আজ: ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, বিকাল ৫:০৭
সর্বশেষ সংবাদ
বিনোদন দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই : থিয়েটার কর্মীর আর্তনাদ

দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই : থিয়েটার কর্মীর আর্তনাদ


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ২৭/০৮/২০২১ , ৬:৪৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: বিনোদন


এস বি সোহেলঃ  টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শিল্পী তৈরির জন্য মঞ্চ নাটক ছিল একটি বড় ক্ষেত্র। কিন্তু দিনে দিনে মঞ্চ নাটকের প্রতি তরুণ অভিনয় শিল্পীদের আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে।

থিয়েটারের প্রসঙ্গ উঠলেই ঘুরে ফিরে কয়েকটি দলের কথা আসে। মঞ্চ নাটকের পরিবেশনাও ঢাকা শহরের কয়েকটি অডিটোরিয়ামের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তেমন একটা বিস্তার লাভ করতে পারেনি।

কিন্তু মঞ্চ নাটকে অনাগ্রহের কারণে দক্ষ অভিনয় শিল্পী তৈরি হচ্ছে না বলে কিছু সংখক নির্মাতারা মনে করেন। অর্থাৎ মঞ্চ নাটকের সংকট টেলিভিশন নাটককে প্রভাবিত করছে।
বর্তমান টেলিভিশন নাটকে থিয়েটার শিল্পীদের দেখা না গেলেও এখানে নিয়মিত হয়েছেন হালের জনপ্রিয় প্লাটফর্ম টিকটক, লাইকির উঠতি মডেলরা। যার ফলে তৈরি হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনা।

সম্প্রতি আলোচিত নির্মাতা অনন্য মামুনের ওয়েব সিরিজ ‘সিনিয়র ভার্সেস জুনিয়র’ এ  থাকছেন টিকটক মডেল ‘অপু ভাই।’ টিকটক অপু ভাইয়ের ওয়েব সিরিজ অভিষেক প্রসঙ্গে  এবং  নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন রাকিব সিদ্দিকী নামের এক থিয়েটার কর্মী।

মঞ্চ অভিনেতা রাকিব সিদ্দিকী বলেন, আমি একজন থিয়েটার কর্মী। সপ্তাহে তিন দিন ফার্মগেট থেকে পায়ে হেঁটে টিএসসি গিয়ে থিয়েটার করে প্রতিনিয়ত নিজেকে তৈরি করার যুদ্ধ করছি। পাশাপাশি টানা তিন বছর একজন ডিরেক্টরের পিছনে সময় দিয়ে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। আমি চরিত্রটি নিয়ে নানান রকম স্বপ্ন দেখেছি। ভেবেছিলাম বড় পর্দায় নিজের অভিনয় দেখে নিজের অভিনয়ের স্বাদ নিজেই গ্রহণ করবো।

নিজেকে চরিত্রের প্রয়োজনে প্রস্তুত করছিলাম সাথে সাথে অপেক্ষায় ছিলাম কবে শুরু করবেন ডিরেক্টর সিনেমাটির শুটিং।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরে সিনেমাটির শুটিংয়ে গিয়ে নানান রকম বাজে অভিজ্ঞতার শিকার হয়ে টানা ১২ দিন/রাতের একটি লট করে ঢাকায় ফিরেছিলাম বিনা পারিশ্রমিকে। ব্যাক্তিগত খরচের টাকাটাও চাইনি ডিরেক্টরের কাছে।

কারণ, ডিরেক্টরের জন্য ছিলো আমার শ্রদ্ধা ও সম্মান। নিজের আত্মসম্মান বোধের কথা চিন্তা করে নিজেকে নিজের খরচেই চালিয়েছিলাম  লটটিতে। যাইহোক অপেক্ষায় ছিলাম পারিশ্রমিকের, ডিরেক্টর অন্যদের পারিশ্রমিক দিলেও সে আমাকে কোন পারিশ্রমিক দেননি।

কিছু মাস পরে আবার দ্বিতীয় লট করতে ঢাকার বাহিরে যাই পুরো টিম। সেখানেও অত্যন্ত বাজে অভিজ্ঞতার সাথে টানা ৮ দিন / রাত শুটিং করে ঢাকায় ফিরেছি বিনা পারিশ্রমিকে।

এবার একজন শিল্পী হয়ে নিজের পারিশ্রমিক দাবি করলে ডিরেক্টর আমাকে বলেন কি ডকুমেন্টস আছে তোমার কাছে যে তুমি আমার কাছে পারিশ্রমিক দাবি করছো!
এরপর প্রডিউসারের সাথে যোগাযোগ করি বিকাশ নাম্বারে মাত্র ১ হাজার টাকা পাঠায়। এক হাজার টাকা পেয়ে আমার মনে হচ্ছিলো যে শিল্পীরা এতোটা মূল্যহীন।

আজ দেখি যারা কিনা উচ্চারণ করতে জানেন না। থিয়েটার করেননি, অভিনয় জানে না, শিক্ষামূলক কিছু করে না, ম্যানার জানে না, শুধু মাত্র টিকটক করে আমার এই ইন্ডাস্ট্রির স্বনামধন্য  পরিচালকের এক মাসের অভিনয়ের প্রশিক্ষণ দ্বারা অভিনেতা হয়ে উঠবেন। আমার ডিরেক্টরের উপর রাগ হচ্ছে নাহ বরং আমার নিজেকে নিজের অসহায় মনে হচ্ছে।
মনে হচ্ছে থিয়েটার করে এখন আর কোন লাভ নেই। একজন থিয়েটার কর্মী হয়ে আমি’তো কোন মূল্যায়ন পাইনি যা পেয়েছেন টিকটক করে অপু ভাই।

তিনি আরো বলেন, পুরো ইন্ডাস্ট্রির কাছে আমার দাবি আমি দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে এসমাজে বেঁচে থাকতে চাই। নিজের শিল্প চর্চা দিয়ে পারিশ্রমিকটা পেতে চাই। যারা সত্যিকারের শিল্পী তাদের অভিভাবক চাই।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: