আজ: ২৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৮:০৪
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ বন্যহাতির আক্রমণে আহত যুবক ময়মনসিংহ হাসপাতালে কাতরাচ্ছে

বন্যহাতির আক্রমণে আহত যুবক ময়মনসিংহ হাসপাতালে কাতরাচ্ছে


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২০/০৩/২০২২ , ১১:৪৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


মনিরুজ্জামান মনির, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : 

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে গত ১৫ দিন থেকে বন বিভাগের সামাজিক বন ও লোকালয়ে খাদ‍্যের জন‍্য হানা দিচ্ছে বন্যহাতির পাল। পা মাড়িয়ে ও খেয়ে সাবাড় করছে বোরো ফসলের মাঠ। বিনষ্ট করছে গাছপালা। হাতির আক্রমণে আহত হয়েছে এক যুবক।
সূত্রমতে, গত দুই সপ্তাহ যাবত শাবকসহ ২২-২৫টি বন্যহাতির একটি পাল নালিতাবাড়ী উপজেলার দাওধারা-কাটাবাড়ি এলাকার পাহাড়ে অবস্থান করছে। একটি নির্দিষ্ট সময় হাতির দলটি পাহাড়ের গহীন জঙ্গলে থাকলেও দিন এবং রাতের বেশিরভাগ সময় বন বিভাগের সামাজিক বন ও পাহাড়ি টিলার মাঝখানে থাকা বোরো ধানের ক্ষেতে হানা দিয়ে চলেছে। এতে করে সামাজিক বনের গাছপালা বিনষ্টসহ বোরো ধান ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যাচ্ছে। আগে বন্যহাতি তাড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা নানা পদ্ধতি অবলম্বন করলেও সম্প্রতি সরকারের কড়াকড়ির কারণে সেসব পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারছে না ভুক্তভোগীরা। দিনে হইচই এবং রাতের বেলায় পটকা ফুটিয়ে ও টর্চ লাইট জ্বালিয়ে চেষ্টা করছে ফসল রক্ষার। হাতি হত্যা বা আক্রমণে সরকারের কঠোরতার কারণে এখন আর কেউ বৈদ্যুতিক বেড়া বা আক্রমণাত্মক কোন পদ্ধতি অনুসরণ করছে না। উপরন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী হাতিকে উত্যক্ত করা থেকে বিরত রাখতে পাহাড়া বসিয়েছেন।
এদিকে দৈনিক দিনের বেলায় প্রকাশ্যে হাতির দলটি খাদ্যের সন্ধানে বেড়িয়ে আসায় কাজ ফেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাতি পাহাড়াই যেন এখন সীমান্তবাসীর নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। শনিবার দুপুরে দাওধারা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মানসিক প্রতিবন্ধি ছেলে হযরত আলী (২২) বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পাহাড়ের গহীনে গেলে খাদ্যের সন্ধানে নেমে আসা বন্যহাতি তার উপর আক্রমণ চালায়। শুঁড় দিয়ে পেচিয়ে এবং পা  দিয়ে পিষে গুরুতর জখম করে। এসময় হযরত আলী ও হাতির চিৎকারে  পাহাড়ে গরু চড়াতে যাওয়া সৈয়দ আলী ও মোখলেছসহ অন্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। আহতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় মধুটিলা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, আমরা ইতিমধ্যেই আহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। আবেদন সাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী আহত ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, হাতি-মানুষ সহাবস্থানে রাখতে আমরা দিনরাত কাজ করছি। ইতিমধ্যেই কিছু সফলতা পাওয়া গেছে। বন্যহাতি দ্বারা যে কেউ যে কোন ধরণের ক্ষতির শিকার হলে সরকারীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

Comments

comments

Close