আজ: ২৭শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৮:৫৭
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ ইউএনওর হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল ১৫০০ বিঘা ইরি ধান

ইউএনওর হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল ১৫০০ বিঘা ইরি ধান


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৮/০৩/২০২২ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


সাইফুল ইসলাম ,শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আল নাসীফের হস্তক্ষেপে কৃষকদের ১৫০০ বিঘা ইরি ধান ক্ষতির মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছে।

প্রবাহমান খালের মুখ বন্ধ করে গাইড ওয়াল নির্মাণ করায় পানির অভাবে শত শত কৃষকের ধান নষ্ট হচ্ছে, এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ওই খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করেন ইউএনও। শুক্রবার (২৬ মার্চ) বিকেলে ভেদরগঞ্জ থেকে মহিষার ইউনিয়নের গৈডার পয়েন্টের খালের বাধ কাটেন।

সরেজমিন ঘুরে ও ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভেদরগঞ্জ থেকে মহিষার ইউনিয়নে প্রবাহমান একটি খালের মুখ বন্ধ করে রাস্তার গাইড ওয়াল নির্মাণ করছিল ভেদরগঞ্জ পৌরসভার এক ঠিকাদার। এতে করে পানির অভাবে পূর্ব মহিষার এলাকার ১৫০০ বিঘা ধান চাষের জমিতে সেচ বন্ধ হয়ে যায়। সেচের অভাব আর অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে মাটি ফেঁটে ধানের চারা মারা যাচ্ছিল। কৃষকরা বার বার ওই ঠিকাদার ও ভেদরগঞ্জ পৌর মেয়রকে জানালেও তার প্রতিকার হয়নি।

কৃষকদের অভিযোগ, ওই সময় কেউ তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। অবশেষে তারা ভেদরগঞ্জ ইউএনও অফিসে অভিযোগ দাখিল করলে ইউএনও তাৎক্ষণিক বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।

মহিষার ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কৃষক কালাম সরদার  বলেন, খেতের পানির জন্য আমরা হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কোনোদিকে কূল কিনারা না পেয়ে অবশেষে বিষয়টি নিয়ে আমরা ইউএনওর কাছে গিয়েছিলাম। পরে ইউএনও নিজে উপস্থিত থেকে ভেকুর মাধ্যমে খালের মুখ কেঁটে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে দেন।

ইরি ব্লক ম্যানাজার (কৃষক) শামসুদ্দিন বেপারী বলেন, যদি এ মুহূর্তে আমরা পানি না পেতাম, আমাদের শত শত একর জমির ধান গাছ মারা যেত। আমরা কয়েকশ কৃষক একেবারে নিঃস্ব হয়ে যেতাম। আমরা সবাই ইউএনওর কাছে কৃতজ্ঞ।

মজিবুর রহমান নামের আরেক কৃষক বলেন, যেভাবে তাপমাত্রা বাড়ছিল আর কয়েকটা দিন গেলেই আমাগো সব ফসল মারা যেত। ইউএনও নিজে এসে পানি প্রবাহ নিশ্চিত না করলে আমরা শেষ হয়ে যেতাম। আমাদের প্রত্যেকেরই অনেক টাকা করে ঋণ আছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম বলেন, এ সময় অতিরিক্ত তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানখেতে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। সেচের ব্যবস্থা করা না গেলে কৃষকদের ফসলের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হতো।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসীফ  বলেন, আসলে এটা নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই করা। কৃষকদের যাতে কষ্ট না হয় এবং সেচ কার্যে যেন কোনো প্রকার বাধা না থাকে সেই অনুযায়ী সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

Comments

comments

Close