আজ: ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৪ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি, দুপুর ২:২৩
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধান সংবাদ আমতলীতে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার

আমতলীতে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ১২/০২/২০২৩ , ১:১৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: প্রধান সংবাদ


মেহেদী হাসান , আমতলী :
ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পার হলেও বরগুনার আমতলীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। পালিত হয় না আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ অন্যান্য সব দিবস।
কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শহীদ মিনার দিয়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ ভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না এসব বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, আমতলী উপজেলায় মোট ২৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৬টি কিন্ডারগার্ডেন, ৭টি কলেজ, ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৯টি দাখিল মাদরাসা, ৩০টি ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২ টি কলেজ, ১৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। অবশিষ্ট বিদ্যালয়ে কোন শহীদ মিনার নেই।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গুরুদল বঙ্গবন্ধু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা,গাজীপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা প্রত্যেক বছর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। আবার কিছু বিদ্যালয়ে অস্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এভাবে বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও শহীদ মিনার নির্মাণ হয় না এসব বিদ্যালয়ে। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে সেগুলোও অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকে বছরের বেশির ভাগ সময়ই। শুধু মাতৃভাষা দিবস সহ অন্যান্য দিবস আসলে পরিষ্কার করা হয়।
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ১৪ টি বিদ্যালয় ছাড়া  অবশিষ্ট বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারীভাবে উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিয়া উদ্দিন মিলন বলেন, উপজেলার ১১ টি বিদ্যালয় ও দুইটি কলেজে শহীদ মিনার আছে। তিনি আরো বলেন, কোন মাদ্রাসায় শহীদ মিনার নেই। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিানর নির্মাণ করা প্রায়োজন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম দৈনিক মতপ্রকাশ কে বলেন, ভাষা শহীদদের পরিচয় জানতে ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা আবশ্যক। তিনি আরো বলেন, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য প্রকল্প দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের দেয়া প্রকল্প অনুসারে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।

Comments

comments