আজ: ২১শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ২:৩৫
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ গৃহহীন আকবর আলীর ভাগ্যে জুটেনি একটি সরকারি ঘর

গৃহহীন আকবর আলীর ভাগ্যে জুটেনি একটি সরকারি ঘর


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/০৩/২০২২ , ৮:৪৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ


মনিরুজ্জামান মনির ,শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গৃহহীন আকবর আলীর ভাগ্যে জুটেনি একটি সরকারি ঘর। আকবর আলী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই গ্রামের মৃত মান্দু শেখের ছেলে। পেশায় একজন দিনমজুর। শারীরিক অক্ষমতায় এখন তিনি কর্মহীন। সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই তার। নেই মাথাগুজার কোন ঠাই। ষাটোর্ধ্ব আকবর আলী নানান অসুখ বিসুখের কারণে কোন কাজকর্ম ও হাটাচলাও তেমন করতে পারেন না। আকবর আলীর এক ছেলে বিয়ে সাদি করে ঢাকায় থাকে।

তার সংসার চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। বাবা-মায়ের ভরন পোষণ যোগাবে কি দিয়ে। আকবর আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে। এতে যা পায় তাই দিয়ে স্বামী-স্ত্রী কোনরকমে চলে তাদের সংসার। একদিন কাজে যেতে না পারলে সেদিন প্রতিবেশিদের দয়ার উপর নির্ভর করতে হয়। অথবা খেয়ে না খেয়ে অনাহারে অর্ধাহারে কাটে তাদের দিন। মাথাগুজার ঠাই না থাকায় গ্রামের লোকজন কয়েক ফর্দ পুরোনো ডেউটিন দিয়ে ছোট্ট একটি চালা ঘর করে দেন অন্যের বাড়িতে।

ঘরটিও বসবাসের অনুপযোগী। আকবর আলী জানান, গত প্রায় ১০ বছরে উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটি সরকারি ঘর চেয়ে বহুবার আবেদন নিবেদন করেছেন তিনি। কিন্তু কোন কাজে আসেনি। ১০ টাকা কেজি দরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একটি কার্ড ছাড়া আকবর আলীর ভাগ্যে জুটেনি কোন সরকারী সাহায্য সহযোগিতা। বর্তমানে আকবর আলী তার স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন।

আকবর আলী নিজেও জানেন না মৃত্যুর পুর্বে তার ভাগ্যে জুটবে কি না একটি সরকারি ঘর অথবা সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা। আকবর আলী আরো জানান, প্রতিবছর গুচ্ছ গ্রামে বহু
গৃহহীনদের ঘর দেয়া হচ্ছে। গত ১০ বছর ধরে প্রতি বছরই একটি সরকারি ঘর চেয়ে আবেদন নিবেদন করে আসছি। এবছরেও তিনি নতুন করে আবার ও একটি ঘরের জন্য উপজেলা জন্য আবেদন করেছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন এবারও তার ভাগ্যে জুটবে কি? একটি সরকারি ঘর। তার নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রুকুনুজ্জামান বলেন তিনি সবে মাত্র দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাকে পুনর্বাসনের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আল মাসুদ বলেন পরবর্তীতে ঘর বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাকে পুনর্বাসনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments

Close