আজ: ২৭শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৯:৫৩
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ময়মনসিংহ বিভাগ নালিতাবাড়ী সীমান্তে আতংকে দিন কাটাচ্ছে চাষীরা

নালিতাবাড়ী সীমান্তে আতংকে দিন কাটাচ্ছে চাষীরা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৩/০৩/২০২২ , ৯:১৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ,ময়মনসিংহ বিভাগ


মনিরুজ্জামান মনির শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের সীমান্তর্তী নাকুগাঁও গ্রামে বন্যহাতির আক্রমণে গত কয়েক দিনে ওই এলাকার ৮ জন প্রান্তিক কৃষকের সাড়ে ৩ একর বোরো ফসল হাতির পাল আংশিক খেয়ে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিয়েছে। বাকি ফসল রক্ষায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। বর্তমানে ৪০-৪৫টি ছোট-বড় হাতির দলটি নাকুগাঁও ও ভারত সীমান্তের বানেরটিলায় অবস্থান করছে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও গ্রামে পাহাড়ী ঢালুতে প্রায় শতাধিক কৃষক ১৫০ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ ৪০-৪৫টি বন্যহাতির পাল নাকুগাঁও বানেরটিলা চলে আসে। পরে ২০-২৫টি হাতি নাকুগাঁও গ্রামের ফসলি জমিতে নেমে পড়ে। এ সময় নাকুগাঁও গ্রাামের ইদ্রিস আলীর ৪০, আব্দুল খালেকের ৩০, ফুলেমা চিসিমের ৫০, সাগর মারাকের ৪০, আলিম উদ্দিনের ৩০, প্রণব চিসিমের ৫০, দুলু মিয়ার ৩০ ও তোতা মিয়ার ৪০ শতক আবাদি জমির বোর ফসল খেয়ে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে ফেলেছে।
হাতির পালটি নাকুগাঁওয়ের বানেরটিলায় সীমান্তবর্তী ১১১৫ নং পিলারের কাছে অবস্থান করায় স্থানীয় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় সময় পাড়ি দিচ্ছেন। গ্রামবাসী হাতি তাড়াতে বন বিভাগ ও সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, আমি নাকুগাঁও স্থলবন্দরে শ্রমিকের কাজ করি। ‍ বাবা-মাসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে হয়। ১৬ হাজার টাকা খরচ করে ১ একর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। ক’দিন আগে সন্ধ্যায় বন্যহাতির দলটি ক্ষেতে নেমে আমার ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। বাকি ফসল রক্ষা না করতে পারলে আমাদের বিরাট ক্ষতি হবে।
প্রান্তিক কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঋণ কইরা ১০ কাডা (৫০ শতক) জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। হঠাৎ কইরা হাতির পাল খেতে নাইমা পইড়া ২ কাডা জমি খাইয়া আর পাও(পা) দিয়া ফসল মাডির (মাটির) লগে মিশাইয়া ফালাইছে। গ্রামবাসী সবাই হইচই কইরা ক্ষেত থাইকা হাতি সড়ানো অইছে। অহন রাইত জাইগা সবাই হাতি পাহাড়া দিতাছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ১০০ একর জমির ফসল নিয়ে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। হাতি প্রতিরোধে লাইট ও মশাল জ্বালাতে তেল প্রয়োজন। ফসল রক্ষায় এলাকাবাসী রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন।
নয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, হাতির আক্রমণে কৃষকদের ফসল আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল রক্ষায় হাতি তাড়াতে মশাল জ্বালাতে তেল কিনতে কিছু অর্থ দেয়া হয়েছে। প্রতিরাতে হাতি তাড়াতে গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, কয়েকদিন থেকে ৪০-৪৫টি বন্যহাতির দল নাকুগাঁও বানেরটিলায় অবস্থান করছে। সন্ধ্যার পর পর হাতির দলটি কয়েকটি দলে বিভিক্ত হয়ে ক্ষেতে নেমে পড়ে ফসলি জমি পা দিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে বলেছি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বন‍্যহাতির দলটি পাহাড়ে অবস্থান করছে বলে জানাগেছে।

Comments

comments

Close