আজ: ২৬শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, বিকাল ৩:৩৬
সর্বশেষ সংবাদ
মতামত ডা. মুরাদকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো কি বার্তা দিল বাংলাদেশকে

ডা. মুরাদকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো কি বার্তা দিল বাংলাদেশকে


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৩/১২/২০২১ , ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: মতামত


শামসুল আলম সবুজ:  বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ও সদ্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান গত বৃহস্পতিবার কানাডার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন। বিতর্কিত মন্তব্য ও একজন নায়িকার সঙ্গে অশ্লীল কথোপকথন ফাঁসের পর তাঁকে নিয়ে বাংলাদেশের জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আপামর জনসাধারণের সেই ক্ষোভকে সামাল দেওয়ার জন্য খুব তাড়াতাড়ি তাঁকে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধানের নির্দেশনা মেনে পদত্যাগও করেন ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা। পদত্যাগের পর লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান মুরাদ হাসান। এরপর দেশত্যাগ করে গত বৃহস্পতিবার কানাডার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এই সাংসদ।
নৈতিক স্খলন, নারীর প্রতি বিদ্বেষ ও বর্ণবাদ উসকে দেওয়া একজন মানুষ কিভাবে নির্বিঘ্নে বিমানবন্দর পার হয় তা নিয়ে দেশব্যাপী তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এটা নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়সারা জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বাংলার জনগণ। অথচ আমাদের সাবেক মন্ত্রী যে ধরনের অন্যায় করেছেন তাঁর চেয়ে অনেক কম দোষ করেও এর আগে সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য ও দেশের অনেক নাগরিককে। আর এখানে কিনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলে দিলেন, রাষ্ট্র তাঁর বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ নয়! তাহলে কি আমরা ধরে নিতে পারি, জনগণের কোনো কথা সরকারের বিপক্ষে গেলেই শুধু তাঁরা সংক্ষুব্ধ হন? সরকার ছাড়া আর যে কাউকে বাজেভাবে আক্রমণ করা যাবে?  নাকি এটাও ভেবে নিতে পারি, ক্ষমতাসীন দলের যে কেউ যেকোনো ধরনের মন্তব্য করতে পারেন? কথা বলার অধিকার শুধু তাঁদের আছে, জনগণের সেই অধিকার নেই!  অর্থাৎ আমরা কিছু বললে পাপ, তাঁদের বেলায় সব মাফ! তাইতো অনেক দোষে দুষ্ট মুরাদ হাসান সহজেই কানাডায় যেতে পারেন সহজেই এবং নির্বিঘ্নে।
তবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং জনগণ যেটা করতে পারেনি, সেটাই করে দেখিয়েছে কানাডিয়ান সরকার ও সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। মজার ব্যাপার হলো ভ্রমণ সংক্রান্ত যথাযথ কাগজপত্র না থাকায় সে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি ডা. মুরাদকে। টরেন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে আটকে দেয় কানাডার বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি। এজেন্সির কর্তাব্যক্তিরা মুরাদকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চান তাঁরা। সিবিএসএ’র কর্মকর্তারা তাঁকে অবহিত করেন যে, কানাডায় বসবাসরত অধিকাংশ বাংলাদেশি নাগরিক চাননা তাঁকে এই দেশে আশ্রয় দেওয়া হোক। পরে ক্ষমতাসীন দলের এই সাংসদকে দুবাইয়ের প্লেনে উঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রবাসীদের আবেদনের ভিত্তিতে কানাডা সরকার যে কাজটা করেছে, ঠিক একই কাজটি করতে পারেনি বা করেনি বাংলাদেশ সরকার। অথচ আওয়ামী লীগ সরকার যদি নিজেদের কাজটা ঠিক মতো করতো তাহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে ক্ষুন্ন হতো না। বাংলাদেশের কোনো সংসদ সদস্যকে একটি দেশের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো সামগ্রিকভাবে এই রাষ্ট্রের জন্য একটা নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করে। এই ভূখণ্ডের নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের জন্যও লজ্জার। যেখানে একদিন আগেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে পুলিশ এবং র‍্যাবের কয়েকজন উর্ধতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই এই মুহূর্তে মুরাদ হাসানকে নিয়ে সরকার এই ঝুঁকিটা না নিলেই পারতো। যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় থাকেন তখন তাঁরা ভুলে যান ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তাইতো এ দেশের মন্ত্রী, সাংসদরা ভুলে যান আরোহনের পরেই আসে পতন। আপনি ক্ষমতার যত শীর্ষেই আরোহন করেন না কেনো আপনি যদি জনগণের বিরুদ্ধে চলে যান, তাহলে আপনার পতন অবিসম্ভাব্য। ডা. মুরাদ সেটার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আর তাঁকে নিয়ে সরকারকে কানাডা যেভাবে বেকায়দায় ফললো তাঁর ফলে কী দেশের জনগণ বিশ্বের কাছে বেকায়দায় পড়লো না? মুরাদের এই ঘটনা কী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি কানাডা ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের চপেটাঘাত না?

Comments

comments

Close