আজ: ২৪শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, ভোর ৫:০৪
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ, বাংলাদেশ নাজমুলের পক্ষে সাফাই গেয়ে পোস্টদাতাদের ব্যাপারে খতিয়ে দেখছে সাইবার ক্রাইম টিম ও কাউন্টার টেরোরিজম

নাজমুলের পক্ষে সাফাই গেয়ে পোস্টদাতাদের ব্যাপারে খতিয়ে দেখছে সাইবার ক্রাইম টিম ও কাউন্টার টেরোরিজম


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৫/০৪/২০২২ , ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ,বাংলাদেশ


মুখে দাড়ি। মাথায় টুপি। দেখলে মনে হবে কখনোই মিথ্যা কথা বলেন না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। শুধু তাই নয়, তার মিষ্টভাষী আচরণে মনে হবে না তিনি মিথ্যা কিছু বলছেন। তবে তদন্তে গিয়ে তার মুখোশ উন্মোচন করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সেই মিষ্টভাষী হলেন সদ্য সামরিক বরখাস্ত হওয়া ডিএমপির পুলিশ প্রশাসন বিভাগের কনস্টেবল নাজমুল তারেক।

যিনি গত শনিবার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারকে হেনস্থা করে ও হত্যা চেষ্টা চালিয়েছেন।

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে কনস্টেবল নাজমুলকে শনাক্তের জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে থাকে পুলিশ। এক পর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে তাকে অনুসরণ করে তার নাম ও ঠিকানা পাওয়া যায়।

রোববার রাতে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলেন, এ বিষয়টি এত বড় হয়ে যাবে তা তিনি জানতেন না। ওই দিনের ঘটনা বর্ণনা করে কনস্টেবল নাজমুল বলেন, সেদিন বাসা থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যান। তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ব্যাপক যানজটের কারণে সেদিন ফার্মগেটের পূর্বপাশ দিয়ে না গিয়ে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে দিয়ে যান। মোটরসাইকেলে বসা তার স্ত্রীর পা ওই নারী শিক্ষিকার গায়ে লাগে। পরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।

নাজমুলের মুখে এসব ঘটনা শোনার পর তদন্তকারীদের বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরবর্তীতে তার স্ত্রীকে ডেকে আনা হয়। স্ত্রী একই কথা বলেন। পরবর্তীতে দুজনের জবানবন্দি অনুযায়ী আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারকে অবগত করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা নাজমুলের বাসা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন। দেখেন মোটরসাইকেলের তার স্ত্রী ছিলেন না। এতে প্রতীয়মান হয় যে কনস্টেবল নাজমুল সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন। এক পর্যায়ে সিসি ফুটেজসহ তথ্য-প্রমাণ হাজির করা হলে তখন নাজমুল তদন্তকারীদের কাছে ঘটনার সব কিছু স্বীকার করেন। তখন পুলিশের কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

যে কারণে ভিন্ন মতাদর্শের মনে করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা: ২ বছর আগে নাজমুলকে গান-বাজনা নিয়ে ব্যাপক আনন্দ-ফুর্তি করতে দেখেছেন নাজমুলের সহকর্মীরা। এক বছর আগে তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নাজমুল দাড়ি বড় রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেছিলেন। আবেদনের ভিত্তিতে দাড়ি বড় রাখেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রটেকশন বিভাগে কাজ করার সময় গান-বাজনা বাদ দিয়ে নাজমুলের পুরো ভিন্নচিত্র দেখেন সহকর্মীরা। তার আচার-আচরণ হঠাৎ পরিবর্তনের পর তিনি অনেকের সঙ্গে কথা বার্তায়ও কমিয়ে দেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ‘১৯৯১ সালে জন্ম নাজমুল তারেকের। যশোরের একটি হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০১১ সালে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পান। আট মাস ধরে ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগে কাজ করছেন।’ শেরেবাংলা নগর থানাধীন আগারগাঁও জনতা হাউজিংয়ে বাসায় থাকেন তিনি।

 

যে কৌশলে শনাক্ত : তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার রাতে যখন এই ঘটনায় তোলপাড় চলছিল। হঠাৎ রাত দেড়টার দিকে পুলিশের একজন জানালো, পুলিশের যে ব্যক্তির ছবি সিসিটিভি ফুটেজ আছে তার নাম জাহাঙ্গীর। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রটেকশন বিভাগে কাজ করেন। পরে জাহাঙ্গীর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে নাজমুল তারেকের নাম। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথমে যখন পুলিশ প্রটেকশনের কথা বলা হয়েছিল, তখন এই নাজমুলকে শনাক্ত করার কাজ চলে। একপর্যায়ে তাকে শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার সোমবার রাতে বলেন, নাজমুল তারেককে প্রাথমিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরো জানান, বাদী চাইলে নাজমুল বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করতে পারবেন। তার বিরুদ্ধে আরো কোনো অভিযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে কনস্টেবল নাজমুলকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পক্ষে কিছু পোস্ট লক্ষ্য করা গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছে, যারা তার পক্ষে সাফাই গাইছেন, উস্কানিমূলক পোস্ট দিচ্ছেন তাদের বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম টিম ও কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

Comments

comments

Close