আজ: ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ২:২৪
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ সিলেটের বন্যা দুর্গতরা দেখছে এক মানবিক ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে

সিলেটের বন্যা দুর্গতরা দেখছে এক মানবিক ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২২/০৬/২০২২ , ১০:৪৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


ই এম আসাদুজ্জামান আসাদ:   ‘এত দূর থেইকা তোমরা আমাদের দেখতে এসেছ আমরা তাতেই খুশি’ ত্রান নিতে এসে বন্যাকবলিত এলাকার এক বৃদ্ধা গলা পানিতে দাঁড়িয়ে যখন জানলেন ত্রানদাতারা এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তখন এমন মন্তব্য করলেন তিনি। সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর দক্ষিণাঞ্চলে ১০ জেলার ৬৪টি উপজেলা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ১২২ বছরের ইতিহাসে এমন বন্যা দেখেনি এই অঞ্চলের মানুষ। ইতোমধ্যে সিলেটের ৮০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে দুঃখ-দুর্দশা সহসা শেষ হচ্ছে না বন্যাকবলিত অঞ্চলের মানুষের।

এ সময় কখনো হাঁটু পানি বা কোমর পানি, কখনো আবার নৌকা নিয়ে বানভাসি মানুষের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবীরা। সিলেট নগর ও বিভিন্ন উপজেলায় বন্যায় দুর্ভোগে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ । বিনামূল্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, নগদ অর্থ ও ওষুধপত্র দিচ্ছে প্রতিদিন। যা এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোর মানুষের মধ্যে নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ওই এলাকায় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বন্যার কারণে অনেকেই ঘরে রান্না করতে না পারায় তাদের মাঝে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। অনেকে সেখানে গিয়ে নিজেরা নৌকায় বা আশ্রয় কেন্দ্রে রান্না করে ব্যবস্থা করছে হাজার মানুষের একবেলা খাবারের।

জানা যায়, গত ৬ দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যাক্তিগত সংগঠনের উদ্যোগে প্রায় ২৫ হাজার বন্যার্থ পরিবারের জন্য ত্রান পৌঁছে দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ। যা এখনো চলমান। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য কিছু তুলে ধরা হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামে মসজিদের মুসল্লীবৃন্দ সিলেটের কয়েক হাজার বানভাসিদের জন্য পাঠিয়েছেন উপহার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ৫শতাধিক এবং সাধারণ সম্পাদক প্রায় ১১শতাধিক পরিবারের জন্য নিয়ে ত্রান নিয়ে গিয়েছেন সিলেট। এ্যানি ফর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামক একটি সংগঠন থেকে পাঠানো হচ্ছে বন্যার্থদের জন্য উপহার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালের পক্ষ থেকে হাজার বন্যার্ত পরিবারের জন্য পাঠানো হয়েছে ত্রান সামগ্রী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর এর পক্ষ থেকে শতাধিক পরিবারের কাছে পৌঁছানো হয়েছে ত্রান সামগ্রী। জহিরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে তিন শতাধিক পরিবারের জন্য পাঠানো হয়েছে খাদ্য সামগ্রী। “মানুষ মানুষের জন্য” স্লোগানকে সামনে রেখে বানভাসী মানুষের সহযোগিতার জন্য ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ব্রিগেড গণ চাঁদা সংগ্রহ করছেন। যার সম্পূর্ন অর্থ সিলেট বানবাসীদের পাঠানো হবে।

মানবিক সিলেট নামে সামাজিক সংগঠনের সদস্য এমরান জানান, আমরা বন্যার শুরু থেকেই বন্যার্তদের বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ এর ব্যবস্থা করে আসছি কিন্তু তা যথেষ্ট হচ্ছিল না, কারণ আমরা সব এলাকায় পৌঁছাতে পারছিলাম না। কিন্তু গত কিছুদিন যাবত দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ ত্রান নিয়ে আসছে। তাদের আমরা দিকনির্দেশনা দিচ্ছি কোন কোন এলাকায় পৌঁছালে ভালো হবে। লক্ষ্য করে দেখলাম এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যানার লাগানো গাড়ির সংখ্যায় বেশি ছিল। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীকে এই সময়ে এমন মানবিকতার পরিচয় দেয়ায়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিসের নায়েক মো.সফি আহমেদ পিপিএম বলেন, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চাহিদা অনেক। বন্যার্তরা সাহায্যের অপেক্ষায়। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করছি। গত কয়েকদিন যাবত সারা দেশ থেকে মানুষ বন্যার্তদের সহযোগীতার জন্য সিলেটে আসছেন। তার মাঝে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমানে ট্রাক, পিকআপ ঢুকতে দেখা গেছে।
তিনি বন্যার্থদের যারা নানাভাবে সাহায্য সহযোগীতা করছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

 

Comments

comments

Close