আজ: ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ১১:১৪
সর্বশেষ সংবাদ
মতামত মুনিয়াদের বাঁচতে নেই!

মুনিয়াদের বাঁচতে নেই!


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ০৩/০৫/২০২১ , ১২:৪১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: মতামত


বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সাহসী লেখক, সাংবাদিকগণ মোসারাত জাহান মুনিয়া প্রসঙ্গে স্তম্ভিত হয়ে গেছেন বলে আমি ধারণা করছি। উচ্চকণ্ঠের অধিকারী মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা, নারী অধিকার আদায়ে সোচ্চার নেত্রীরা সবাই কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে এমনভাবে চুপসে আছেন, যেন কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। রাষ্ট্রের অখ্যাত একজন নাগরিক হিসেবে জানতে চাই কেন চুপসে আছেন আপনারা? কারণ কি এটাই যে, মুনিয়াদের বাঁচতে নেই।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে উল্লেখ করে অনেক মিডিয়া নিউজ করেছে। নিউজে সায়েম সোবহান আনভীর নাম উচ্চারণ করতে সাহস পাননি, কিসে আপনাদেরকে বাধাগ্রস্ত করলো বলতে পারেন? একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ছবি হাইলাইট করে না দেখিয়ে মুনিয়ার ছবি হাইলাইট করে প্রদর্শন করেছে, কিন্তু কেন? এটি কি আমাদের সাংবাদিকতার নীতিতে পড়ে নাকি আমরা কোন অদৃশ্য শক্তির বলয়ে আটকে আছি নাকি সেটা বসুন্ধরার বিজ্ঞাপন ইস্যু? আনভীরকে দুধে ধোয়া তুলসীপাতা বানিয়ে মুনিয়ার চরিত্র নিয়ে যারা আজে বাজে বলছেন তাদের কথা শুনে “ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনা” প্রবাদটি মনে পড়ছে। আমাদের সমাজের মানুষগুলোর অধিকাংশ চরিত্রের সাথে এই প্রবাদ বাক্যটি মিলে যায়। আমরা যখন অন্য মানুষকে অসৎ ও চরিত্রহীন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার খেলায় নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি তখন আমাদের মনেই থাকেনা যে, আমরা অধিকাংশ মানুষ শুধু সুযোগের অভাবে সৎ চরিত্রবান সেজে আছি। সুযোগ পেলেই ঠাকুর ঘরে ঢুকে পড়ি আর ধরা খেলেই বলি, আমি তো কলা খাইনা।
ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ১৬/১৭ বছরের ছোট্ট একটি মেয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়া, ৩/৪ বছরের মধ্যেই বাবা-মা দু’জনকেই হারিয়ে এতিম হয়ে গেছে সে। বড় বোন নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত তার উপরে আছে চাকুরী। যতটুকু জানা গেছে, বাবা-মা মারা যেতেই বড় ভাই সম্পদ কুক্ষিগত করতে মামলা মোকদ্দমা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। এই অবস্থায় একজন মুনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আতংকিত হবার যৌক্তিক কারণ আছে বৈকি। তাছাড়া আবেগ নিয়েই তো তার চলার কথা, এটাই তো তার বয়সের দাবী।
সবাই মুনিয়াকে দুষতে উঠে পড়ে লেগেছেন, অনেক সিনিয়র সিটিজেনও লিখছেন মুনিয়া লোভী, মাসে লাখ লাখ টাকা খরচ পেয়ে স্বপ্নের জগতে হারিয়ে গিয়েছিল, যার দরুন তাকে জীবন দিতে হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
একবার ভাবুন, এটা কি তার অপরাধ ছিলো? একদিকে মেয়েটার চোখের সামনে তার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বপ্ন গড়ে দেবার হাতছানি। কোনটা গ্রহণ করবে সে? স্বাভাবিকভাবেই আবেগের বশে সে মিথ্যা স্বপ্নটাকে বিচার করতে পারেনি, কারণ এটি তার সক্ষমতার বাইরে ছিলো। কিন্তু আনভীর তো অপরিপক্ক ছিলোনা, সে কেন রঙিন স্বপ্নে বিভোর একটি ছোট্ট কিশোরী মেয়েকে মিথ্যা স্বপ্নে দোল খাওয়াতে গেলো? স্ত্রী ছিলো, সন্তান ছিলো, নিরাপদ ভবিষ্যৎ তাদের জন্যই, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ আনভীররা।
তাহলে তার কিসের অভাব ছিলো এতো? মুনিয়াদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন, জীবনের আলো, তাদের লোভ ও অপরিপক্কতাই কি আনভীরদের একমাত্র অভাব?
মুনিয়া যাকে ভালোবেসেছে তার প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা খরচের সামর্থ ছিলো, সেখানে মাসে তার হবু স্ত্রীকে লাখ টাকা খরচ করে রাখবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। এখানে মুনিয়ার লোভটা কোথায় খুঁজে পান? মুনিয়া কি টাকা খেয়েছে? নাকি এই টাকা দিয়ে সে তার ভাই-বোনকে সাপোর্ট দিয়েছে? লাখ টাকা পেয়েছে তো ফ্ল্যাট মালিক, নিরাপদ বাসায় যাতায়াতের সুবিধার কথা ভেবেই আনভীর তার হবু বধুকে লাখ টাকা ভাড়া দিয়ে রেখেছে। এখানে মুনিয়ার দোষ নেই, দোষ ছিলো তার আবেগের, বয়সের, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ভাবনার, দোষ ছিলো আনভীরের। আনভীর স্বপ্ন না দেখালে, মিথ্যা আশ্বাসে তাকে কাছে টেনে না নিলে মুনিয়াকে অকালে অকারণে প্রাণ দিতে হতোনা।
আনভীরকে যারা সাধু জ্ঞান করে তার নাম মুখে নিতে পারছেন না, তার বিরুদ্ধে কলম ধরতে সাহস পাচ্ছেন না। হাঁ তাদেরকেই বলছি, মনে রাখবেন আমাদের সবার ঘরেই আবেগ তাড়িত বয়সী মুনিয়ারা বসবাস করে। আপনার মুনিয়া হারিয়ে গেলে কখনোই যেন কোন আনভীরকে দুষতে না দেখি, কাঁদতে না শুনি, লিখতেও না দেখি!
লিখেছেন: এম এফ ইসলাম মিলন
ব্যবসায়ী ও কলামিস্ট  ।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: