আজ: ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, রাত ৯:১৭
সর্বশেষ সংবাদ
আন্তর্জাতিক, মতামত, সম্পাদকীয় কেন রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করল?

কেন রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করল?


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৫/০২/২০২২ , ১১:৩৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আন্তর্জাতিক,মতামত,সম্পাদকীয়


প্রকৌশলী জাকারিয়া প্রামাণিক:   গতবছর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত রাশিয়া প্রায় ১,৯০,০০০ সৈন্য ইউক্রেন সীমান্তে জড়ো করেছিল। রাশিয়ার প্রতিবেশী এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত এই রাষ্ট্রের চারপাশে বাহিনী গড়ে তোলা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের শেষের দিকে এবং তা এই বছরের শুরুতে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

এমন একটি পরিস্থিতিতে সবাই উদ্বিগ্ন ছিল কিন্তু সংলাপ এবং কূটনীতির জন্য আশান্বিতও   ছিল।

আক্রমণের আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন  বিতর্কিত ডনবাস এলাকায় অবস্থিত দোনেৎস্ক এবং লুহানস্কের রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলিকে “স্বাধীন” গণপ্রজাতন্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সেই অঞ্চলগুলিতে “শান্তিরক্ষী” রাশিয়ান বাহিনীকে প্রেরনের আদেশ দিয়েছেন। অতঃপর নতুন করে কিয়েভ কে অস্ত্র মুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে ইউক্রেনে প্রবেশ করেছেন।

যদিও পরবর্তীতে যা ঘটবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা জটিল কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কাছে এই দ্বন্দ্বের উৎস সম্পর্কে গভীর দৃষ্টি রয়েছে। তারা বলছেন, এই উত্তেজনার উৎস হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে জটিল পূর্ব-ইতিহাস এবং NATO-র সঙ্গে রাশিয়ার চলমান উত্তেজনা।

 রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার ইতিহাস কী?

গত শতাব্দীতে, ইউক্রেন, যা ইউরোপের রুটিবাক্স নামে পরিচিত ছিল। কারণ ইউক্রেন থেকে এখনও প্রচুর গম রপ্তানি হয় ইউরোপের অনেক দেশে। এটি প্রাক্তন সোভিয়েত-এর সবচেয়ে জনবহুল এবং শক্তিশালী প্রজাতন্ত্রগুলির মধ্যে একটি এবং ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার আগে পর্যন্ত তা কৃষি প্রধান দেশ ছিল। কিন্তু রাশিয়া শুরু থেকেই পশ্ছিমে তার এই প্রতিবেশী দেশের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে বিশেষকরে যখন থেকে ইউক্রেনীয়রা তাদের স্বাধীনতাকে মাঝে মাঝে ক্ষতিকর বলে মনে করে এবং সরকারী দুর্নীতির জন্য বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ করতে থাকে।

ইউক্রেনের পশ্চিমা দেশগুলির সাথে নিজেকে আরও সংযুক্ত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা- NATO তে যোগদানের জন্য তার সর্বজনীনভাবে ঘোষিত আগ্রহ রাশিয়াকে আতংকিত ও রাগান্বিত করে। শেষপর্যন্ত এটিই আক্রমণের মুল কারণ হয়ে দাড়ায়। ২০১৪ সালে ইউক্রেনীয়রা আমেরিকার অর্থায়নে বিক্ষোভের মাধ্যমে রাশিয়াপন্থী রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরে উত্তেজনা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। ইউক্রেনীয় নিপীড়ন থেকে জাতিগত রাশিয়ান এবং রুশ-ভাষীদেরকে রক্ষা করার দাবিতে একটি সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলকে রাশিয়া নিজেদের মধ্যে সংযুক্ত করে।

প্রায় একই সময়ে, রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের খনিজ ও শিল্প সমৃদ্ধ ডনবাস এলাকায় দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সমর্থন করে, যার ফলে সশস্ত্র সংঘাত দেখা দেয়। উভয় পক্ষেই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার সাথে সাথে অঞ্চলগুলি নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, সেখানে এপর্যন্ত কমপক্ষে ১৪,০০০ মানুষ মারা গেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাত কবে থেকে শুরু হয়?

রাশিয়া ইউক্রেনের চারপাশে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ২০২১ সালের শেষের দিক থেকে বিভিন্ন কৌশলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে শুরু করে এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেকেই অন্ধকারে থাকে। ডিসেম্বরের মধ্যে হাজার হাজার রাশিয়ান সৈন্য ইউক্রেনের  সীমান্তে অবস্থান করে, দেশটিকে কার্যত ঘিরে ফেলে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যা নিয়ে পুতিন এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের মধ্যে নিষ্ফল টেলিফোনে  কথোপকথন হয়।

এ বছরের শুরুর দিকে ইউক্রেনকে ঘিরে রুশ বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। এরপর থেকে বাইডেন ও পুতিনের মধ্যে আবারও কথা হয় এবং এই সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়। ন্যাটো, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অসংখ্য নেতা রাশিয়াকে কোনো না কোনোভাবে প্রতিশোধ নেয়ার বা প্রতিশোধের মুখোমুখি হওয়ার হুমকি দেয়।

ইউক্রেনের ক্ষেত্রে রাশিয়া কী চায়?

রাশিয়ার একটি প্রধান দাবি হচ্ছে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখা।  NATO  হচ্ছে ২৮ টি ইউরোপীয় দেশ এবং উত্তর আমেরিকার দুটি দেশের মধ্যে একটি সামরিক জোট যা উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গঠিত। ইউক্রেন, সাবেক সোভিয়েতভুক্ত এই রাষ্ট্রটি  পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যারা এই জোটের সদস্য নয়। ক্রেমলিন সাধারণভাবে ন্যাটো সম্প্রসারণকে “মৌলিক উদ্বেগ” হিসাবে বিবেচনা করে যা তাদের নিরাপত্তার জন্য বাস্তব সঙ্গত।

রাশিয়ান সরকারের দাবিগুলি তার নেতা পুতিনের মত একইরকম। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন যে তারা পুতিনের মন পুরোপুরি পড়তে পারবেন না – যেখানে বাইডেন নিজেই  ১৮ ই ফেব্রুয়ারীর মন্তব্যের সময় স্বীকার করেছেন – তারা তার বিস্তৃত উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলি লক্ষ্য করেছেন, বিশেষ করে সোভিয়েত-এর আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য তার নস্টালজিয়া, যা তার কর্মের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

আমরা জানি যে পুতিন সত্যিকার অর্থেই পূর্বদিকে ন্যাটোর সম্প্রসারণকে ভয় করেন। ইউক্রেনের পূর্বদিকে দনবাস এলাকা রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ন্যাটোর উপস্থিতি মানে অনেকটা রাশিয়ার পেটের নরম জায়গায় ছুড়ি ধরে রাখার মত।

পুতিনের ন্যাটোর সদস্যপদ গ্রহণকারী দেশগুলি আক্রমণ এবং দখল করার ইতিহাস রয়েছে যা তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য জরুরী। রাশিয়ান সেনাবাহিনী ২০০৮ সালে সাবেক সোভিয়েত রাজ্য জর্জিয়া আক্রমণ করে কারণ সেই দেশটি ন্যাটো জোটের সদস্যপদ গ্রহণ করছিল। তারা রাজধানী তিবিলিসির উপর চাপ প্রয়োগ করে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছে এই অঞ্চল রেখে যায় যা তারা আজও দখল করে রেখেছে। ২০১৪ সালের ক্রিমিয়া সংযুক্তিকরণ আরেকটি উদাহরণ। পুতিন ২২ শে ফেব্রুয়ারি বলেছিলেন  যে তিনি চান যে বিশ্ব এই ক্রিমিয়া অঞ্চলটিকে বৈধভাবে রাশিয়ান হিসাবে স্বীকৃতি দিক। তিনি গত বছর একটি প্রবন্ধে যুক্তি দিয়েছিলেন যে ইতিহাস ও সংস্কৃতি রাশিয়াকে ক্রিমিয়াতে তার প্রভাব বিস্তারের অধিকার দেয়।

রাশিয়া কেন এইসময় ইউক্রেন আক্রমণ করছে?

“প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছ থেকে আমরা যা দেখছি তা মূলত তিনি যা কিছু প্রতিরোধ করতে চান তা ত্বরান্বিত করা,” পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ১৬ ফেব্রুয়ারী  “মর্নিং জো” উপস্থিতির সময় বলেছিলেন  । তিনি বলেন, তিনি (পুতিন) ন্যাটোকে রাশিয়া থেকে আরও দূরে রাখতে চান। ন্যাটো কেবল রাশিয়ান আগ্রাসনের হুমকির ফলে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, আরও দৃঢ় হয়েছে, এবং অবশ্যই, প্রতিরক্ষামূলক কারণে, রাশিয়ার কাছাকাছি আরও সৈন্য সমাবেশ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের এই রকম দম্ভোক্তি অবশ্যই রাশিয়াকে আরও সঙ্কল্পবদ্ধ করেছে। কেউ চায়না ঘরের তার চিরশত্রু বন্দুক নিয়ে দাড়িয়ে থাকবে আর সে ঘরে আটকে বন্দি থাকবে। রাশিয়ার মত সামরিক সুপারপাওয়ার তা অবশ্যই মেনে নিবে না।

পুতিনের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আক্রমণের “সবচেয়ে উপযুক্ত সময়” কারণ দেশে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ রয়েছে এবং ইতিমধ্যে রাশিয়ার সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সম্পদ জমা করেছে।

পুতিন সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমাদেরকেও দুর্বল বলে মনে করছেন। বিশেষ করে আগস্টে আফগানিস্তান থেকে সেনা পলায়নের বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পরিচালনা করেছিল তা পুতিনকে সাহসী করে তোলে ।

বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘সিবিএস ইভিনিং নিউজ’-এ ব্লিঙ্কেন বলেন, ইউক্রেনে আরও রুশ আক্রমণের ফলে ‘ভ্লাদিমির পুতিন ও রাশিয়াকে দীর্ঘ সময় ধরে মূল্য দিতে হবে।

“আমরা পাশে দাঁড়িয়ে শুধু দেখছি না,” ব্লিঙ্কেন বলেন। “বিপরীতভাবে, আমরা কয়েক মাস ধরে মিত্র এবং অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছি যা রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হয়ে দাঁড়াবে।

এইসময়ে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যান্য কারণগুলিও পুতিনের পক্ষে কার্যকর হতে পারে। কভিড-১৯ মহামারির প্রভাব থেকে শুরু করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কৌতুক অভিনেতা ভলোদিমির জেলেনস্কির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব পর্যন্ত বিভিন্ন কারণের সংমিশ্রণে রুশ নেতার এখনই কাজ করার জন্য কিছুটা ‘নিখুঁত ঝড়’ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের ডক্টরেট ফেলো কিম্বার্লি সেন্ট জুলিয়ান-ভার্নন।

“আমি মনে করি এটি তার ম্যাগনাম ওপাস,” তিনি বলেন। আমি মনে করি, পুতিনবাদ যা-ই হোক না কেন, এটাই তার মুকুট অর্জন।

রাশিয়ার আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ কীভাবে সাড়া দিচ্ছে?

ন্যাটোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শাখা নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিল গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি বৈঠক করে, যেখানে তারা  তাদের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সক্রিয় করে, যার মধ্যে ন্যাটো রেসপন্স ফোর্সও রয়েছে। রাশিয়ার হামলার আগে বাইডেন বলেছিলেন যে পোল্যান্ডের মতো ন্যাটো মিত্রদের রক্ষা করার জন্য তিনি পূর্ব ইউরোপে আরও মার্কিন সেনা পাঠাবেন, তবে তিনি বারবার বলেছেন যে তিনি ইউক্রেনে মার্কিন সেনা পাঠাবেন না।

কিছু দেশ ইতিমধ্যে ডনবাস সম্পর্কিত পুতিনের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  “আগ্রাসনের শুরু” বলে অভিহিত করেছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি  বাইডেন রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দেশটির অভিজাতদের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। একটি নির্বাহী আদেশ অনুসরণ করে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিদের মাধ্যমে দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অর্থায়ন নিষিদ্ধ করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার ব্যাংক ও ধনকুবেরদের বিরুদ্ধে নিজের দেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। যদিও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আসলে দুর্বল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট  গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার নির্মিত নর্ড স্ট্রিম ২ প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন কোম্পানি ও এর করপোরেট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেন। আলোচিত এই প্রকল্প, যা রাশিয়া থেকে ইউরোপের মধ্য দিয়ে চলে, এখনও চালু নয়, তবে পশ্চিম ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য রাশিয়ান সরবরাহের উপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল করে রাখবে। জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ  বাইডেনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কথা আগেই বলেছিলেন, রাশিয়ার পদক্ষেপের কারণে তার দেশ পাইপলাইনের সার্টিফিকেশন বন্ধ করে দেবে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বাইডেন প্রতিশ্রুতি দেন, ‘ইউক্রেন এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে আগ্রাসনের এই অপ্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের মিত্র ও অংশীদাররা রাশিয়ার ওপর আরও কথিন পদক্ষেপ নিবে।

জ্বালানির উচ্চ দাম এবং উচ্চ বৈদেশিক রিজার্ভ থেকে উপকৃত হওয়া রাশিয়ার উপর এই পদক্ষেপগুলি কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ চীনের মত অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ার রয়েছে রাশিয়ার পাশে। বর্তমান চীন ও রাশিয়ার উত্থানের সময় আমেরিকা কতটুকু প্রভাব রাখতে পারবে তা এই যুদ্ধের মাধ্যমে অনেকটা স্পষ্ট হবে

বস্তুত আমেরিকা চাচ্ছে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদী একটি যুদ্ধের ফাঁদে পা দিক যার যন্ত্রণা তারা ভোগ করেছে ইরাক ও আফঘানিস্তানে। অপরদিকে রাশিয়া চাচ্ছে যত দ্রুত তাদের স্বার্থ আদায় করে ফেরত যাওয়া যায়। নিকট ভবিষ্যৎ বলে দিবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায় ।

Comments

comments

Close