আজ: ২৭শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৮:৩৩
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, রাজনীতি উপজেলা বিএনপির সম্পাদককে পেটালেন যুবদল কর্মীরা

উপজেলা বিএনপির সম্পাদককে পেটালেন যুবদল কর্মীরা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২২/০৩/২০২২ , ৬:৪৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,রাজনীতি


নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. টিএম মাহবুবর রহমানকে বেধড়ক মারপিট করেছে যুবদল কর্মীরা।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতির আলোচনার করতে মাহবুবরকে ডেকে নেয় জেলা নেতৃবৃন্দ। এসময় কার্যালয়ের মেইন গেটে তালা দিয়ে মারপিট করে।

জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মহাসচিবের ছোট ভাই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিনের মাঝে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

মহাসচিবের ছোট ভাই মির্জা ফয়সালের সাথে বাকবিতণ্ডার জেরেই বেধড়ক মারপিট ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. মাহবুব।

তিনি বলেন, সেখানে সম্মেলনের সকল আলোচনা শেষে দলের নেতারা চলে যাওয়া শুরু করলে আমাকে কৌশলে (কথা আছে বলে) আবার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। ভেতরে ঢোকার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবদলের নেতা জাহিদসহ আরো কিছু যুবদল কর্মী গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে আমাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। সে সময় সেখানে মির্জা ফয়সল আমিন উপস্থিত ছিলেন এবং আমাকে মার খেতে দেখে মুচকি হাসছিলেন।

এক পর্যায়ে ড. মাহবুবের চিৎকারে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলম, সহ সভাপতি ওবাইদুল্লাহ মাসুদ, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ‌্যাড. সৈয়দ আলম তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন সকালে তাকে বালিয়াডাঙ্গীস্থ নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ড. মাহবুব অভিযোগ করে বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিনের নির্দেশেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। এসময় মুখচেনা কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তারাও উৎসাহ যুগিয়েছে।

ঘটনার দায় সরাসরি অস্বীকার করে অভিযুক্ত মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, আমি ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। এসবের কিছুই জানি না। পরে শুনেছি।

তবে ঘটনার সময় মির্জা ফয়সালের উপস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে প্রত্যক্ষদর্শী জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ওবাইদুল্লাহ মাসুদ জানান, যেহেতু সেখানে একটা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো সেসময় জেলা বিএনপির নেতা মোহাম্মদ আলম, সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, আনছারুল হক ও জাফরুল্লাহসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ঠাকুরগাঁও যুবদলের সভাপতি আবুনুর বলেন, ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। ঘটনা ঘটেছে এটা জেনেছি। তবে কে বা কারা ঘটিয়েছে তা ঠিক জানি না। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি আনছারুল হক বলেন, নিজ দলীয় কার্যালয়টিতে যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে কোথায় আমরা নিরাপদ?

জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলম বলেন, যখন প্রচণ্ড মারপিট হচ্ছিল আমি দৌড়ে গিয়ে তাকে বাঁচিয়েছি। মাহবুবের গায়ের রক্তে আমার পাঞ্জাবি ভিজে গিয়েছিল। তাকে মেরে ফেলার মতো পরিস্থিতি আমি দেখেছি।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাফরুল্লাহ জানান, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দলের মহাসচিব বিষয়টি জেনেছেন। তিনি শক্তহাতে বিষয়টি দেখবেন বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁও জেলার বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান বলেন, এটি মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর। যুবদলের নেতাকর্মীরা মূল দলের নেতার গায়ে হাত দেয় কীভাবে। তাও নিজ দলীয় কার্যালয়ে। কাজটি মোটেও ঠিক হয়নি। এমন ঘটনার জন্য দল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Comments

comments

Close