আজ: ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৮:৪২
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ, বাংলাদেশ বজ্রপাতে একদিনে ১৭ জনের মৃত্যু !

বজ্রপাতে একদিনে ১৭ জনের মৃত্যু !


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ০৮/০৬/২০২১ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ,বাংলাদেশ


গত এক দশকে ঝড়, বন্যা বা অন্য কোন দুর্যোগের তুলনায় বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে সরকার বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা দেয়। বজ্রপাতের ঘটনা প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে তালগাছের চারা লাগানো হয়েছে। কিন্তু এ ব্যবস্থা সময়সাপেক্ষ। আবহাওয়াবিদরা বলেন, কৃষককে তো ধান কাটতেই হবে, মাঠে যেতেই হবে। কিন্তু বজ্রপাতের প্রকোপ কমাতে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এসব অঞ্চলে মুঠোফোনের টাওয়ারে লাইটেনিং এরস্টোর লাগিয়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো যায়। মুঠোফোন কোম্পানিগুলো তাদের কর্পোরেট দায়িত্বের অংশ হিসেবে কাজটি করতে পারে। পল্লী বিদ্যুত ও সীমান্ত রক্ষীদের সব স্থাপনায় কমবেশি এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর, বুয়েট, দুর্যোগ ফোরাম, গণমাধ্যমের তথ্য ও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হিসাব মতে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বজ্রপাতে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে জনসচেতনতা সবচেয়ে জরুরী। বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে করণীয় বিষয় পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বজ্রপাতের নানা কারণ ॥ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর বজ্রপাতে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটে। এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে বায়ুম-লে অস্থিরতা সৃষ্টি। শীত মৌসুমে দেশে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত হয়নি। শীত পরবর্তী সময়ে ছিল না স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত। আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক অবস্থা বায়ুম-লে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। আর বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ঘূর্ণিঝড়ের মতোই ভয়ঙ্কর হতে পারে বজ্রপাত। একটি ঘূর্ণিঝড়ে যে সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটে, বজ্রপাতের কারণে তার চেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটতে পারে। গত ৬ বছরের পরিসংখ্যান তা প্রমাণ করে। ঘূর্ণিঝড়ে একই সময়ে একই জায়গায় অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটে থাকে। আর বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষতির শিকার হয়। তাই বজ্রপাতের ভয়াবহতা খুব বেশি মানুষের চোখে পড়ে না। বাংলাদেশে বজ্রপাতের ওপর তেমন কোন গবেষণা নেই। তবে ইউরোপ, জাপান ও আমেরিকায় এ বিষয়টি নিয়ে বড় বড় গবেষণা চলছে। ২০০৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠিত ২৯তম ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন লাইটিং প্রটেকশন’ শীর্ষক সম্মেলনে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কলিন প্রাইস তার ‘থান্ডারস্টর্ম, লাইটিং এ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। সেই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণ তথা পরিবেশ দূষণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বজ্রপাতের। বজ্রপাতে একদিকে যেমন বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বেড়েছে পরিবেশে বজ্রপাতের হার ও তীব্রতা। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, আবহাওয়া সম্পর্কিত দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বজ্রপাত। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সাপ্তাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে বজ্রঝড়।

 

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: