আজ: ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ১১:২৭
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ নওগাঁয় ভাসমান রেস্টুরেন্টে আগুন, ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

নওগাঁয় ভাসমান রেস্টুরেন্টে আগুন, ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৩/১০/২০২১ , ৯:৩৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় ভাসমান রেস্টুরেন্ট আগুন লেগে ২৮টি ছাগলসহ রেস্টুরেন্টর সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার নওগাঁ-দুলবহাটি সড়কের পাশে তালতলির বিলে ভাসমান রেস্টুরেন্ট এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ দূর্ঘটনায় রেস্টুরেন্ট মালিকের প্রায় চার লাখ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানাগেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, আনুমানিক সকাল ৬টার দিকে ঐ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগে। রস্টুরেন্টটি লোকালয় থেকে একটু দূরে হওয়ায় প্রথমে কেউ বুঝতে পারেনি। পরে পাশে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় স্থানীয়রা রেস্টুরেন্টে আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। সকাল ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিস এর একটি দল এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষনে পুরো রেস্টুরেন্ট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঐ রেস্টুরেন্টে মোট তিনটি ঘর ছিল দুটি ঘর রেস্টুরেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতো এবং পাশেই একটি ঘরে রাতের বেলা রেস্টুরেন্ট মালিক ছাগল রাখতো। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ঐ ঘরে থাকা ২৮টি ছাগল ও রেস্টুরেন্টের মালামাল সম্পূর্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থানীয় চকপ্রান এলাকার বাসিন্দা, নাইম হোসেন, রাসেল রানাসহ আরো কয়েকজন জানান, এরশাদের ভাসমান রেস্টুরেন্ট কাঁঠ, টিন ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা। তালতলি বিলে যারা ঘুরতে আসতো তারা এই ভাসমান রেস্টুরেন্টে বসে সময় কাটাতো। সাধারণত এখানে পানীয়, চিপস, কেক এবং শুকনো জাতীয় খাবার রাখা হতো। পাশেই একটি ঘরে ছাগল রাখা হতো। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ার ফলে লোকটা নি:স্ব হয়ে গেল।

ক্ষতিগ্রস্থ রেস্টুরেন্ট মালিক এরশাদ হোসেন বলেন, ২০১৬ সালে আমি রেস্টুরেন্টটি চালু করি। পাশাপাশি গত প্রায় ১বছর থেকে ছাগল লালন-পালন করছি। সারাদিন ছাগলগুলো মাঠে চরানোর পর রাতের বেলা আমার ভাসমান রেস্টুরেন্ট এর সাথে লাগানো একটি ঘরে ছাগলগুলো রাখি। সকালে আমার এক প্রতিবেশি ফোন আগুন লাগার ঘটনাটি জানায়। আমি রেস্টুরেন্টে ছুটে এসে দেখি আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমাদের ধারণা কেউ শক্রতা করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় আমার রেস্টুরেন্টের যাবতীয় মালামাল ও ২৮টি ছাগল মিলে আমার প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে।
অপর প্রশ্নে তিনি আরো বলেন,  কয়েক মাস থেকে রাতে কেউ থাকে না পাহারার জন্য। মাঝে মধ্যে আমি থাকি পাহারার জন্য। কিন্তু গত রাতে বাসায় ছিলাম। এই সুযোগে হয়তো কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠিন বিচারের দাবী জানান তিনি।

নওগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-পরিচালক এ.কে.এম মুরশেদ (লাকী) বলেন, আমরা আগুন লাগার ঘটনাটি জানতে পারার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে রওনা দেই। সেখানে পৌঁছে পুরো রেস্টুরেন্টটি পুড়ে যেতে দেখতে পাই। আমরা দ্রুত আগুন নিভাতে সক্ষম হই। তিনি আরো বলেন, আগুন লাগার কারন ও ক্ষতির পরিমান সঠিক তদন্তের পর জানা যাবে।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, ভাসমান রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। রেস্টুরেন্ট ২৮টি ছাগল ছিল, সব ছাগল আগুনে পুড়ে গেছে। বিষয়টি খুবই মার্মান্তিক। রেস্টুরেন্ট মালিক এরশাদ আলী এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। যেহেতু সেখানে কোন বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিলনা, সেহেতু কি করে আগুন লাগলো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি এর সাথে কেউ জড়িত থাকে তবে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা অবশ্যই গুরত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করব।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: