। তিনি বলেন গোমস্তাপুর উপজেলায় এবার ৪ হাজার ২’শ ৩০ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছে। গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিস আমচাষিদের সহায়তায় যেকোনো সময় প্রস্তুত রয়েছেন।

Comments

comments