আজ: ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ১১:১৫
সর্বশেষ সংবাদ
সাহিত্য মুহাম্মাদ তামিম এর ছোট গল্প: নাড়ীর টানে

মুহাম্মাদ তামিম এর ছোট গল্প: নাড়ীর টানে


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ০৪/০৫/২০২১ , ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: সাহিত্য


()

ঘড়িতে দুপুর সোয়া একটা। জোহরের আজান দিচ্ছে।স্থানীয় সময় একটা পাচেঁ জোহরের আজান দেয়।ঘড়িটা দশ মিনিট আগানো।গতকালই ঘড়িটা ঠিক করে দিয়ে গিয়েছিলো অর্নব।ঘড়িটা ঠিক করার পর ডাইনিং টেবিলের চেয়ারটার উপর দাঁড়িয়ে ঘড়ি হাতে জানতে চেয়েছিলো কয়টা বাজে।অভ্যাশবশত মোবাইল থেকে অরজিনাল সময়টা দেখে দশ মিনিট বাড়িয়ে ছেলেকে ছেলেকে সময় বলেছিলেন ফারজানা জামান কলি।ভোরবেলা উঠে সবকিছু গোজগাজ করে স্কুলে যেতে হবে ক্লাস নিতে।কিন্তু কলি ম্যাডাম ভুলে গিয়েছিলেন যে তাকে আর আগের মতো নিয়মিত ক্লাস নিতে যেতে হয় না।

একটু আগে ভাত খেতে বসেছেন।প্লেটে নরম ভাত আর অপটু হাতে রান্না করা বেগুন আর চিংড়ির তরকারি।যদিও কলি ম্যাডামের প্রিয় খাবার কিন্তু একটুও মুখে দিতে পারছেন না।একেতো নরম ভাত তিনি মুখে দিতেই পারেন না,তার উপর তরকারিতে রসুনটা বেশি হয়ে গেছে।ঝাল তো বলতে গেলে হয়ই নি।কিন্তু তারপরও খাবারটা খাওয়ার যোগ্য,মনে মনে ভাবলেন কলি ম্যাডাম।তাছাড়া বর্তমানে উনার শরীরের যে অবস্থা তাতে করে উনাকে রসগোল্লা এনে দিলেও মুখে রোচবে না। সেটা অবশ্য উনি এমনিতেই পছন্দ করেন না।মিস্টি জিনিস উনার দুচোখের বিষ।তাছাড়া অর্নব অনেক কষ্ট করে রোজা রেখে রেঁধে দিয়ে গেছে।ওর কষ্টের কথা চিন্তা করে হলেও খেতে উনাকে হবেই।তাছাড়া ছোটবেলায় কলি ম্যাডামের নানি উনাকে প্রায়ই একটা কথা বলতো,”কষ্ট করে বর্ডারের ওইপার দিয়ে দিতে!”অর্থাৎ কোনোমতে গলার ওইপারে ঢেলে দেওয়া।পেটে গেলেই কাজে দিবে।

কোনওমতে খাওয়াটা শেষ করে নামাজ পড়তে চলে গেলেন।রমজানের মাস,অসুস্থতার কারণে রোজাগুলো হয়তো রাখতে পারছেন না, কিন্তু নামাজটা পড়তেই হবে।এক্ষেত্রে কোনও ওজর চলে না।জীবন থেকে কোনও কিছু আশা করা ছেড়ে দিয়েছেন দশ বছর আগেই যখন অর্নবের বাবা তাকে ডিভোর্স দিয়ে তাদের ঘরের কাজের মেয়েকে বিয়ে করে।কলি ম্যাডামের জন্য এটা একটা বড় ধরনের অপমান ছিলো।উনার আত্মসম্মান মারাত্মক ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলো।এখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসব ব্যাপারগুলো ভাবলে ম্যাডামের হাসিই পায়।ভাবতে থাকেন,”হায়রে,কি কপাল কাজের মেয়েটার।চাকরাণী থেকে রীতিমতো রাজরাণী হয়ে গেলো মেয়েটা।

কলি ম্যাডাম জানেন তার জীবনে খুব বেশি দিন আর বাকি নেই।আগামীকাল ৩৮ বছর বয়সে পা দিবেন তিনি।অথচ কতটা আশা,কতটা সাহস,আর অনুপ্রেরণা নিয়ে অর্নবের বাবার সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে সিঙ্গেল মাদার হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন।ছাত্রজীবনে ভাইয়ের মতো বেশ মেধাবী ছিলেন কলি ম্যাডাম।কলি ম্যাডামের ভাই হাভার্ডে পড়াশুনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।কলি ম্যাডামও সেরকম লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছিলেন।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স এবং মাস্টার্স।তাও আবার ফার্স্ট ক্লাস।কিন্তু অর্নবের বাবার সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর সব উচ্চাশা ভুলে যান।মনে মনে ঠিক করেন ছেলেকে মানুষ করে বিয়ে দিয়ে তারপর উনার ছুটি।এক সরকারি প্রাইমারি স্কুলে চাকরি পেয়ে যান।সবকিছু ঠিকমতোই যাচ্ছিলো।হঠাৎ একদিন ঝড় আসে।

কলি ম্যাডামের এখনও মনে পড়ে। অন্যান্য সব দিনের মতোই ছিলো দিনটি।ম্যাডাম টানা পাঁচ ক্লাস নিয়ে টিফিন টাইমে টিচার্স রুমে বসেছেন।হঠাৎ করেই কোমরের বাঁপাশটায় প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করেচন।কোমরের এই জায়গাটায় দীর্ঘ একমাস ধরেই হালকা চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করে আসছিলেন।কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলেন ডাক্তার দেখানোর কথা।কিন্তু ক্লাস আর পরীক্ষারে খাতা দেখার ব্যাস্ততায় সময় হয়ে উঠে নি।তৎক্ষণাৎই উবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো।কয়েকটা টেস্ট দেওয়া হলো।টেস্টের রেজাল্ট পজেটিভ আসলো।কলি ম্যাডাম ভাবলেন তার শরীর ঠিক আছে।সিরিয়াস কিছু হয় নি।এরপর তিনি নিয়মিত ক্লাস করাতে লাগলেন।কিন্তু তার শারিরিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিলো ক্রমাগত।একদিন কলি ম্যাডামের ভাই দেশে এসে ম্যাডামের এ অবস্থা দেখে উনাকে তারভ পরিচিত এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। সেখানে চঞ্চল্যকর এক তথ্য প্রকাশ পায়।

কলি ম্যাডামের পেটে টিউমার ছিলো।যেদিন স্কুলে উনার কোমরে ব্যাথা উঠে সেদিনই উনার টিউমার ব্লাস্ট হয়।হাসপাতালের যে রিপোরটটিকে উনি পজেটিভ ভেবেছিলেন,সেটার অর্থ ছিলো টিউমারের চিকিৎসা করানোর জন্য পজেটিভ।আর এতিদিনে চিকিৎসা না নেওয়ায় উনার সারা শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে গেছে।

অনতিবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হলেন তিনি।দুবছর ধরে ট্রিটমেন্ট চলছে।চলতি বছর ভারত থেকে দেখিয়ে এনেছিলেন।সেখান থেকে রিলিজ দেওয়া হলো।কলি ম্যাডাম বুঝে গেলেন,”আল্লাহ যে কয়দিন রাখে!”জীবন থেকে যে এতো দ্রুত বিদায় নিতে হচ্ছে এর জন্য তিনি ব্যাথীত নন।তার ছেলে অর্নব বুয়েটে পড়ছে।ওকে নিয়ে আপাতত কোনও চিন্তা নেই।বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুরনামেন্টে তার দলের হয়ে অসাধারণ খেলেছে অর্নব।বিনিময়ে দশ বছরের জন্য অর্নবের শিক্ষার সব খরচ নিতে রাজি হয় তার দলের স্পন্সর।অবশ্য বিনিময়ে দলটির সাথে দশ বছরের চুক্তিও করে অর্নব।এগুলো দুই বছর আগের ঘটনা।অর্নব এখন বুয়েটের ফার্স্ট সেমিস্টার শেষ করলো।ও এখন আগের তুলনায় অনেক পরিপক্ক্ব এবং স্বাবলম্বীও বটে।আর বিশেষ দরকারে অর্নবের মামা আছেন।অর্নবের জীবনটা যেন সুন্দর হয়,নামাজ পরে সেই প্রার্থনাটাই করেন তিনি।

নামাজ পড়ার জন্য কোনওমতে শরীরটাকে উঠালেন তিনি।ওয়াশরুমে যেতেই আয়নার দিকে চোখ পড়লো।কিশোরী থাকতে যেরকম সুন্দর ছিলেন,সেসব সৌন্দর্য্যের ছিটেফোটাঁও নেই।অবাক নয়নে তাকিয়ে আছেন আয়নার অবয়বটির দিকে।ভার্সিটিতে থাকতে উনাকে একটা ছেলে প্রপোজ করেছিল।উনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।সেই ছেলে এখন জগন্নাথের লেকচারার।তার সাথে বিয়ে হলেই হয়তো ভালো হত।ভাবনাটা আসার সাথে সাথেই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিলেন তিনি।ওই ছেলের সাথে বিয়ে হলে অর্নবের মতো লক্ষী ছেলে তিনি পেতেন না।

 

()

  • সরি,লেট হয়ে গেলো!
  • ইটস ওকে।
  • তুমি রাগ করে বলছো।
  • রাগ করতে যাবো কেন আজব!এক ঘন্টা আগে আসতে বলেছিলে,তুমি এসেছ একঘন্টা পর,আমারই তো দায় তোমার সাথে দেখা করার,তাই না?
  • আরে কি আর বলবো,এমন এক স্টুডেন্ট পেলাম পুরোই ফাঁকিবাজ।ওকে পড়া বুঝিয়ে দিতে দিতেই…………

এই কথোপকথনের পনের মিনিটের পর নীলার রাগ ভাঙাতে সক্ষম হয় অর্নব।নীলা অর্নবের খুবই ভালো বন্ধু ক্লাস থ্রী থেকেই।সিক্সে অর্নব ক্যাডেটে চান্স পেয়ে হোস্টেলে চলে গেলেও তাদের বন্ধুত্বে এতটুকুও ফাটল ধরে নি,দুরত্ব তৈরী হয় নি।ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বের উর্ধ্বে চলে যায় নিজেদের অজান্তেই।দুজনই দুজনের প্রতি ফীল করে।কিন্তু,এখনো মুখ ফুটে কিছু বলে নি।শুধুমাত্র একে অপরের সঙ্গ পছন্দ করা,এইটুকুই।

  • নীলা তোমায় একটা অনুরোধ করবো,রাখবে?
  • কি অনুরোধ? আমাকে বউ বানাবে………

বলেই খিলখিল করে হাসতে থাকে নীলা।সে হাসিতে বালখিল্যতা দেখতে পায় অর্নব।হাসলে নীলাকে যে এতোটা সুন্দর দেখায়,আগে কখনও খেয়াল করে নি অর্নব।তবে নীলার কথায় লজ্জা পেয়ে যায় অর্নব।ভাবতে থাকে নীলা কি তাকে খোঁচা দিয়ে কথাটা বললো?চুপ করে মাথা নীচু করে রাখে অর্নব।কিছুক্ষণ পর নীরবতা ভেঙে নীলা বলতে থাকে,”আচ্ছা বাবা,আমি সরি! বলো,কি বলবে?”কিছুক্ষণ ইতস্তত করে কথাটা বলে ফেলে অর্নব,”তুমি কি প্রোপার রান্না জানো?মানে খাওয়া যায় এরকম রান্না?

  • হুম সব ধরনের রান্নাই জানি,বাই দ্যা ওয়ে এটা কি ইন্সাল্ট করে বললে না কি?
  • আরে না, মানে বলছিলাম,আমার বাসায় যদি একবেলা রেধে দিয়ে যেতে……মানে আমি তো পুরোপুরি রান্না জানি না।আজ সকালে ভাত আর বেগুন দিয়ে চিংড়ি রেধে দিয়ে এসেছি মার জন্য।আমি চেখে না দেখলেও বুঝতে পারি ওগুলো খাওয়ার অযোগ্য।মা হয়তো আমার কথা ভেবে কষ্ট করে হলেও খাবেন,কিন্তু আমি চাই উনি ভালো কিছু খান।এমন কিছু খান যেটা খাওয়ার যোগ্য।তাই তোমাকে বললাম রান্নার জন্য।আসলে আমার কোনও খালা নেই,দেশেও এমন কোনও আত্মীয়স্বজন নেই যাদেরকে একটু রেধে দেওয়ার জন্য বলতে পারি।আর এই রোজার সময় পাড়া প্রতিবেশীদেরকে একটু রান্না করে দেওয়ার কথা কিভাবে বলি? ওনারা যেখানে নিজেদের রান্না করতেই হিমশিম খায়,সেখানে ওনাদের অনুরোধ করতে বিবেকেও তো লাগে।

কথাটা শুনে কিছুক্ষণ মৌন হয়ে থাকে নীলা।তারপর সুন্দর করে একটা হাসি দিয়ে অর্নবের হাতটা তার কোমল দুটি হাতের মধ্যে পুরে নিয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে,”আন্টির জন্য তিনবেলাই রেধে দিবো।

 

()

 

টিং টং, টিং টং,

চুলায় রান্না বসিয়েছেন কলি ম্যাডাম।কোনওমতে কড়াইয়ের বেগুণিগুলো প্লেটে তুলে রেখে দিয়ে দরজা খুললেন।ততক্ষণে আরও দুবার বেল বেজে গেছে।

দরজা খোলার পর অর্নব কলি ম্যাডামের অবস্থা দেখে অবাক।কপালে চিনচিনে ঘাম,শাড়ির আঁচল কাছা দিয়ে কোমরে গোজা,হাতে মুখে ছোপ ছোপ হলদেটে দাগ লেগে রয়েছে।পানিতে গুলানো ভেসন।কলি ম্যাডাম নীলাকে স্বাগত জানিয়ে ভিতরে আসতে বললেন।অর্নব বলতে থাকে,”মা, হুসনা খালা আসে নাই আজকে?”

  • আরে হুসনাকে আমিই বলেছি আজ খালি থালাবাটি মেঁজে আর ঘরটা মুছে চলে যেতে।বেচারার তো ঘরে গিয়ে ইফতার বানাতে হবে।তাছাড়া,ভাবলাম তোর জন্য কিছু বানাই আজ।তুই তো ঘরে বানানো ইফতারি খেতে পছন্দ করিস অনেক।
  • কিন্তু, তোমার শরীর!
  • আরে আমি ভালো আছি।তুই নিজের অবস্থা দেখ,গোসল নাই,চুল দাড়ি একাকার অবস্থা।দেবদাস হয়ে গেছিস রীতিমতো।

এমন সময় নীলাও কলি ম্যাডামের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে বলে,”ঠিক বলেছেন আন্টি।অর্নব জঙ্গল হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন।সমর্থন পেয়ে নীলা ম্যাডাম বললেন,”এই যা! এক্ষুণি চুল দাড়ি কেটে মানুষ হয়ে আয়।অর্নব মৃদুস্বরে প্রতিবাদের চেষ্টা করে,”ইয়ে মানে, রোজার মাসে দাড়ি কাটবো!”কিন্তু অর্নবের প্রতিবাদ ধোপে টিকলো না।অ্যাঁই! হোসেন খান্দানের মহিলা আমি,আমাকে ধর্মীয় জ্ঞান দিবি না।দাড়ি রাখবি ভালো কথা,তাই বলে এভাবে জঙ্গলের মতো কেন? দাড়ি একটু সাইজ তো করে রাখে মানুষ”,কলি ম্যাডাম বলেন।

অর্নব চলে যায় সেলুনের উদ্দ্যেশ্যে।সে বুঝে গেছে দুই ললনা এক হয়েছে।এখানে তার আর কিছুই করার নেই।পরাজিত সৈনিক সে এখন।অর্নব যাওয়ার পর ওড়না দিয়ে কোমরে কাছা বেঁধে অর্নবের মাকে সাহায্য করতে লেগে যায় নীলা।নীলার কর্মদক্ষতায় অবাক হয়ে যান কলি ম্যাডাম।কি গুণী মেয়ে! ,মনে মনে ভাবলেন তিনি।এরকম একটা মেয়ে অর্নবের বউ হলে মন্দ হয় না।কিন্তু আফসোস অতোদিন সময় তার হাতে নেই।ইতস্তত করতে করতে প্রশ্নটা এক সময় করেই ফেললেন।নীলা মা!”,ডাকলেন তিনি নীলাকে।পেঁইয়াজ কাঠছিলো নীলা,কলি ম্যাডামের ডাকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো।কিছু বলবেন আন্টি?”,বললো সে।

  • কিছু যদি মনে না করো মা,একটা কথা বলি?
  • সে কি! মনে করতে যাবো কেন আন্টি?আপনি বলুন আন্টি।
  • আমার পাগল জঙ্গলী ছেলেটাকে তোমার কেমন লাগে?

জবাবে মাথা নীচু করে থাকে নীলা,মুখে হালকা হাসি হাসি ভাব।কলি ম্যাডাম বুঝে গেছেন।নীলার চিবুক উপরের দিকে তুলে আস্তে করে বললেন,”আমার ছেলেটাকে দেখেশুনে রাখতে পারবি তো?”নীলা আবার মাথা নীচু করে ফেলে।আস্তে করে বলে,”পারবো মা!”

 

()

 

আজ ২৩শে রমজান গেলো।ঈদের আর এক সপ্তাহের মতো বাকি।এই ঈদে অর্নবকে সব সামলাতে হবে।দুই বছর ধরে অর্নবের মামা আমেরিকা থেকে চলে এসে এগুলো সামলাতেন।এবছর অর্নবের মামা আসবেন ঈদের পরের দিন।একটা সমস্যায় আটকে গেছেন বলে ঈদের আগে আসতে পারছেন না।

আজ স্কুলে যেতে হয়েছিলো।হ্যাঁ,অসুস্থ এবং এক হিসেবে চলনে অক্ষম হওয়ার পরও তিনি চাকরীতে বহাল আছেন।আর এজন্য কলি ম্যাডামের সহকর্মীদের অবদান অনেক এবং স্কুলের হেডমাস্টার এটাতে একটা বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।কলি ম্যাডামের শরীরে যখন ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে,তখন হেডমাস্টার সাহেব টিচারদের সাথে নিয়ে মিটিং ডাকেন এবং সেখানে তিনি একটা প্রস্তাবনা দেন।কলি ম্যাডাম যে অসুস্থ সেটা সবাই গোপন রাখবে।উনি উনার মতো চিকিৎসা নিতে থাকুক,রেস্ট নিতে থাকুক।উনি যেন উনার স্যালারীটা পান।প্রতিদিন এসে খালি হাজিরাটা দিয়ে যাবেন।যখন সরকারি কোনও লোক ভিজিটিংয়ে আসবেন,তখন তিনি নাহয় পুর্নাঙ্গ সময়ের জন্য উপস্থিত থাকবেন।

এতোদিন এভাবেই এডজাস্ট করে চলে আসছেন।অবশ্য উনাকে সাহায্য করতে গিয়ে উনার সহকর্মীদের একটু কষ্টই হয়েছে বলতে গেলে।কলি ম্যাডামের প্রক্সি ক্লাসগুলো নেওয়া,কলি ম্যাডামের খাতাগুলো দেখা ইত্যাদি।সেসময় অর্নব সবেমাত্র ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে।এখন বুয়েটের প্রথম সেমিস্টার শেষ করেছে অর্নব।ওর পড়াশুনার জন্য আর কোনও চিন্তা নেই।

 

আজ  এক সরকারি অফিসার ভিজিটিংয়ে আসেন স্কুলে।ছাত্রদের আগেই ছুটি হয়ে গিয়েছিলো পাঁচ রোজার পর থেকেই।টিচার এবং অন্যান্য স্টাফদেরও বন্ধ ছিলো।তবে মাঝে মাঝে দাপ্তরিক কিছু প্রয়োজনে এক দুদিন আসা লাগতো স্কুলে।আজ যেহেতু ভিজিটরের আসার কথা,সেহেতু কলি ম্যাডামকেও যেতে হয় স্কুলে।

অফিসে আজ অনেকের বাঁকা দৃষ্টি দেখেছেন তিনি।দেখাটাই স্বাভাবিক।কোনও কাজ না করে খালি হাজিরা দিয়ে বসে বসে বিয়াল্লিশ হাজার টাকার বেতন নিচ্ছেন,অথচ উনার ভাগের কাজগুলো করে দিচ্ছেন অন্য কেউ।মানুষ এক দিন,দুই দিন,তিন দিন কিংবা বড়জোর এক সপ্তাহ সমব্যাথী হতে পারে।কিন্তু প্রায় দুবছর ধরেই এভাবে একরকম বিনাশ্রমে বেতন নিচ্ছেন,সহকর্মীরা এটা সহজভাবে নিবে না স্বাভাবিক।বর্তমান সরকার প্রাইমারি স্কুল শিক্ষকদের বেতন স্কেল বাড়িয়েছে।কলি ম্যাডাম ছোট থাকতে উনার দূর সম্পর্কের এক কাকাকে দেখেছিলেন সাড়ে তিন হাজার বেতনে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করে যেতে।এই বড় অঙ্কের স্যালারিটা নিয়মিত পাওয়ার একটা বন্দোবস্ত করে দেওয়ার কারণে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন তিনি উনার সহকর্মীদের কাছে।বড় অঙ্কের এই স্যালারীটা নিয়মিত পেতেন বলেই সৃষ্টিকর্তার রহমতে খুব একটা দিশেহারা হতে হয়নি কলি ম্যাডামকে।কিন্তু এখন তাকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

রাত এগারোটা,তিনি ঘুমাননি,ঘুমানোর চেষ্টা করছেন।চোখ মুদে চিন্তা করছিলেন।হাবিজাবি সব চিন্তা।যেন আপনমনে রূপকথার গল্প গেথে চলেছেন বিনি সুতোর মালার মতো।অর্নব ছোট থাকলে তাকে ঘুমপাড়ানোর জন্য অনর্গল গল্প বলে যেতে পারতেন।গল্পের আর কোনও অভাব হতো না।কিংবা বাংলায় একটা মৌলিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস লিখলে কেমন হয়? লেখা যায়,কিন্তু উপন্যাসটা শেষ করতে পারবেন তো? ছোটবেলা থেকেই হ্যারি পটার সিরিজের ভক্ত ছিলেন।ইচ্ছে ছিলো বাংলায় মৌলিক ফ্যান্টাসি লিখবেন।কিন্তু সেটা হলো কই? অর্নবের বাবার সাথে ছাড়াছাড়ি হবার পর জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য অনেক বড় বড় আশা জলাঞ্জলি দিয়েছেন।

উনি ভাবছেন,এমন সময় দরজা খোলার আওয়াজ এলো।অর্নব তারাবী নামাজ শেষ করে এসেছে।ডাকলেন অর্নবকে,”বাবা অর্নব,এসেছিস?”

  • হ্যা,মা!
  • একটু বস তো বাবা আমার কাছে।

অর্নব মায়ের শিয়রের কাছে বসে।কলি ম্যাডাম বলতে থাকে,”শোন বাপ,কাল একটু দৌড়াদৌড়ি করতে হবে তোকে।সবার আগে একটা রেজিগনেশন লেটার নিয়ে স্কুলে যাবি।তারপর জনতা ব্যাংকে একটা অ্যাকাউন্ট খুলবি।তারপর তোর টিনা আন্টির কাছে যাবি।উনি তোকে সবকিছু বুঝিয়ে দিবে।উনার কথামতো ব্যাংকের কাজ শেষ করবি।আমি আর কতদিন আছি জানি না।আমি মরার পর ঝামেলায় পড়বি।তারচেয়ে আমি থাকতে থাকতে আগেভাগে সব শেষ করে রাখ।

পিনপতন নীরবতা।অর্নবের চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে।নিঃশব্দে কাঁদছে সে।মাথা নীচু করে বসে আছে সে মায়ের শিয়রের পাশে।একটু পর আস্তে করে কলি ম্যাডাম বললেন,”কাল পারলে তোর বাবাকে একটু ডেকে আনিস,বলিস যে মা খালি একটু কথা বলবে।

আগামীকাল ব্যাস্ত একটা দিন গেলো অর্নবের।

 

()

 

ঈদের চাঁদ দেখা গেছে।আগামীকাল ঈদ।দুদিন ধরে কলি ম্যাডামের শরীরের অবস্থা বেশি একটা ভালো না।তবে আজ একটু ভালো হয়েছে।অর্নবের হাতে টাকা দিয়ে জোর করে মার্কেটে পাঠিয়েছেন।ছেলেমানুষ,স্টাইলিশ না হোক,অন্তত সাধারণ সাদা হলেও নতুন একটা পাঞ্জাবী পড়তে হয় ঈদের দিন।কথাটা আগে মাথায় আসলে নীলাকে বলে অর্নবের সাথে পাঠাতেন।চাঁদরাতে ঘরের কাজ ফেলে নীলার তো আর অর্নবের সাথে যাওয়া সম্ভব না।

রাত দশটা,শুয়ে শুয়ে অর্নবের বাবার সাথে প্রেমের সময়গুলোর কথা ভাবছেন কলি ম্যাডাম।একসাথে কত সুন্দর সময় কাটিয়েছেন,বাদাম খেয়েছেন,বাংলাবাজার থেকে কবিতার বই কিনেছেন,একে অপরকে উপহার দিয়েছেন।কত প্রতিশ্রুতি,সারাজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার।শেষবারের মতো অর্নবের বাবাকে দেখার ইচ্ছে ছিলো।অর্নবের বাবা আসেনি।অর্নব বলেছে সে নাকি বাবাকে বাসায় পায়নি।চেহারা দেখেই কলি ম্যাডাম বুঝে ফেলেছিলেন,অর্নবের বাবা আসতে চায় নি।

আজকের দিনটি কেন জানি বড্ড বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করছে উনার।পৃথিবীর প্রতি মায়াটা যেন ক্রমশই বেড়েই চলেছে।কেন তাকে এতো অল্প বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে? কি অপরাধ ছিলো তার? আর কটা দিন,কটা সপ্তাহ,কটা মাস কিংবা কটা বছর কেন বেঁচে থাকতে পারবেন না।কোন পাপের শাস্তি পাচ্ছেন তিনি? আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে কপালে ঠান্ডা হাতের স্পর্শ অনুভব করলেন তিনি।কে রে! অর্নব?”,বললেন তিনি।

  • হ্যাঁ মা,
  • তোর হাত এতো ঠান্ডা কেনরে বাবা?
  • হুসনার খালা নাকি ফ্রীজে মাংস রেখে গেছিলো,সেই মাংস খুঁজে পাচ্ছিলাম না।মাংসের পুটলাটা খুঁজে বের করার জন্য ফ্রীজের মাছ মাংস ঘাটাঘাটি করছিলাম।
  • ওহ! দে তো কপালটাতে হাত বুলিয়ে,ভালোই তো লাগছে।

অর্নব হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।অর্নবের হাত একসময় গরম হয়ে যায়।ফ্রীজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে বাটিতে ঢেলে সেখানে হাত ডুবিয়ে তারপর কলি ম্যাডামের চোখে মুখে বুলিয়ে দেয়।এক সময় কলি ম্যাডাম বলেনযাও বাবা যাও,তুমি ঘুমাতে যাও,কাল ভোরে উঠতে হবে।

অর্নব যেতে চাইছিলো না।পরে কলি ম্যাডামের জোরাজুরিতে চলে যায়।কলি ম্যাডামের অদ্ভুত এক ধরনের প্রশান্তি হছে।মনে হচ্ছে তিনি যেন হালকা হয়ে গেছেন।জাগতিক সব চাপ থেকে মুক্ত।শরীরটা ঝরঝরে লাগছে।অর্নব যে একটু আগে ঠান্ডা হাতটা বুলিয়ে দিয়ে গেলো,সেজন্যই হয়তো।হঠৎ করেই কলি ম্যাডাম বুঝতে পারলেন সোনার টুকরো এক ছেলে তাকে উপহার দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা।কিন্তু এই সোনার টুকরোকে মাটির পৃথিবীতে রেখে তাকে বিদায় নিতে হবে।

 

 ()

 

খুব ভোরে ঘুম ভাঙলো অর্নবের।আজ যে ঈদের দিন,সেরকম একটা আমেজ ভাসছে চারপাশে।অন্যান্য ঈদে মা সব কিছু রেডি করে তারপর তাকে ডেকে তুলতো।গোসল করে রেডি হয়ে টেবিলে সেমাই,রুটি আর খেজুঁর দেখতে পেতো।বিগত দুই বছর মামী এসে সব করেছে।আজকে সেমাই রুটি বানিয়ে নিয়ে আসবে নীলা।নামাজ শেষ হওয়ার পর বারোটার মধ্যেই বাকি রান্না রেডি করে নিয়ে আসবে নীলা।দুপুর এবং রাতে ঐ রান্না দিয়েই চালানো হবে।মেয়েটা নিজে থেকে রাজী না হলে কে জানে ঈদের দিন দুইটা ভালো খাবার জুটতো কি না! মেয়েটার প্রতি অদ্ভুত এক কৃতজ্ঞতায় মনটা ছেয়ে আসে অর্নবের।

 

গোসল সেরে পাঞ্জাবী টুপি পরে নিলো অর্নব,গায়ে আতর মাখলো।এরপর গেলো মাকে ডাকতে।মায়ের রুমে গিয়ে দেখলো ঘুমিয়ে আছে মা,মুখে প্রসন্ন প্রসন্ন একটা ভাব,সেই সাথে গভীর প্রশান্তির ছায়া।অর্নব আস্তে করে ডাকলো,”মা! মা!, সকাল হলো উঠো…”কলি ম্যাডাম উঠলেন না।অর্নব পুনরায় ডাকলো।কলি ম্যাডামের সাড়া নেই।এবার গায়ে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে ডাকতে শুরু করলো অর্নব।ফলাফল একই।আরও বেশ কয়েকবার ডাকাডাকির পর অর্নব লক্ষ্য করলো তার মা একটা উহু পর্যন্ত করছে না।অজানা আশঙ্কায় অর্নবের বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠলো।কাপা কাপা হাতে কলি ম্যাডামের নাড়ী টিপে দেখে,

সবকিছু শেষ……!

 

()

 

টিং টং, টিং টং!

শরীর এবং মনের শেষ শক্তিটুকু নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে দরজাটা খুলে অর্নব।হাতে মাঝারি সাইজের টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে ঘরে ঢুকতে থাকে নীলা।ডাইনিং টেবিলের উপর খাবারগুলো টিফিন ক্যারিয়ার থেকে বাটিতে ঢালতে থাকে।টেবিল সাজিয়ে কলি ম্যাডামের রুমে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলার ব্যার্থ প্রচেষ্টা করতে থাকে।অর্নব ধীরে ধীরে একপাশে এসে দাড়ায়।আস্তে করে বলে,”মা আর নেই নীলা!”

পিনপতন নীরবতা।বেশ কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর অর্নব আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না,কান্নায় ভেঙে পড়ে।যেন তিন দিন ধরে জমে থাকে মেঘ থেকে অবিরাম ঝড়ছে জলধারা।নীলা অর্নবের চোখের পানি মুছে দেয়।অর্নবের মাথাটা কোলের কাছে নিয়ে বিলি কেটে দেয় আর বলতে থাকে,”থাক বাবা কিছু হয় নি,কাঁদে না,কাঁদে না!”ঠিক যেন কোনও মা তার সন্তানকে কোলে মাথা পেতে শুইয়ে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে,আর শান্তনা দিচ্ছে।

 

()

 

১০ বছর পর,

অর্নব হাভার্ডে পড়াশুনা করছে,অ্যাটমিক স্পিনের উপর।ওর মায়ের স্বপ্ন ছিলো হাভার্ডে পড়ার।বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সে স্বপ্ন পুরণ হয় নি।অর্নব মায়ের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন হিসেবে ধরে নেয়।অবশ্য এর জন্য ওকে সার্বক্ষণিক অনুপ্রাণিত করেছে নীলা।আগামী মাসের ১০ তারিখ নীলার সাথে ওর এংগেইজমেন্ট।জীবনের প্রতিটি ধাপেই নীলা ছিলো অর্নবের পাশে ছায়ার মতো।তবে;একটা কাজের জন্য নীলার প্রতি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে অর্নব।এক ঈদের সকালে অর্নব দেখে তার মা আর নেই।সে সম্পুর্নরূপে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলো।এসময় আলোকবর্তিকা হয়ে আসে নীলা।অর্নবকে বুঝিয়ে সুজিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মায়ের শোকটা কাটিয়ে উঠে করণীয় সম্পর্কে বোঝাতে সক্ষম হয় নীলা।নামাজটা পড়ে অর্নব তৎক্ষণাৎ একটা পিকআপ ভাড়া করে এবং সাথে কিছু লোকবল ভাড়া করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।উল্লেখ্যঃ এই পিকাপ এবং লোকবলের ব্যাবস্থা নীলা করে দিয়েছিলো তার বাবাকে বলে।লাশ দাফন দিয়ে দুদিন নানবাড়ির তালা ভেঙে সেখানে আশ্রয় নিয়ে দুদিন থাকে অর্নব,সম্পুর্ন একা।দুদিন পর অর্নবের মামা দেশে আসলে অর্নবকে সেখান থেকে ঢাকা নিয়ে আসে।

প্লেনে বসে সিটবেল্ট বাধঁতে বাধঁতে ভাবছে করছে অর্নব,তার মা তাকে এ অবস্থায় দেখলে কতটা খুশিই না হতেন।নাড়ীর টানে দেশে যাচ্ছে সে।নাড়ীর টান উপেক্ষা করা যায়না,তার মাও পারেনি।বোধহয় নারীর টানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন তার জন্মস্থানে।সে ঈদের দিন লাশ নিয়ে গ্রামে যেতে যেতে এই কথাটাই ভাবছিলো,আজও এই কথাটাই ভাবছে।প্লেনের জানালা দিয়ে মেঘের ভেলা দেখা যাচ্ছে অর্নবে মনে হলো ক্ষণিকের জন্য যেন সেই মেঘে অবিকল তার মায়ের হাসিমাখা মুখটা ভেসে উঠলো!

 

    **সমাপ্ত**

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: