আজ: ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ৬:৫০
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, রংপুর বিভাগ ঈদেও বিক্রি নেই, ক্ষতির মুখে লোহায় গড়া অস্ত্র ব্যবসায়ীরা

ঈদেও বিক্রি নেই, ক্ষতির মুখে লোহায় গড়া অস্ত্র ব্যবসায়ীরা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ২০/০৭/২০২১ , ১০:১৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,রংপুর বিভাগ


বর্ণালী জামান বর্ণা

বছরের ঈদুল আযহার এই মৌসুমের জাঁকজমকপূর্ণ ব্যবসার আয় তাদের সারা বছরের অবলম্বন। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও অধিক আগ্রহ নিয়ে ধার-ঋণ করে কোরবানির পশু কাটার জন্য লোহায় গড়া অস্ত্র কিনে বিক্রির তাগিদে। প্রতি বছর প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভবান হলেও এবারের পরিস্থিতি বিপরীত। পশু কোরবানির প্রয়োজনীয় সারি সারি ছুরি,চাকু,দা,বটি,চাপাতি দোকানের সামনে বিছিয়ে রাখলেও ক্রেতার সাড়া না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। সারা  বছরের ব্যবসার ঘাটতি নিয়ে কারিগরের কপালে এখন শঙ্কার ভাঁজ পড়েছে।

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পশু কোরবানির প্রয়োজনীয় দা,ছুরি,বটি,চাপাতিসহ বিভিন্ন যন্ত্রের প্রতিবছর চাহিদা বাড়ে কয়েক গুণ। সেই চাহিদার জোগান দিতেই রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন হাট-বাজারে লোহার অস্ত্র সাজিয়ে নিয়ে বসে  থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতার আনাগোনা একেবারেই নেই। আশাবাদী ক্রেতা না পেয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এরপরও থমকে নেই ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বেচা কেনা বাড়তে পারে।

রংপুর লাগবাগ বাজারের অস্ত্রব্যবসায়ী আইজার আলী বলেন, এবার বেচাকেনা নাই পুঁজি শেষ। যে টাকা ঋণ করে ব্যবসা শুরু মনে হয় তা উঠানো সম্ভব না। সকাল থেকে অর্ধদুপুর বসে আছি এক টাকাও বওনি করিনি। অভাবের সংসার খোলা আকাশের নিচে রোদে পুরে দোকান সাজিয়েছি এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতাই কিনলো না। হাত দিয়ে চলে যায় দাম জিজ্ঞেস করে যেন তারা দরদাম করতেও ইচ্ছুক নন। বাজারে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। গতবছর থেকে ব্যবসা নেই আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে। ব্যবসা নিয়ে আমাদের মরণ দশা।
আরেক ব্যবসায়ী নাঈম বলেন, আগে মানুষ  নিজেরাই ও প্রতিবেশীদের নিয়ে কোরবানির পশু জবাই ও কাটার কাজ করতেন। কিন্তু এখন তা  পেশাদার কসাইরা করে দিচ্ছেন।  তাই অনেকে দা-বটি কিনছেন না। বর্তমানে দা-বটি কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০টাকা। চাপাতি ৪০০- ৪৫০টাকা,চামড়া ছাড়ানোর ছুরি  ১২০থেকে ৩০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়াও অন্যান্য ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৭০ টাকা দরে।

নবাবগঞ্জ  বাজারে ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন,  করোনা আমাদের ধ্বংস করে ফেললো।  এবারে কোরবানী অনেক কম হবে লকডাউনে মানুষের উপার্জন নেই তাই আমাদের বিক্রি নেই।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কীভাবে লবণ ভাত খেয়ে দিন কাটাবো বুজে আসে না। সারা বছরেই বিক্রি মূল ব্যবসা না বসে থাকতে হয় কোরবানি ঈদের প্রত্যাশায়। এভাবেই কথা গুলো বলছিলেন তিনি।

সিটি বাজারের লৌহ ব্যবসায়ী সুবল দাস  জানায়, এবার ক্রেতাদের ভিড় নেই দোকানে । কিন্তু প্রতি বছর কোরবানির ঈদের ২০-২৫ দিন আগে থেকেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যেতো। কেউ নতুন ছুরি,চাকু,দা,বটি,চাপাতি  কিনতেন। অথচ  এবার তার উল্টোটাই ঘটছে। সকাল থেকে রাত অবধি দোকানে যন্ত্রপাতি নিয়ে বসে থাকলেও মিলছে না ক্রেতা। ব্যবসা নিয়ে হতাশায় কাটছে আমাদের সময়।  তবুও আর একটা বিক্রির দিনের প্রত্যাশায়।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: