আজ: ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ৮:৩১
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ করোনা মোকাবিলায় এখনো প্রস্তুতিহীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের কাজও চলছে ধীরগতিতে

করোনা মোকাবিলায় এখনো প্রস্তুতিহীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের কাজও চলছে ধীরগতিতে


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ১৭/০৭/২০২১ , ১০:৫৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


আসাদুজ্জামান আসাদ: ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালটি নানা সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে।প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার ভরসাস্থল এই হাসপাতালের সমস্যাও যেন করোনার প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে ফুটে ‍উঠছে জনসম্মুখে।

হাসপাতালে নেই সিসিইউ শয্যা। নেই হাই ফ্লু নেজাল ক্যানোলা। ৫০ শয্যার কোভিড ওয়ার্ডের কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৩০টি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলছে ধীরগতিতে। করোনার দাপটের মুখে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবা কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

গত ৪জুলাই সকালে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায়, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় দৈন্যদশার চিত্র উঠে আসে। এই অবস্থাতে ৫০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী এলে তাদেরকে সামলানো কঠিন হয়ে যাবে বলে সভায় জানানো হয়।
৫০ শয্যার কোভিড ওয়ার্ড শুধু কাগজপত্রেই। বাস্তবে সেখানে শয্যা রয়েছে ৩০টি। সভায় এক কর্মকর্তা অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন কাজের ধীরগতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-‘এটা রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ না। যে ইচ্ছেমতো করলাম।’ ৩ মাস আগে এই প্লান্টের কাজ শুরু হয় বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত প্লান্ট বসানোর জন্যে ঘর বানানোর কাজই শেষ হয়নি। কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্সএন্ড পেনডামিক প্রিপারনেস প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই প্লান্ট স্থাপন হচ্ছে। স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই কাজ করছে। এবিষয়ে স্পেকট্রাকে সার্বিক সহায়তা করার জন্যে গত বছরের ১৪ই ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের পরিচালক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দেন। কিন্তু কাজের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে অন্ধকারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কাজ কবে শেষ হবে, কি কাজ হবে তার কোন কিছুই জানা নেই তাদের।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ফাহমিদুর রহমান শাকিল জানান, এখন প্ল্যান্ট রুম বানানোর কাজ হচ্ছে। জুলাই বা আগষ্টের প্রথমে লিক্যুয়িড ট্যাঙ্ক বসানো শেষ হবে। লাইন এবং দেড়শো আউটলেট পয়েন্ট বসানোর কাজ করছেন তারা।

এদিকে কোভিড ওয়ার্ডের বিশৃঙ্খল অবস্থা, কোভিড ওয়ার্ডে অবাধে লোকজন আসা যাওয়া করছে, বাইরে গিয়ে ঘুরাফেরা করছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করে সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। তবে বৈঠকে আলোচনার পরদিন থেকে কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়মকানুন কড়াকড়ি করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান। সেখানে ৩ জন সিকিউরিটি গার্ড বসানো হয়েছে যাতে কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারে। আরো ৬টি বেড বাড়িয়ে এখন ৩৬ বেড করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন মো.একরাম উল্লাহ জানান, আইসিইউ বেডের জন্য করোনা সংক্রমনের শুরু থেকেই তারা লিখছেন। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী এ জেলায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হতে থাকলেও করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি অনেক। রোগীদের উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা নেই। এছাড়া আক্রান্ত রোগীর ফুসফুস কত শতাংশ পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে, সেটি জানার জন্য সিটি স্ক্যান ও পোর্টেবল এক্স-রে সুবিধাও নেই । ফলে আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাদেরকে ঢাকায় রেফার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই কর্তৃপক্ষের।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: