আজ: ২৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৯:০৩
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ মিঠাপুকুরে মসজিদের জায়গা দখলের অভিযোগ

মিঠাপুকুরে মসজিদের জায়গা দখলের অভিযোগ


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১২/০৩/২০২২ , ১১:৫৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


মেহেদী হাসান রিপুল,মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রায় ২’শ বছরের পূরনো একটি মসজিদের জায়গা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এতে করে ওই এলাকায় যে কোন সময় অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটার আশংকা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।

সুত্রে জানা গেছে, এলাকাটির রাজা ছিলেন তৎকালীন পালিচড়ার জমিদার সুবাসিনি দেবী। তিনি বাতাসন গ্রামের জোয়ারদার সুজা উদ্দিন ও মফিজ উদ্দিনের মাধ্যমে উপজেলার তাজনগর জামে মসজিদ ঘরের নামে ৫ শতাংশ জমি দান করেন। এরই সুত্র ধরে মসজিদের নামে ৪০ ও ৬২ সালে ভূমি রেকর্ডভুক্ত হয়। কিন্তু উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের তাজনগর জোতপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলীর ৩ ছেলে হায়দার আলী (৬০), বাবু মিয়া (৭০) ও আলমগীর হোসেন (৫৫) অপকৌশলে নিজেদের নামে ৯২ সালের রেকর্ডে মসজিদের ৩ শতক জমি তাদের নিজের জমির সাথে নকশা করে নেন। আর নকশা করে নেওয়ার কারণে মসজিদের ৫ শতক জমির মধ্যে ৩৮৫ নাম্বার নকশামতে বর্তমানে মসজিদের মাত্র ২ শতকেরও কম জমি রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২শ বছরের পুরনো মসজিদটির কোন সীমানা প্রাচীর নেই। মসজিদের পাশেই বাবু মিয়া, ইয়াছিন ও আলমগীর হোসেনের বসতবাড়ি রয়েছে। বসতবাড়ি থাকার সুবাদে তারা মসজিদ ঘরের সাথে খড়ের স্তুপ করে রেখেছেন। মসজিদের উত্তর ও পশ্চিম দিকে চলাচলের রাস্তা ও পূর্ব এবং দক্ষিন দিকে ফাঁকা রয়েছে। এছাড়াও পুরনো মসজিদের সাথেই পশ্চিমদিকে রাস্তার সাথেই দোতলা বিশিষ্ট আরেকটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন নতুন মসজিদের একতলার কাজ প্রায় শেষের দিকে। স্থানীয় মুসল্লিদের নতুন মসজিদেই নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাতেন মিয়া বলেন, সময়ের পরিক্রমায় পুরাতন মসজিদে নামাজ পড়ার জায়গা সংকুলান হওয়ায় মসজিদটি দ্বিতল করার সিদ্ধান্ত  নেয় এলাকাবাসী। মসজিদটি দোতলা করার জন্য জায়গা নির্ধরণে সার্ভেয়ার নিয়ে আসলে বাবু মিয়া ও তার দুই ভাই এতে বাঁধার সৃষ্টি করে মসজিদ নির্মাণ কাজ বন্ধের পায়তারা শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা জানতে পারেন তারা আসাদুল ইসলামের সহায়তায় মসজিদের ৫ শতক জমির মধ্যে ৩ শতক জমি নিজের জমির সাথে নকশা করে নিয়েছেন। এতে করে ধর্মপ্রাণ গ্রামবাসী আলোচনায় বসলে ৪ জন দাতা পুরাতন মসজিদের পাশে আরও সাড়ে সতেরো শতক জমি দান করেন। দানকৃত নতুন জায়গায় সকলের সহযোগিতায় মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। যার প্রথম তলার নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ স¤পাদক মশিয়ার রহমান বলেন, তাজনগর জামে মসজিদের নামে ৫৯ শতক কৃষি জমি রয়েছে। যা বর্তমানে মসজিদের মুয়াজ্জিন আতিয়ার রহমান আবাদ করেন। মসজিদ কমিটির সিন্ধান্তক্রমে সেই জমির আবাদি ফসল মুয়াাজ্জিনকে বেতন বাবদ প্রদান করা হয়। কিন্তু সেই কৃষি জমি দখলে নেয়ার অপকৌশল শুরু করেছেন পার্শ্ববর্তী হরনারায়নপুর গ্রামের মৃত. আসাব উদ্দিনের ছেলে আসাদ আলী (৭৫)। তিনি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিজেকে মসজিদ কমিটির সভাপতি দাবি করছেন। সে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছে। তার এমন কর্মকান্ডে স্থানীয় মুসল্লীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

আসাদ আলী বলেন, এখানে নুতন ও পুরাতন দুটি মসজিদ রয়েছে। পুরাতন মসজিদের নামে কিছু চাষাবাদের জমি রয়েছে। সেই চাষাবাদের অর্থ মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় হবে কিন্তু নতুন মসজিদ কমিটির লোকজন সেটি করছে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি। পুরাতন মসজিদটির এখন কি হবে এজন্য আমরা কয়েকজন এই পুরাতন মসজিদ দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়েছি।

মসজিদের জায়গা দখলে নেয়ার অভিযুক্ত বাবু মিয়া বলেন, মসজিদের সাথে আমাদের বসতবাড়ি। বাপদাদার আমল থেকে আমরা এখানেই বসবাস করে আসছি। কাগজপত্র মুলে আমরা আমাদের জমিতে বসবাস করছি। এখানে মসজিদের জায়গা নেই। আমাদের জমির সাথে মসজিদের জমি নকশাভুক্ত হয়ে থাকলে সেটা প্রশাসন দেখবে। অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

মসজিদ কমিটির সভাপতি হেলাল মিয়া বলেন, আমাদের গ্রামের মুসুল্লীদের নামাজ পড়ার জায়গা সংকুলান হওয়ার কারনে পুরাতন মসজিদের পাশেই নুতুন মসজিদের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সকলের মতামতের ভিত্তিতে পুরাতন মসজিদটির পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে সেখানে ইসলামী শিক্ষা কার্যক্রম চলামান রয়েছে। এছাড়াও সেখানে নুরানি মাদ্রাশা অথবা মোক্তব করার বিষয়ে আলোচনা চলছে যাতে জায়গাটি পবিত্র থাকে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি চক্রান্ত করে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করছে যা দুঃখজনক। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় মসজিদের জায়গা উদ্ধারসহ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের শান্তি রক্ষায় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা মিঠাপুকুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন বলেন, মসজিদের জায়গা নিয়ে যে সমস্যা সেটি সমাধানে উভয়পক্ষকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করে উভয় পক্ষকেই বৈধতা নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। ওই এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য উভয় পক্ষকেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Comments

comments

Close