আজ: ২১শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ১:৩০
সর্বশেষ সংবাদ
আইন ও বিচার, জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ পূবাইলে অটোচালক রবিউল হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করল পিবিআই

পূবাইলে অটোচালক রবিউল হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করল পিবিআই


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/০৩/২০২২ , ৮:৪৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আইন ও বিচার,জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ


মোঃ নুরুজ্জামান শেখ, গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি:

২০১৯ সালে পূবাইলে অটোচালক রবিউল হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর। গ্রেপ্তার আসামির নাম মো. স্বপন (২৮)। বুধবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত তিনটার সময় টঙ্গী-পূর্ব থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। স্বপন পূবাইল থানা এলাকার রহিম মাস্টারের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

মামলার বাদী মরিয়ম বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, তার স্বামী অর্থাৎ মামলার ভিকটিম একজন অটোচালক ছিলেন। ভিকটিম প্রতিদিনের ন্যায় ২০১৯ সারের ২৪ মার্চ বিকেল ৩টা ৩০মিনিটের সময় অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হন। ওই দিন রাত ৯টার সময় বাজার নিয়ে বাসায় এসে পুনরায় অটো চালাতে বের হয়ে যান।

বাদী আরও জানান, রাত ১২টার সময় তাদের প্রতিবেশী মাহবুব জানান, বাদীর স্বামীকে ফোন দিলে অন্যলোক ফোন রিসিভ করে এবং বাদীর ছেলে মো. জনি তার বাবার মোবাইলে ফোন দেওয়ার পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করে বলে তোমার বাবাকে খাওয়াইছি। তোমার বাবাকে নিয়ে যাও। তখন তার বাবা কোথায় আছে জানতে চাইলে বলে যে, মিরের বাজার হতে উলুখোলা আসার পথে হাতের বাম পাশে। সংবাদ পাওয়ার পর বাদী তার ছেলে এবং আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে খোঁজাখুঁজি করার পর না পেয়ে ফেরত আসে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টার সময় রাকিব নামক এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে বাদীকে জানান, পূবাইল বিন্দান এলাকায় খালের পানিতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পূবাইল থানা পুলিশ উদ্ধার করে। এই সংবাদ পাওয়ার পর বাদী পূবাইল থানায় এসে তার স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করে।

উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে পূবাইল থানার মামলায় ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মামলা করেন।

মামলাটি পূবাইল থানা পুলিশ প্রায় ৫ মাস তদন্ত করে রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে না পারায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকার নির্দেশে মামলাটি তদন্তভার পিবিআই গাজীপুর জেলার ওপর অর্পণ করা হয়।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, মোহাম্মদ মাকছুদের রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনিরুজ্জামান মামলাটি তদন্ত করেন।

গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ১৯ সালের ২৪ মার্চ রাত ৯টা ৩০ মিনিটে গ্রেপ্তার আসামি মো. স্বপনকে তার সহযোগী আসামিগণ মোবাইলে ফোন দিয়ে পূবাইলে মিরের বাজার যেতে বলে। এরপর গ্রেপ্তার আসামি স্বপন মিরের বাজার পৌঁছানোর পর তার সহযোগী আসামিদের সঙ্গে দেখা হয় এবং তারা একত্রে পূবাইলে মিরের বাজার একটি হোটেলে চা নাস্তা খায়। পরবর্তীতে ভিকটিম অটো নিয়ে আসামিদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা ভিকটিমের অটোটি ভাড়া করেন। ভিকটিমের দুই পাশে দুই জন ও পিছনে তিন জন বসে। এরপর আসামিরা ভিকটিমের অটো ভাড়া করে মিরের বাজার থেকে উলুখোলার দিকে যাওয়ার পথে কিছুদূর যাওয়ার পর একটি দোকানের পাশে অটোরিকশা থামিয়ে জুস কিনে তারা নিজেরা খায়। ভিকটিমকে কৌশলে জুসের সঙ্গে অজ্ঞান করার ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়। পরবর্তীতে ওখান থেকে আরও কিছুদূর যাওয়ার পর ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়লে আসামিদের মধ্য থেকে একজন অটোচালকের আসনে ভিকটিমকে পাশে বসিয়ে অটো চালাতে থাকে। এরপর কিছুদূর যাওয়ার পর নির্জন স্থান পেয়ে অজ্ঞান অবস্থায় ভিকটিমকে ডোবার মধ্যে ফেলে দিয়ে অটো নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনার দিনই ওই অটো বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পিবিআই এর পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, মামলার গ্রেপ্তার আসামি তার সহযোগীদের নিয়ে অটোরিকশার ড্রাইভার ভিকটিম রবিউলকে জুসের সঙ্গে নেশা জাতীয় ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায় এবং উক্ত জুস খাওয়ানোর পর অজ্ঞান অবস্থায় মিরের বাজার টু গাউছিয়া রোডের বাম পাশে বিন্দান নামক স্থানে জহিরুলের দোকানে পিছনে কচুরি পানার মধ্যে ডোবার পানিতে অটোরিকশার চালক রবিউলকে ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে চলে যায়। আসামিরা অটোরিকশা নিয়ে বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়। আসামি মো. স্বপনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামি নিজেকে জড়িয়ে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের নাম উল্লেখ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

Comments

comments

Close