আজ: ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, রাত ৮:১২
সর্বশেষ সংবাদ
শিক্ষাঙ্গন ইবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ইবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ০৯/০৯/২০২২ , ৬:০৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: শিক্ষাঙ্গন


ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফোকলোর স্টাডিস বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়ুয়া তাসনিম উর্মি (২৩) নামের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরের কাথুলী মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ভোররাতে খবর পেয়ে গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের একটি টিম তার লাশ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী আশরাফুজ্জামান প্রিন্স পলাতক রয়েছে । এক পুত্র সন্তানের জননী উর্মি গাংনী উপজেলার শহরের কাথুলী মোড় এলাকার আশরাফুজ্জামান প্রিন্স এর স্ত্রী ও একই উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে।

উর্মির বাবা গোলাম কিবরিয়া জানান, ‘ওর স্বামী একটা নেশাখোর। নেশা করে এসে আমার মেয়েকে মারধোর করেছে। তার গায়ে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন আছে। তারা আমার মেয়েটকে মেরে ফেলে জানালার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিলো। তারপর হাসপাতালে লাশ নিয়ে গেছে। আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য ওর শ্বশুরবাড়ির সবাই দায়ী। ওরা এক বছর যাবৎ আমার মেয়ের উপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করছিলো। ওর স্বামী নেশা করত যখনই ও স্ত্রী হিসেবে এইটা বলে তখনই তারা এক হয়ে আমার মেয়ের উপর নির্যাতন করত।

উর্মির মা বলেন, ‘স্বামী সন্তান ঘরে থাকা অবস্থায় আমার মেয়ে কখনোই আত্মহত্যা করতে পারেনা। আমার সাথে সন্ধ্যার আগে কথা হয়েছে ভিডিও কলে আমার নাতি হাটা শিখেছে এইটা নিয়ে খুব খুশি ছিলো ও। আমার মেয়েকে তার স্বামী প্রিন্স শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর উর্মি আত্মহত্যা করেছে বলে ঘটনা ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।’

স্থানীয়রা জানান, প্রিন্স ছিল মাদকাসক্ত। প্রতিনিয়ত সে কারণে-অকারণে তার স্ত্রীকে মারধর করতো।

গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে হত্যার কারণ জানা যাবে।

এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সভাপতি ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ এটাকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নিয়েছে। আমরা চাই মৃত্যুর সঠিক কারণটা উদঘাটিত হোক। সাইন্টিফিক রিপোর্ট অনুযায়ী যদি এটা অপমৃত্যু হয়ে থাকে, তার প্রাণহানির পিছনে যদি কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকে সেটা যেন উদঘাটন করা হয় এবং এর সাথে যারা জড়িত থাকবে তাদের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় এটা আমাদের দাবি থাকবে।

তাসনিম উর্মি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বামী কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তারা ৪ বছর পূর্বে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর তাদের সংসারে রয়েছে ১৩ মাস বয়সী শিশু পুত্র।

Comments

comments

Close