আজ: ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৮:৫০
সর্বশেষ সংবাদ
মতামত বিদায় থেকে র‍্যাগ ডে , নৈতিকতার চরম অবক্ষয়

বিদায় থেকে র‍্যাগ ডে , নৈতিকতার চরম অবক্ষয়


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৩/১১/২০২১ , ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: মতামত


নুর আহমেদ সিদ্দিকী:  সম্প্রতি যে র‍্যাগ ডে( RagDay) সংস্কৃতি চালু হয়েছে তা সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলছে।র‍্যাগ ডে নামের এই অপসংস্কৃতির হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া অভিভাবকরা তাদের সন্তাদের নীতি নৈতিকতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।এই সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হতো অনাড়ম্বর পরিবেশে।এখন বিশ্ববিদ্যালয়েও অতিমাত্রায় অশ্লীলতার সাথে পালিত হয়।কিন্তু এই র‍্যাগ ডেনামের নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত সংস্কৃতি এখন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও হানা দিয়েছে।সম্প্রতি এস এস সি পরীক্ষার্থীরা বিদায় অনুষ্ঠানের পরিবর্তে নেচে গেয়ে দিনটি কে উদযাপন করেছে। অতীতেও আমরা বিদায় অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছি।শিক্ষার্থীরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হতো।বিদায়ী শিক্ষার্থীরা যখন বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতো তখন তাদের কান্নায় আমরা জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও কান্না করতাম।শিক্ষক,শিক্ষিকা,শিক্ষার্থীদের ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিদায় নিতো।তখন বিরাজ করতো এক আবেগঘন ও শোকাতুর পরিবেশ।শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংগীত, বক্তব্যে যেন ক্যাম্পাসের গাছগাছালিরাও কান্না করতো।কিন্তু ২০২১ সালে এসে আমাদের দেখতে হয়েছে ভিন্ন চিত্র।এখন রেগডে নামের অপসংস্কৃতির সূচনা হলো মাধ্যমিক পর্যায়েও।অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাচ গান সুস্থ বিবেকবান সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি লজ্জিত। শিক্ষার্থীদের যে টুকু নীতি নৈতিকতা অবশিষ্ট ছিলো তা র‍্যাগ ডে নামের অপসংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় নিতে শুরু করেছে।পশ্চিমাদের সেই নোংরা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার না হলে ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে একটি উগ্র, নীতি নৈতিকতাহীন প্রজন্ম।যারা শিক্ষিত হয়েও অশিক্ষার প্রশিক্ষণ দিবে।সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়বে কিন্তু প্রকৃত শিক্ষিত লোকের সংখ্যা হ্রাস পাবে।এস এস সি পরীক্ষার সময় আমাদের স্কুলে ভোরে কোরআন খতম হতো এবং সকাল ৯ টা থেকে বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হতো।বিদায়ী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুজরা মানপত্র পাঠ করতো। শিক্ষক,শিক্ষার্থীদের আবেগণ বক্তব্যে নিজের অজান্তেই অশ্রু প্রবাহিত হতো।বাঁশখালী নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠান মানে এক ভিন্ন আয়োজন।বিদায় অনুষ্ঠানে আমার বিদায়ী সংগীতে শিক্ষক,শিক্ষার্থী অতিথি সবাই কেঁদেছিল।সেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং স্কুলের সভাপতি জনাব রাহাবার আলম আনোয়ার সাহেবও অশ্রু লুকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। তিনি আমার সংগীতে মুগ্ধ হয়ে ১ হাজার টাকা বকশিশ দিয়েছিলেন।সেই স্মৃতি গুলো এখনো চোখের সামনে এক এক করে ভেসে উঠে।এইচ এস সি পরীক্ষার সময়ও বিদায়ী সংগীত গেয়েছি।একটা প্রতিষ্ঠানের শেষ দিনটা নিশ্চয়ই বেদনা।শ্রদ্ধেয় শিক্ষক,প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়া সত্যি কষ্টের।কিন্তু র‍্যাগ ডে নামক অপসংস্কৃতি আমাদের সেই আবেগকে ভোঁতা করে দিয়েছে।এটা পশ্চিমাদের অসংস্কৃতির নগ্ন থাবা। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক ম্যাগাজিনের একটি নিউজ সবাইকে নাড়া দিয়েছিল।বাবা মৃত্যু শয্যায় শায়িত।বাবা মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছটপট করছে। ঠিক সেই মূহুর্তে বাবার অন্তিম মূহুর্ত ধরে রাখতে ছেলে সেলফি তুলছে।সেলফি তুলা অবস্থায় বাবার মৃত্যু হয়।অথচ উচিত ছিল বাবাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। এজন্যে বলা হয়, বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ,কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ।সব কিছু ছেড়ে বিদায় নেওয়ার সময় যখন হৃদয় ভরাক্রান্ত হওয়ার কথা সেখানে আমরা হৈহুল্লুড় করছি,নাচ গান করছি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে।নৈতিক অধঃপতন কতটা নিচে নামলে এমনটা হয় ভেবে দেখেছেন?Rag শব্দের অর্থ হলো হৈ চৈ করা,হৈ হুল্লুড করা,আর Day অর্থ হলো দিন।বাংলাদেশে এই অপসংস্কৃতির যারা আমদানিতে এবং উৎসাহ উদ্দীপনা যোগাচ্ছে তারা দেশ এবং দেশীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ভার্সিটিতে এসব নোংরা সংস্কৃতির চর্চা হলেও নিজেকে এসব থেকে দূরে রেখেছি।অনার্সের র‍্যাগ ডে তে সবাই অংশ নিলেও একমাত্র আমিই অংশগ্রহণ করিনি।সাদা টিশার্টে অশ্লীল ভাষায় বিভিন্ন লেখালেখি, রং মাখামাখি আমার সেই থেকে পছন্দ হতো না।এসব নোংরা সংস্কৃতি এখন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রবেশ করেছে দেখে সচেতন নাগরিক হিসেবে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারছিনা । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব অপসংস্কৃতি নিষিদ্ধ করে আগামীর প্রজন্ম কে রক্ষা করতে হবে।অন্যথায় এই সব নোংরা সংস্কৃতির সয়লাবে আগামীর প্রজন্ম একটি বেয়াদব,উগ্র ও নীতি নৈতিকতাহীন প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠবে।

Comments

comments

Close