আজ: ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৮:১৯
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে ইভ্যালি থেকে নিরাপদে থাকুন: আপনার টাকা ভালো থাকুক,নিরাপদে থাকুক

ইভ্যালি থেকে নিরাপদে থাকুন: আপনার টাকা ভালো থাকুক,নিরাপদে থাকুক


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ২১/০৫/২০২১ , ১০:৪২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে


ইভ্যালির আড়ালে কারা অগণিত ব্ল্যাক মানি হোয়াইট করে নিচ্ছেন সেটা অনেকের জানা। এই হাই ভোল্টেজ পোর্টফলিও সম্পন্ন মানুষগুলো নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও ঠিকমতো খেতে পারতেন কিনা সন্দেহ আছে। ‘আলাদীনের প্রদীপ’ আরব্য রজনীর গল্পে দেখেছিলাম। এখন তো ব্যাপারটা একেবারেই ট্রান্সপারেন্ট! সুবিধাবঞ্চিত ছাত্র হিসেবে যাঁরা এককালে লায়ন্স স্কুলে পড়েছিলেন, তাঁরা মাত্র ১২ বছরে (২০০৯- ২০২১) এতো পরিমাণ টাকা আর্ন করেছেন যে,সেই টাকা দেশে জমা রাখার মতো কোনো ব্যাংক আর অবশিষ্ট নেই।
বলা হচ্ছে ইভ্যালি এই দেশের মানুষকে ই-কমার্স শিখিয়েছে। আমার ভাবতে অবাক লাগে এটা দেখে,এই দেশের শিক্ষিত শ্রেণির বিশাল এক গোষ্ঠী কীভাবে মানুষ থেকে ছাগল হয়ে যাচ্ছে। এঁদের বোধবুদ্ধি না হয় শূন্যের কোঠায়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই বি এর কোনো শিক্ষক যখন ইভ্যালির পক্ষে সাফাই গায় তখন সেটা দেখে আমার আফসোস হয়। টাকার কাছে নাকি ঈশ্বরও নত হয়!
একটা উদাহরণ দেখুন। ইভ্যালি টিভিএস আর টি আর ১৬০ সিসি মটর সাইকেল দিচ্ছে ৯৮ হাজার টাকায়। এই মটর সাইকেলের অথরাইজড শোরুম প্রাইস হচ্ছে এক লাখ পঁচাশি হাজার। এইখানে ৮৭ হাজার টাকার ব্যবধান! এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শোরুম একটা মটর সাইকেল কতো মার্জিনে বিক্রি করে? কাস্টমস ডিউটি, সি এন এফ, ভ্যাট এবং ট্যাক্স ইনক্লুড করে একটা মটর সাইকেল আমদানি করতে প্রায় এক লাখ পনেরো হাজার টাকা খরচ হয়। তাহলে সেই মটর সাইকেল কীভাবে ৯৮ হাজারে বিক্রি করে? শুধু মটর সাইকেল নয়,মোবাইল, এসি,টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর সহ সকল পণ্য যেই দামে ইভ্যালি অফার করে সেটা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও সম্ভব নয়। কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যদি এই ভাবে পণ্য বিক্রি করে তাহলে রতন টাটা,গোদরেজ,কিংবা ইউনিলিভারের মতো কোম্পানি মাত্র দুই বছরেই দেউলিয়া হয়ে যাবে। কিন্তু ইভ্যালি পারছে কীভাবে?
এই দেশের একদল শিক্ষিত কিন্তু মূর্খ লোকেরা যেটা বলে সেটা হচ্ছে, ইভ্যালিতে আগে টাকা ডিপোজিট করতে হয়। সেই টাকা তাঁরা অন্য সেক্টরে বিনিয়োগ করে যেই লাভ করে সেই লাভ থেকে সমন্বয় করে কম দামে ইভ্যালি পণ্য বিক্রি করে। মানুষ কতটা গাধা হলে এই লজিক বিশ্বাস করে! যেখানে দেশের সকল ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিটে সুদের হার নামিয়ে এনেছে,যেখানে লাখ টাকায় সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা সুদও দেওয়া হয় না, সেখানে ইভ্যালি লাখ টাকা তিন মাস বিনিয়োগ করে ৪৫ পার্সেন্ট প্রফিট করে। কী অদ্ভুত তাই না? তিন মাসে বিনিয়োগ করে যদি ৪৫ শতাংশ প্রফিট করা যায় তাহলে তো এই পৃথিবীর সকল ব্যাবসা বিল গেটস,আম্বানিরা দখল করে নিতেন।
আপনাদের ডেস্টেনি,ইউনিপের কথা তো মনে আছে। সেখানে কী হয়েছিল? এই দেশের ব্যাবসা বানিজ্যের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই বি এর স্টুডেন্টদের হাতে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ভাইটাল পজিশনে তাঁরা বসে আছে। অন্যদিকে ICAB,ICMAB মারাত্মক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে। আমি মার্কেটিং এর উপরে এম বি এ করেছি। হিসাববিজ্ঞানে পড়েছি। আই সি এম এ ও সফল ভাবে সম্পন্ন করেছি। তারপরও নিজেকে অপদার্থ মূর্খ মনে করি। আমি ওপেনে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। এই দেশের আই বি এর কোনো শিক্ষক, ছাত্র,চার্টাড একাউন্ট্যান্ট, এফ সি এম এ হোল্ডার যদি ইভ্যালির ই-কমার্সের ব্যাপারে একটা পজিটিভ স্টেটমেন্ট দিতে পারে এবং সেই সাথে আমার লজিককে উড়িয়ে দিতে পারে তাহলে কথা দিচ্ছি,এই অনলাইন চিরদিনের জন্য ত্যাগ করব।
দেশের বাঘা বাঘা সেলিব্রিটি ইভ্যালি থেকে যেই মোটা অংকের অবিশ্বাস্য রকমের অর্থ প্রাপ্ত হচ্ছেন সেটা দেখে আপনি উদ্ভুদ্ধ হবেন না প্লিজ। এইসব সেলিব্রিটি ওয়ান কাইন্ড অফ বেশ্যা। বেশ্যার কাজ হচ্ছে তাঁর কাস্টমারকে সন্তুষ্ট করা। যেহেতু সেলিব্রিটিদের মানুষ ফলো করে সেহেতু তাঁরা ভোক্তাদের জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। আপনি এই ষ্টুপিড সেলিব্রিটিদের কথায় কান দিবেন না। মাথায় রাখুন,যদি এইভাবে এতো কম টাকায় পণ্য পাওয়া যায় তাহলে ইউরোপ, আমেরিকা এমনকি ভারতেও একই পলিসি শুরু হতো। সেইসব দেশের ই কমার্স সম্পর্কে জানতে আপনাকে কারোর কাছে ধর্না দিতে হবে না। গুগোলই আপনাকে সকল রকমের সাপোর্ট দিতে পারবে।
আজ ৪৫ হাজার টাকার সেল ফোন ২৩ হাজার টাকায় কিনে যাঁরা লাফাচ্ছেন তাঁরা তৈরি থাকুন। আপনি না হলেও কেউ-না-কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হবেই হবে। যদি না হয় তাহলে এই পৃথিবীর ব্যাবসা বানিজ্য নিয়ে যাঁরা দিন রাত গবেষণা করে যাচ্ছেন,যাঁরা লিড দিচ্ছেন তাঁদের সকল পড়াশোনা, গবেষণা মিথ্য হয়ে যাবে। মাথায় রাখুন,সামান্য ৩২ টাকা মূল্যের একটা সাবান কোম্পানি কোনোভাবেই আপনাকে ১৬ টাকায় দিবে না। কিন্তু ইভ্যালি দিচ্ছে! খুব বেশী দেরি নেই। এই হায় হায় কোম্পানি অচিরেই এই দেশের কয়েক কোটি গ্রাহকদের পথে বসাবে। দিন শেষে ইভ্যালির সি ই ও মোঃ রাসেলের ছিদ্রপথে বাঁশ ঢুকাবে সরকার। অন্যদিকে শেখ পরিবার প্রাইভেট লিমিটেড এবং এঁদের কিছু চ্যালা যাঁরা হাজার কোটি ব্ল্যাক মানি হোয়াইট করে নিচ্ছে তাঁরা থাকবে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
একটু বুদ্ধি খাটান প্রিয় বন্ধুরা। আপনার টাকা ভালো থাকুক,নিরাপদে থাকুক। এখানে আমার কোনো ব্যক্তি স্বার্থ জড়িত নেই। ই কমার্সের নামে ইভ্যালি যেটা করছে সেটা কোনোভাবেই ই-কমার্স নয়। প্লিজ,সতর্ক থাকুন। কম দামে কিংবা ফ্রি পাওয়ার লোভ ত্যাগ করুন। আপনার বাড়ির সামান্য একটা দেশী মুরগী, যেটার ওজন দুই কেজি,সেই মুরগী কি আপনি বাজারে ব্রয়লারের দামে (১৩০ কেজি দরে) বিক্রি করবেন?

লিখেছেন: মোসাদ্দিক উজ্জ্বল

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: