আজ: ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৮:১৩
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে ইমরুল কায়েসের জন্য ভালোবাসা

ইমরুল কায়েসের জন্য ভালোবাসা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ২৯/০৫/২০২১ , ১:২৫ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে


তাসকিনকে সামনাসামনি কাদতে দেখেছি একবার। কিন্ত ইমরুল কায়েসকে কখনো সামনাসামনি কাদতে দেখিনি। কিন্ত প্রচন্ড মন খারাপ করতে দেখেছি বহুবার। ঐ মন খারাপ কান্নাকেও ছাড়িয়ে যায়।
হ্যা একজন ইমরুল কায়েস কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ট্রল হয়, মজা করে ব্রো বলে ডাকা হয়৷ কিন্ত এই লোকটার মত ধৈর্য্যশীল মানুষ কমেই দেখেছি।
তিনি ঠিক গ্লামারাস ক্রিকেটার নন। হাতে ট্যাটু নেই, সেঞ্চুরি করলে ব্যাট উচু করে কোহলির মত চুম্বন ছুড়ে দেন না। তার কোন প্রেমের গল্প নেই। কোন তরুনী তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন বলেও জানা নেই। মাঠে বা মাঠের বাইরে তার দুরন্তপনা নিয়ে কোন নিউজ হয়না, কিন্ত এই লোকটা পরিশ্রম করে যান নিজের মত করে।
তাসকিনকে তবু চোখের জলে মনের কষ্ট দূর করতে দেখেছি । কিন্ত একজন ইমরুল কায়েস? এই লোক অন্য ধাতুতে গড়া। দাতে দাত চেপে বুকে কষ্ট ধারন করে, লড়াই করে যান ফিট থাকার লড়াই। ঝিনুক…নীরবে মুক্তা ফলায়। তিনি জানেন না কখন টিমে ডাক পাবেন আবার কখন বাদ পড়বেন। শুধু সব সময় নীলকন্ঠি হয়ে সমালোচনার বিষ হজম করে নিজেকে ফিট রাখেন ” এই বুঝি টিম থেকে ডাক এলো “।
কিন্ত নির্বাচকরা লোকটার ক্যারিয়ার নিয়ে যা করেছেন তা নাটক বললেও ভুল হবে। বলতে হবে ” পূর্নদৈর্ঘ্য তামাশা ” করেছেন। তবু সব ভুলে এই লোক নিজেকে আবার কিভাবে টিমে ফেরার তাগিদ দেওয়ার ধৈর্য্য রাখেন তা এক রহস্য বটে!
লাল সবুজ জার্সিটার জন্য তবু নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখেন যেন দেশের প্রয়োজনে লড়তে জানেন। দুদিন পর সবাই যখন এই সিরিজ ভুলে যাবে ইমরুলের একার নীরব লড়াই হবে আবার টিমে ফেরার লড়াই। লোকটা সারা ক্যারিয়ারে এই লড়াইটাই করে গেল। ধীর স্থির মনে, নিশ্চিন্ত মনে খেলার গ্যারান্টি আর পেলোনা। এক ম্যাচ খারাপ মানেই যে তার দল থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা!
কে কি ভাববেন জানিনা। মাঝেমধ্যে মনে হয় ওপেনিং জুটিতে কায়েস, তামিমের সাথে নিয়মিত সুযোগ পেলে বাংলাদেশের ওপেনিং সমস্যা যেত। তামিম -কায়েসকেই মনে হয় পারফেক্ট ওপেনিং জুটি।
কায়েস আবার দলে ফিরবেন কিনা জানিনা। তবু একজন দুর্ভাগা, নীরব অভিমানি, পরিশ্রমি, ধৈর্য্যশীল ইমরুল কায়েসের জন্য ভালোবাসা।
লিখেছেন: দিবাকর বিশ্বাস

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: