আজ: ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, বিকাল ৪:৫৫
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ ডোপ টেস্ট প্রত্যয়ন নিয়ে নানা ঝামেলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা

ডোপ টেস্ট প্রত্যয়ন নিয়ে নানা ঝামেলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ০৬/০৯/২০২১ , ১১:০৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ


হাসান শাব্বির:  সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ  সমূহে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি শুরু হয়েছে। বগুড়ায় কয়েকটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোর মাঝে সরকারী আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,  মজিবুর রহমান মহিলা কলেজ,  সরকারী শাহ সুলতান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজেও শুরু হয়েছে ভর্তি কার্যক্রম।   বিজ্ঞান,  মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের ভিন্ন ভিন্ন  বিষয়ের বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে ভর্তি নির্দেশিকা।  নির্দিষ্ট পরিমাণের ভর্তি ফি ছাড়াও শিক্ষার্থীদের নতুন বিড়ম্বনা ও অর্থ দুশ্চিন্তার নাম –  ডোপ টেস্ট।

মাদক বা এ্যলকোহল জাতীয় কিছু কিছু নেশাকর পন্য আছে যার রেশ শরীরে থেকে যায়। আর এগুলো যে টেস্টের মাধ্যেমে করা হয় তাকে ডোপ টেস্ট বলে।

সরকারী আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গনে সরোজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় –  ডোপ টেস্ট  নিয়ে শিক্ষার্থী,  শিক্ষক ও সাধারণ অভিভাবকদের মাঝে  মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ।  শিক্ষক  মহল বিষয়টিকে ইতিবাচক-নেতিবাচক উভয় দৃষ্টিতে দেখছেন ।  শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ হাস্যরসের যোগান দিয়েছে এ ডোপ টেস্ট,  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী সর্বপ্রথমে শিক্ষকদের ডোপটেস্টের দাবি জানিয়েছেন।

অভিভাবকবৃন্দ উষ্মা প্রকাশ করেছেন ডোপ টেস্টর সরকারী ফি নিয়ে। ডোপ টেস্টের অন্তর্ভুক্ত নন-স্পেসিফিক ও অ্যালকোহল টেস্টের ফি মোট ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নন-স্পেসিফিক পরীক্ষার মধ্যে বেঞ্জোডায়াজেপিন, এমফেটামাইনস, অপিয়েটস ও কেননাবিনেয়েডস— এই চারটির প্রতিটির ফি ১৫০ টাকা এবং অ্যালকোহল পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কলেজগুলোর সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার মাঝেও উচ্চশিক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে তারা শিক্ষাব্যয় নিয়েই ব্যতিব্যস্ত এর মাঝে ডোপ টেস্টের প্রায় হাজার টাকার বাড়তি খরচ এখন তাদের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা। গাইবান্ধা থেকে সরকারী আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হতে আসা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আরিফ জানান- ” ডিপার্টমেন্টের ২২৪০টাকা   বাবা জোগাড় করেছেন ছাগলের একটি বাচ্চা বিক্রি করে,  এখন ডোপ টেস্টের জন্য আবারো ১০০০টাকা লাগবে বলতেই দু-চোখ ভরে আসছে।  ভাবছি নিজেই প্রয়োজনে মজদুরি করে জোগাড় করব ডোপ টেস্টের টাকা।  ”  সাধারণ মানুষের দাবি করছেন যাদের স্বাভাবিক দৃষ্টিতে মনে হয় সে মাদকাসক্ত নয় এমন শিক্ষার্থীদের ছাড় দিয়ে শুধুমাত্র সন্দেহভাজনদের ডোপ টেস্ট করা হোক।  মহামারী করোনাকালীন সময়ে যেখানে মানুষের স্বাভাবিক অসুস্থতার জন্য পরীক্ষা -নিরীক্ষার অর্থব্যয় কঠিন হয়ে পড়েছে সেখানে ডোপ টেস্টের মতো ব্যয়বহুল ও ঝামেলা পূর্ণ এ টেস্ট বিনামূল্যে অথবা স্থগিতাদেশ দেওয়ার দাবি করেন অনেক শিক্ষার্থী ।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: