আজ: ২৪শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, ভোর ৫:২০
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ, বরিশাল বিভাগ বাউফলে বেতন পাচ্ছেন না ২৩৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী

বাউফলে বেতন পাচ্ছেন না ২৩৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৯/০৩/২০২২ , ৭:১৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ,বরিশাল বিভাগ


জহিরুল ইসলাম:

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় মাসিক বেতন পাচ্ছেন না ২৩৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। ফলে বিপাকে পড়েছে ১ হাজার ২শ ৭৫ জন শিক্ষক ও ৭৬ জন কর্মচারীরা। শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে শিক্ষকরা মাসিক বেতন ভাতা ব্যাংক থেকে তুলতে পারছেন না। এতে বিরাম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বদলী হলে পদটি শূণ্য হয়ে যায়। পরে পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের  সিনিয়র সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীস ঘোষকে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেন। কিন্তু তাকে আর্থিক কোন দায়িত্ব দেয়নি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। আর্থিক দায়িত্ব না দেওয়ায় আটকে যায় উপজেলার ২৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ হাজার ২শ ৭৫ জন শিক্ষক ও ৭৬জন কর্মচারীর বেতন ভাতা।

সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকরা সাধারণত মাসের বেতন ২ তারিখের মধ্যে ইলেট্রনিকফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এর মাধ্যমে শিক্ষদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একাউন্ডে জমা হয়। এরপড় তারা তাদের নিজস্ব এ্যাকাউন্ট থেকে বেতন ভাতা তুলে পরিবার পরিজন নিয়ে চলে। কিন্তু গত ফেব্রয়ারি মাসের বেতন ভাতা চলমান মার্চ মাসের ৮ তারিখেও না পাওয়ায় নানা সমস্যার পড়তে হচ্ছে শিক্ষকদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক জানান, তার কন্যা এইচএসসিতে গোল্ডন জিপি-৫ পেয়ে উর্ত্তীণ হয়েছে। সে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে পড়ছে, যথা সময়ে বেতন ভাতা না পাওয়ায় মেয়েটির বাসাভাড়া, পড়াশুনার খরচসহ নানবিধ সমস্যার সম্মুক্ষিন হচ্ছে।

লাইজু আক্তার নামে এক শিক্ষক বলেন, পরিবারে একমাত্র আয়ের অবল্বন তিনি। তার মাসের বেতনের উপর নির্ভর করে পুরো পরিবারটা। মাসের ৮দিন চলে গেলেও বেতন ভাতা না হওয়ায় ধারকর্য করে চলতে হচ্ছে।

মাহবুব আলম নামে এক নৈশপ্রহরী কাম পিওন জানান, মাসিক বেতন ভাতা দিয়ে তার সংসার চলে। প্রতি মাসে স্থানীয় একটি মুদি-মনোহরি দোকান বাকীতে সদাই  নিয়ে থাকেন। ওই বাকি টাকা পড়ের মাসের বেতন পেয়ে পরিশোধ করলে দোকানী আবার মালামাল দেন। কিন্তু চলতি মাসে এখন বেতন না পাওয়ায়, দোকানী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, টাকা না দিতে পারলে কোন সদাই  দিতে পারবে না।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত দেবাশীষ ঘোষ বলেন, তাকে আর্থিক দায়িত্ব দেননি কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন ।

পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষকদের বেতন ভাতা দেওয়ার জন্যে চার্যে থাকা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতাকে আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ডিজি কে চিঠি লিখেছি। চিঠি এলেই সমস্যা থাকবে না।

Comments

comments

Close