আজ: ২৪শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৬:২৭
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ জৌলুস হারিয়েছে রংপুর চিড়িয়াখানা

জৌলুস হারিয়েছে রংপুর চিড়িয়াখানা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/০৩/২০২২ , ৯:৪০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ


মোঃ সাকিব চৌধুরী, রংপুর মহানগর প্রতিনিধিঃ

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ একমাত্র চিড়িয়াখানা রংপুরের অবস্থা এতটাই নাজুক এর অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার পশুদের পর্যাপ্ত সরবরাহ না করা চিকিৎসার নামে চরম দায়িত্বহীনতাসহ নানান অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

বাঘ ছিল না চিড়িয়াখানায় ছিল একটি বৃদ্ধ বাঘিনী সেটাও মারা গেছে। একটি মাত্র সিংহ রয়েছে তার আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। জলহস্তি ৩টি ছিল তার একটি মারা গেছে। অনেক প্রাণীর সঙ্গী নেই ফলে প্রজনন হচ্ছে না চিড়িয়াখানায় থাকা পশু-প্রাণীদের। চিড়িয়াখানার অনেক খাঁচা প্রাণী শূন্য, ফলে এক সময়ের বহুল আলোচিত চিড়িয়াখানাটি তার জৌলুস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শকের কোলাহলে মুখরিত চিড়িয়াখানাটি দর্শকশূন্য হয়ে পড়ছে।

দর্শকশূন্য চিড়িয়াখানা

সরেজমিন পরপর দু’দিন রংপুর চিড়িয়াখানা ঘুরে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দর্শনার্থী এবং কর্তব্যরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ভয়াবহ তথ্য। চিড়িয়াখানার মূল আকর্ষণ ছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এখানকার পরিবেশ বাঘ প্রজননের অনুপযোগী হওয়ায় ’৯০ দশকে প্রতিষ্ঠিত চিড়িখানায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার ২২টিরও বেশি বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। এখান থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ঢাকা মিরপুর চিড়িয়াখনায় বেশ কয়েকবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ রংপুর চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়া রয়েল বেঙ্গল টাইগার কুয়েতের আমিরকে শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে উপহার দিয়েছেন। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখভালের অভাবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমতে শুরু করে। বেশ কয়েকটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে বলে দায়িত্বরত কর্মচারীরা স্বীকার করেন। বেশ কিছুদিন আগে একটি সিংহ তার সঙ্গী মারা যাবার পর একাকী জীবন-যাপন করে আসছে। বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও এখানে সিংহের সঙ্গী দেয়া হয়নি। এদিকে বর্তমানে যে সিংহী আছে তার বয়স ১৮ বছর পার হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন সর্বোচ্চ ১৬ থেকে ১৮ বছরের বেশি বাঁচে না সিংহী যেকোন সময় মারা যেতে পারে আশঙ্কা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের।

১৯৯১ সালে রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকায় ২২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত রংপুর চিড়িয়াখানা ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানার পরে দেশের একমাত্র সরকারি চিড়িয়াখানা। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, ভাল্লুক, জলহস্তি, ডোরাকাটা হায়না, ওয়াটার বাক, হরিণসহ বেশ কিছু বিরল প্রজাতির প্রাণী ছিল। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার গত ১৭ বছরে ২২টি বাচ্চা এবং সিংহ দম্পতি ৬টি বাচ্চা প্রসব করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এসব প্রাণীদের বসবাসযোগ্য কোন ঘর তৈরি করা হয়নি। ছোট্ট খাঁচায় কোন রকমে তারা অমানবিকভাবে বাস করছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা আর দুর্নীতি ও অব্যবস্থার কারণে বাঘ-সিংহসহ অর্ধশতাধিক প্রাণী মারা গছে। অন্যদিকে বখাটেদের উৎপাত, চিড়িয়াখানার প্রাণীদের বেহাল দশাসহ নানান কারণে দর্শনার্থী সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। রংপুর সরকারি বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানা দিন দিন প্রাণী শূন্য হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা, দুর্নীতি দায়িত্বহীনতাসহ বিভিন্ন কারণে ইতোমধ্যে সিংহ, রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অনেক দূর্লভ প্রাণী মারা গেছে।

দিনাজপুর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে রংপুর চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসা আলেমা ছিদ্দিক দম্পতি চরম হতাশা প্রকাশ করে বললেন এখন এখানে কোন পরিবেশ নেই। চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাঘের খাঁচায় বাঘ নেই। একমাত্র সিংহটির জীবন প্রদীপ নিভু নিভু। পশু-পাখিদের খাঁচাগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। নগরীর আলমনগর এলাকার বাসিন্দা জমসেদ আলী জানান পশু-প্রাণীদের পর্যাপ্ত খাবার দেয়া হয় বলে মনে হয় না কারণ তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়। চিড়িয়াখানায় দীর্ঘদিনেও সার্বক্ষণিক পশু চিকিৎসক নেই। গাইবান্ধা থেকে বেড়াতে আসা মাহিন বাঘের খাঁচা শূন্য কেন? বাঘ মামাকে দেখছি না কেন?। এভাবেই বিভিন্ন জেলা থেকে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। তবে একটি শিশু পার্ক তৈরি করা হয়েছে সেটা কিছুটা হলেও শিশুদের বিনোদন দিচ্ছে বলে জানায় তাদের স্বজনরা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে রংপুর চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর আম্বার আলী তালুকদার স্বীকার করেন একমাত্র বাঘটি সঙ্গীর অভাবে মারা গেছে। সিংহটিও একা কাটাচ্ছে। তিনি বলেন অচিরেই দুটি বাঘ ও দুটি সিংহ ও দুটো জেব্রা আসছে। চিড়িয়াখানার যাবতীয় সমস্যা সমাধানের উদ্যেগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Comments

comments

Close