আজ: ২১শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ২:১৬
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থামছেই না ডায়রিয়ার প্রকোপ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থামছেই না ডায়রিয়ার প্রকোপ


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৩/০৪/২০২২ , ৭:১৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


ই এম আসাদুজ্জামান আসাদ:  হঠাৎ করে গরম বেড়ে যাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থামছেই না ডায়রিয়ার প্রকোপ, বলছে জেলার স্বাস্থ্যবিভাগ। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এত রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসছে যে, তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। সিট খালি না থাকায় প্রতিদিনই অনেক রোগী ফেরত যাচ্ছেন।
তবে, ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন মজুদ রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১৩৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।  রোববার সকালে নতুন আরও ১৫ রোগী ভর্তি হয়েছেন। সে হিসাবে শুধু জেলা সদর হাসপাতালেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৫২ জন ভর্তি রয়েছেন। ২০ মার্চের পর থেকে জেলায় বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা আছে ২০টি। রোববার বিকেল পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে ১২৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। ২০ মার্চ ৮০ জন, ২১ মার্চ ৭২ জন, ২২ মার্চ ৭৮ জন, ২৩ মার্চ ৮২ জন, ২৪ মার্চ ৭০ জন, ২৫ মার্চ ৮৬ জন, ২৬ মার্চ ১১৩ জন ও রোববার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ১২৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই নারী। গত আট দিনে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও এর মেঝেতে ৭০৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসকেরা নিয়মিত না আসায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩২টি আসন থাকলেও রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মেঝেতে অবস্থান করেই নিতে হচ্ছে চিকিৎসা।

জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এখন রোগীদের উপচে পড়া ভিড়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন ডা. মো. একরামউল্লাহ বলেছেন, ‘জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে। এ পর্যন্ত ১৩৫ জনের মতো আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগী বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে চাপ বেড়েছে। চিকিৎসক, নার্সরা সাধ্যমত সেবা দিচ্ছেন। যেকোনো পরিস্থিতি তাঁরা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছেন।’

জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডায়রিয়া ও কলেরার স্যালাইন মজুদ আছে বলে জানান সিভিল সার্জন।

 

Comments

comments

Close