আজ: ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, বিকাল ৪:৩৮
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে, মতামত শোক ঢেকে যায় আত্মপ্রচারে

শোক ঢেকে যায় আত্মপ্রচারে


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ১২/০৮/২০২১ , ৭:৫৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে,মতামত


সোহরাব হোসেন, উত্তরা, ঢাকা থেকে :
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে নিজের ছবি ব্যবহার করে তৈরি করা নানা পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক। কারও কারও ছবির বিশালত্বে হারিয়ে গেছেন জাতির পিতা ও ১৫ আগস্টের শহীদরা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডি ৩/এ দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ের সামনেসহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, পাড়া-মহল্লার দেয়াল ও পিলারে জাতির পিতাকে নিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধাসংবলিত পোস্টার-ব্যানার আর লেখনী শোভা পাচ্ছে। শোক দিবস উপলক্ষে ব্যানার-পোস্টার করা হলেও এসবের মূল উদ্দেশ্য আত্মপ্রচারণা। পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন দেখেই বোঝা যায় পাড়া-মহল্লায় নিজেদের কদর বাড়ানো ও আত্মপ্রচারণারই এর মূল কারণ।

সাধারণত বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শোক দিবসগুলো এলেই আত্মপ্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে পাড়া-মহল্লার, ওয়ার্ড, থানার নেতারা। জাতির জনক ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের ছবির তুলনায় নিজেদের বড় বড় ছবি ব্যবহার করে বানানো সেসব ব্যানার-পোস্টারে ছবি ব্যবহারের নির্দেশনা না মেনেই আত্মপ্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে উঠে তারা। এবারের শোক দিবসেও এর ব্যতয় ঘটেনি। ঢাকা শহর ঘুরে দেখা গেছে এমন অসংখ্য পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন।

রাজধানীর মহাখালী, বনানী-গুলশান ও উত্তরা এলাকার বিভিন্ন দেয়ালে, ফ্লাইওভারের পিলারে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সিদ্দুকুর রহমান এর নামে সাটানো পোষ্টার চোখে পড়েছে। পোষ্টারে লেখা আছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও ১৫ই আগষ্টের সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। ব্যানারের বাঁ পাশে বড় আকারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ছবি। তার নিচে প্রায় সমান আকারে সিদ্দুকুর রহমানের ছবি।ক্ষুদ্র আকারে দেওয়া হয়েছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সহ ১৫ আগস্ট নিহত সব শহীদের ছবি। আর ডান পাশে মাঝারি আকারে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ের একটু সামনে চোখে পড়ে কারেন্টের খাম্বায় ঝুলানো একটি ফেষ্টুন। এ ফেস্টুনে লেখা আছে- ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস-জাতির পিতাসহ সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি’। নিজের পরিচয় ব্যবহার করেছেন শেখ শহিদুল ইসলাম (বাবু), বনানী থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর। ফেষ্টুনের উপরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়েছেন নিচে বাঁ পাশে নিজের বড় করে ছবি দিয়েছেন এবং মাঝে দিয়েছেন তার নেতা বনানী থানা যুবলীগের আহ্বায়ক জাকির হোসেনের ছবি।

দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মপ্রচারণা ঠেকাতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছবি ব্যবহারের ওপর সংযত হতে একটি নির্দেশনা জারি করা আছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া নির্দেশনায় বলা রয়েছে, ‘পোস্টার-ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেষ্টুন ও লিফলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছাড়া কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না।’ ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সেই নির্দেশনা অমান্য করেই ব্যানার-পোস্টার, বিলবোর্ড ও লিফলেটে দেখা যাচ্ছে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: