আজ: ২৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৮:৪১
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ দাম্পত্য ফিরে পেতে স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা

দাম্পত্য ফিরে পেতে স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২২/০৩/২০২২ , ৭:১৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ


ই এম আসাদুজ্জামান আসাদ:

চট্টগ্রামের ছেলে রানা ভালোবসে বিয়ে করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার রানী আক্তারকে। সুখেই কাটছিলো দিন, বিয়ের বছর ঘুরতেই রানা ও রানী দম্পত্তির কোল জোড়ে আসে ফুটফুটে ছেলে সন্তান। কিন্তু সন্তান জন্ম নেয়ার পর হঠাৎ বদলে যেতে শুরু করে রানী। গার্মেন্টস কর্মী রানার কাছে দিনদিন বাড়তে থাকে তার স্ত্রীর রানীর আর্থিক চাহিদা। এক সময় রানীর বাবা-মায়ের প্ররোচনায় বায়না ধরে মা-বোন ছেড়ে তাকে নিয়ে থাকতে হবে আলাদা ঘরে। এ নিয়ে শুরু হয় পারিবারিক কহল। আর এরমধ্যেই হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে রানী তার শিশু সন্তানকে নিয়ে চলে যায় বাবার বাড়ি। স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে রানা ফোন দেয় শ্বশুর-বাড়িতে । শ্বশুর-শাশুড়ী জানায় তার কাছে আর ফিরিয়ে দিবে না রানীকে, চাইলে সে তার সন্তানকে নিয়ে যেতে পারে। রানীর সাথে যোগাযোগ করলে রানী বলে, তাকে নিতে হলে দিতে হবে দামী শাড়ি, গয়না আর মানতে হবে তার সব শর্ত। অসহায় হয়ে রানা দারস্থ হোন একজন আইনজীবীর, শশুরের নামে পাঠান লিগ্যাল নোটিশ। লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পর শশুর রানা কে জানায় ১লক্ষ টাকা রানীর নামে ডিপোজিট করলে ফেরত পাঠাবেন মেয়ে, নয়ত অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দিবেন তার স্ত্রী রানীকে।
একসাথে এক লাখ টাকা ম্যানেজ করা অসম্ভব ব্যাপার তার জন্য। কিন্তু ফিরে পেতে চান স্ত্রী সন্তানকে আর তাই করেছেন স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা।
দাম্পত্য রক্ষার আকুতি জানিয়ে ঠিক এভাবেই নিজের দাম্পত্যজীবনের গল্প প্রতিবেদককে জানান রানা।

মামলার সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে মামলা করেছেন রানা। তিনি চট্রগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার একজন বাসিন্দা।
মামলার আরজিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের জুন মাসে দুই লক্ষ টাকা দেনমোহরে ভালোবেসে রানীকে বিয়ে করেন রানা। বিয়ের পর থেকে তাঁর শ্বশুর ও স্ত্রী নানা কৌশলে টাকার জন্য তাঁকে চাপ দিতে থাকেন। বিভিন্ন সময় তিনি টাকা দিয়েছেনও। গত ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। স্বামীর বাড়িতে আসার জন্য বলা হলে স্ত্রী টাকা দাবি করেন। পরে স্ত্রীকে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য নোটিশ দেন তিনি। গত ১১ নভেম্বর বাদীকে মুঠোফোনে তাঁর স্ত্রী বলেন, এক লাখ টাকা তাঁর (স্ত্রী) নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে হবে। না হলে তিনি স্বামীর বাড়ি আসবেন না। বিষয়টি নিয়ে শ্বশুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। শ্বশুরও তাঁকে একই কথা বলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রানী  জানান, মোবাইল ফোনে প্রেম করে নিজের ইচ্ছায় সব ছেড়ে রানার হাত ধরে গিয়েছিলাম নতুন সংসার এর আশায়। ২ লাখ টাকা কাবিনে বিয়েও করেছিলাম নিজের ইচ্ছায়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতেই বিয়ের আগে রানার বলা অনেক কথা আমার কাছে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। রানা বলেছিল তার নিজের বাড়ি আছে, ভালো চাকরি করে কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই নেই। তবু সংসার করে যাচ্ছিলাম ভালবাসার মানুষের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু আমার কোল জুড়ে যখন আমার সন্তান আসে তখনও কোন কাজ করেনা রানা। নেশা করে আমাকে অত্যাচার করা শুরু করে। তাই তার সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে আসি এবং গত ৮মাস ধরে এখানেই আছি।
তার সাথে আর সংসার করবেন কিনা প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে রানী বলেন, সে যদি এখন আমার নামে দুই শতক জমি কিনে দেয় এবং আগের কাবিন বাদ দিয়ে নতুন করে ৫ লাখ টাকা কবিন দিয়ে বিয়ে করে তবেই তার সংসারে ফিরে যাব আমি।

রানীর বাবা মোঃ আল-আমিন মিয়া জানান, রানা মিথ্যা কথা বলে ফুসলিয়ে আমার মেয়েকে নিয়ে বিয়ে করে। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছিলাম কিন্তু রানার পরিবারের মানুষ ভালো না, তারা আমার মেয়ের উপর অত্যাচার করে। তাছাড়া তাদের সামাজিক এবং আর্থিক অবস্থা দেখে আমার মেয়ে নিজেই চলে এসেছে। এখন আমার মেয়ে যা বলে তাই হবে। আমার কোন মতামত নেই।

Comments

comments

Close