আজ: ২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ১২:৩৯
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ হেফাজত তান্ডবের এক বছর, বিচার না হলে আবারও পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা

হেফাজত তান্ডবের এক বছর, বিচার না হলে আবারও পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৬/০৩/২০২২ , ১:৫২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ


ই এম আসাদুজ্জামান আসাদ :    ২০২১ সালের ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের আন্দোলনের নামে চলেছিল নারকীয় তান্ডব। জেলা শহর সহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, সরাইল উপজেলায়ও চলেছে এই তান্ডব। তবে এক বছর পার হতে চললেও এই ঘটনায় আজ অব্দি বিচার না হওয়া ও চিহ্নিতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় শঙ্কা কাটেনি সাধারণ মানুষের। হেফাজত ইসলাম তথা ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টিকারী সংগঠনগুলো আবার সংগঠিত হয়ে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছে অনেকেই।
 তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভবন ও এর মালিকানাধীন সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন নতুন করে গড়ার জন্য এরই মধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও। নাটক, নাচ, গান, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতি কর্মকাণ্ড পুরোদমে শুরু হয়েছে জেলায়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চর্চা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ছয় বছরের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় মোট এক হাজার ৩৯৭ জনকে। এর মধ্যে সর্বশেষ হামলায় ৫৬টি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৭৫৮ জনের মধ্যে মাত্র ১২০ জন জেলহাজতে আছেন। বাকিরা সবাই জামিনে মুক্ত। ২০১৬ সালের দুটি ঘটনায় দায়ের হওয়া ২৪টি মামলায় মোট এক হাজার আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন।
বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের হামলার কোনো ঘটনারই বিচার হয় না বলে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘যখন কোনো ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আন্দোলন হয় তখনই স্বাধীনতাবিরোধীরা এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে তাণ্ডব চালায়।’
হামলার ঘটনায় যদি বিচার না হয় তাহলে আবারও এর পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি বেশ কিছু সংগঠন হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধীদের ইন্ধনে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে ওই চক্রটি একটা মরণ কামড় দিবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মো. শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছরের হামলার ঘটনায় প্রতিটি মামলা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এসব মামলার অভিযোগ দেওয়া হবে।’ অন্যান্য মামলায় এরই মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

Comments

comments

Close