আজ: ২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ১২:১৬
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ পত্নীতলায় জেলা পরিষদের সদস্যের বাড়ি থেকে ১৯৪ বস্তা ত্রাণ সামগ্রি উদ্ধার

পত্নীতলায় জেলা পরিষদের সদস্যের বাড়ি থেকে ১৯৪ বস্তা ত্রাণ সামগ্রি উদ্ধার


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৯/০৪/২০২২ , ১১:২৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর পত্নীতলায় সদ্য বিলুপ্ত জেলা পরিষদের সদস্য ফাতেমা জিন্না ঝর্ণার বাড়ি থেকে কোভিড-১৯ দুস্থদের মাঝে বিতরণে জন্য বরাদ্দ ১৯৪ বস্তা ত্রাণ সামগ্রি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে উপজেলা সদরের নজিপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন তার বাড়ি থেকে জেলা জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ত্রাণ সামগ্রি উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, ১৭ এপ্রিল (রোববার) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর ধারা ৫ অনুযায়ী (সংশোধনী আইন ২০২২ অনুযায়ী) দেশের ৬১ টি জেলা পরিষদের মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ হতে পাঁচ বছর উত্তীর্ণ হওয়ায় উক্ত পরিষদসমূহ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। সে মোতাবেক জেলা পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর আর কেউ জেলা পরিষদের সদস্য বলবত থাকেন না।
কোভিড-১৯ চলতি বছরের মার্চে ত্রাণ সামগ্রি রমজান মাসে দুস্থদের মাঝে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। হঠাৎ করে জেলা পরিষদ বিলুপ্তি ঘোষণা করে। এজন্য তড়িঘড়ি করে জেলা পরিষদ থেকে সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য পত্নীতলা উপজেলার বাসিন্দা সদ্য বিলুপ্ত জেলা পরিষদের দুই সদস্য ফাতেমা জিন্না ঝর্ণা ও শাহীন চৌধুরীর ১৯৪ বস্তা ত্রাণ সামগ্রি উত্তোলন করেন। পরে সেগুল্যো ফাতেমা জিন্না ঝর্ণা তার বাড়িতে মজুদ করেন।
মজুদের বিষয়টি জানার পর সোমবার রাতে ফাতেমা জিন্না ঝর্ণার বাড়িতে জেলা জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর তথ্যে অভিযান পরিচালনা করে পত্নীতলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল ইসলাম। পরে মঙ্গলবার ভোরে ত্রানগুলো জিম্মায় নিয়ে পত্নীতলা ডাকবাংলোতে রাখা হয়। এসময় ত্রাণ সামগ্রি নিজ বাড়িতে রাখার অপরাধে ভুল স্বীকার করায় ফাতেমা জিন্না ঝর্ণা এবং শাহীন চৌধুরীর নিকট থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত করে দুস্থদের মাঝে ত্রাণগুলো বিতরণ করার দায়িত্ব নেয় উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সদস্য সাবেক ফাতেমা জিন্না ঝর্ণা বলেন, সোমবার জেলা পরিষদ থেকে ত্রাণগুলো পত্নীতলায় নিয়ে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। আমার বরাদ্দ ছিল ১০০ প্যাকেট (বস্তা)। প্রতি বস্তায় ছিল- চাল, ছোলা, মশুর ডাল, সয়াবিন, সাবান ও চিনি। যেহেতু এলাকায় আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায় এজন্য আমার এবং আরেক সদস্য শাহীন চৌধুরীর বরাদ্দও আমার বাড়িতে রাখা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবগত করা হয়। পরে মাষ্টার রোল করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সুপারিশ নিয়ে ত্রাণগুলো বিতরণ করা হবে। কিন্তু রাতেই গোয়েন্দা সংস্থা মালগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তবে রাত হওয়ার কারণে সরকারি গুদামে না রেখে বাড়িতে ত্রাণের মালগুলো রেখেছিলাম। এখানে অসৎ কোন উদ্যেশ্য ছিল না।
পত্নীতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গাফ্ফার বলেন, জেলা পরিষদ থেকে প্রতি সদস্যকে ত্রাণগুলো দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। ত্রাণগুলো তালিকা করে মাষ্টার রোলের মাধ্যমে বিতরণ করার কথা ছিল।
পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন সরকার বলেন, গত রোববার জেলা পরিষদকে বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। সোমবার তারা জেলা পরিষদ থেকে ত্রানগুলো উত্তোলন করে। পরে ত্রাণগুলো সরকারি গুদামে বা ডাক বাংলোতে না রেখে বাড়িতে রাখে। অভিযানের সময় বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয় যে রমজান মাসে ত্রাণগুলো বিতরণ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ত্রাণগুলো উদ্ধার করে ডাক বাংলোতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তালিকা করে ত্রাণগুলো বিতরণ করা হবে।

Comments

comments

Close