আজ: ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ৯:১৬
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে ‘সংঘবদ্ধভাবে চরমোনাই পীর সাহেবদের বিরুদ্ধে নগ্নভাবে ঝাপিয়ে পড়েছে একটি বিশেষ মহল’

‘সংঘবদ্ধভাবে চরমোনাই পীর সাহেবদের বিরুদ্ধে নগ্নভাবে ঝাপিয়ে পড়েছে একটি বিশেষ মহল’


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ২৬/০৪/২০২১ , ১:৪১ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে


মাওলানা গাজী আতাউর রহমান:   কিছুদিন ধরে একটি অনাকাঙ্খিত বিষয় লক্ষ করছি; একটি বিশেষ মহল সংঘবদ্ধভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং এর শীর্ষ নেতৃত্ত্ব- পীর সাহেব চরমোনাই, শায়খে চরমোনাই এমনকি মরহুম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. এর বিরুদ্ধেও নগ্নভাবে ঝাপিয়ে পড়েছে। এমনকি তাদের জঘন্য  আক্রমন থেকে বাদ যাচ্ছেন না পীর সাহেবের অন্যান্য ভাইগণও। বিশেষ এই মহলটি এমন এমন মিথ্যাচারও ছড়াচ্ছে, যা কোন মুসলমানতো দূরের কথা সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না।  কোন একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা হতেই পারে। রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাও দোষনীয় নয়। আমরা যে কোন গঠনমূলক সমালোচনাকে অবশ্যই শ্রদ্ধা এবং মূল্যায়ন করি। একটি রাজনৈতিক দল গতিশীল এবং ইফেক্টিভ হয় গঠনমূলক সমালোচনার মধ্যদিয়ে। কোন রাজনৈতিক দলের এবং কোন জাতীয় নেতার সমালোচনা না হলে, বুঝতে হবে, জনগণের মধ্য থেকে তারা হারিয়ে গেছে। অতএব, আমরা প্রত্যাশাই করি, আমাদের দল এবং আমাদের নেতৃত্বের বেশি বেশি গঠনমূলক সমালোচনা হোক। কিন্তু  সম্প্রতি একটি শ্রেণী অনলাইনে চরম মিথ্যাচার ও তথ্য সন্ত্রাস চালাচ্ছে। যা খুবই দূঃখজনক। তারা কেন, কী উদ্দেশ্যে এহেন মিথ্যাচার ছড়িয়ে অনলাইনে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা আরো একটি আপত্তিকর বিষয় লক্ষ করেছি, মহল বিশেষের মিথ্যাচার এবং পরিকল্পিত উস্কানির জবাব দিতে গিয়ে অনেকেই আমাদের হীতাকাঙ্খী বা অনুসারী সেজে, বিভিন্নরকম আপত্তিকর ও উত্তেজনাকর শব্দ প্রয়োগ করছে। আবার কেউ কেউ কোন ব্যাক্তির আক্রমনাত্ত্বক ও উস্কানীমূলক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে, কোন বিশেষ সংগঠনের ওপর দায় চাপাচ্ছে। এসব অভদ্রতা ও অসৌজন্যতা কোন সংগঠনের জন্যেই কল্যাণকর নয়। ভোগবাদী সেকুলার দলগুলোর কথা বাদ দিলে সকল ইসলামী সংগঠনেই ভদ্রতা ও সৌজন্যতাবোধ শিক্ষা দেয়া হয়। অতএব, সকল পক্ষের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, কোন ইসলামী সংগঠনের বা ব্যক্তির সত্যিকারের হীতাকাঙ্খী কেউ মিথ্যাচার, অভদ্রতা ও অসৌজন্যতা প্রকাশ করবেন না। ব্যক্তির উস্কানীর দায় কোন সংগঠনকে দিবেন না। আরো একটি বেদনাদায়ক বিষয় আজকে উল্লেখ করছি; কারো নাম বা উপাধী বিকৃত করা ইসলামী শরিয়তে গুনাহের কাজ। দূঃখজনক বিষয় হলো, এই গুনাহের কাজে অনেক ইসলামী সংগঠনের কর্মী সমর্থক এমনকি কিছু অবিবেচক আলেমও ব্যাপকভাবে লিপ্ত হয়ে গেছেন। চরমোনাই একটি জায়গার নাম হলেও এটি বিগত পৌনে  একশত বছর যাবৎ ‘পীর সাহেব চরমোনাই’ নামে শুধু বাংলা দেশে নয়, বিশ্বময় একটি পবিত্র উপাধী হিসাবে কোটি কোটি মানুষের অন্তরে শ্রদ্ধা এবং ভক্তির জায়গা দখল করে আছে। কারো কাছে চরমোনাই ভালো নাও লাগতে পারে; তাই বলে চরমোনাইকে বিকৃত করে উপহাস করার অধিকার কারো নেই। কিন্তু আমরা বহুদিন ধরে লক্ষ করছি, কিছু বিকৃত মানসিকতার নিচু শ্রেণীর মানুষ অনলাইনে ‘চরমোনাই’ শব্দটিকে বিকৃত করে নোংরা আনন্দ অনুভব করে। এই অভদ্র মানুষগুলোকে বোঝা উচিৎ, তাদের বিকৃত উল্লাসে  লাখো মানুষের অন্তরে রক্তক্ষরণ হয়। অতএব, যারা চরমোনাইকে বিকৃতভাবে উপস্হাপন করে এতোদিন গুনাহের কাজ করেছেন, আশা করি তারা তওবা করে এহেন অন্যায় কাজ থেকে ফিরে আসবেন। পরিশেষে সবাইকে বলবো, আমরা সকলের কল্যাণ চাই। দলের ভিন্নতা, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু আমরা সবাই দেশটাকে ভালবাসি। একজন মুসলমান হিসাবে আমরা ইসলামের আদর্শের আলোকে সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে চাই। মানুষের মুক্তির জন্যে সত্যিকারের ইসলামী ঔক্য ইসলামী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্খার বিষয়। সেই কাঙ্খিত ঐক্যের জন্যেই ইসলামী আন্দোলন  বাংলাদেশ বিগত ৩৪ বছর ধরে প্রহর গুণছে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: