আজ: ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৩:৩১
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ ‘কঠোর লকডাউন’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলছে ঢিলাঢালা

‘কঠোর লকডাউন’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলছে ঢিলাঢালা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ২২/০৪/২০২১ , ৭:৪৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


আসাদুজ্জামান আসাদ: সর্বাত্মক লকডাউনের আজ নবম দিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  চলাচল করছে গণপরিবহন বাদে অন্যান্য প্রায় সব যানবাহন। খোলা রয়েছে দোকানপাট, বাজারগুলোতে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। তবে, পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ‘মুভমেন্ট পাস’ আর জরুরি সেবার সাথে জড়িত ছাড়া কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  বিভিন্ন স্থানে ঘুরে কার্যতই দেখা গেলো ভিন্ন দৃশ্য। যেমনটি বলা হচ্ছে, তেমনটি আসলেই করা হচ্ছে না।

পুলিশের চেকপোস্টগুলোতে শুরুর দুইদিনের মতো এখন আর ততোটা কড়াকড়ি নেই। সবার পরিচয়ও জানতে চাওয়া হচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেকে। অবাধে চলাচল করছে মানুষ।

এ বিষয়ে শহরের কোর্টরোড মোড়ে দায়িত্ব থাকা ট্রাফিক  পুলিশ সোলাইমান  বলেন, আসলে ‘ঢিলেঢালা লকডাউন’ বলাটা ঠিক হবে না। আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়া যারা হাসপাতালে যাচ্ছেন বা অন্য কোনো জরুরি কাজে আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি।

তিনি বলেন, শপিং করার জন্য যে সময়টা বেঁধে দেওয়া হয়েছে সে সময়টাতেও অনেকে বের হচ্ছেন। এছাড়া নির্বাহীম্যাজিস্ট্রেটগন প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন অলিগলি ও কাঁচাবাজারে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এতে শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকছে না, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধিও। অনেকে মাস্ক পরছেন না।

ফারুকি বাজার, বর্ডার বাজার, আনন্দ বাজার,কাউতুলি বাজার সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের ভিড় সাধারণ দিনের মতোই। অনেক জায়গায় সরকারের নির্দেশনা মতো মাছ, মাংসের বাজার খোলা জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু বাড়তি উপস্থিতি থাকায় তাতেও শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকছে না।

নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের বক্তব্য ‘পেটের দায়ে’ বেরিয়েছেন তারা। ঘরে থাকার কোনো উপায় নেই। ঘরে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।

রিকশা চালক রহিম মিয়া বলেন, কেউ কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করেনি। আমি কি করবো, আমার তো গাড়ি (রিকশা) চালানো ছাড়া উপায় নাই। যেটাই পাই এখন সেইটাই করি। তাও এখন ঠিকভাবে গাড়ি চালাতে পারি না।

মাস্ক ছাড়া রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুহেল হোসেন। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, মাস্ক পরে রিকশা চালাতে পারি না। গরমে ভিজে যায়। মাস্ক খুলে থাকি মাঝে মাঝে। করোনা হলেও কিছু করার নাই। জীবন চালাতে হবে বলেই পথে নেমেছি।

প্রতিদিনই মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বাড়লেও নিয়ম মানছেন না সাধারণ মানুষ। নানান অজুহাতে বের হচ্ছেন সবাই।

বাজার করতে আসা খায়রুল ইসলাম আনন্দ বাজার এলাকায়  প্রতিবেদককে বলেন, আমার বাসা এই সামনেই। এসেছি একটু বাজার করে চলে যাবো। ‘মুভমেন্ট পাস’ কি বুঝি না।

রবিউল আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। থাকেন কলেজ পাড়া। হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছেন কাউতুলি গোল চত্বরে। লকডাউনে বাসা থেকে কেন বেড়িয়েছেন  জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি টিউশনি পড়াতে যাচ্ছি ভাদুঘর। কলেজ পাড়া থেকে হেঁটে এসেছি পড়াতে যাব বলে। লকডাউনে সপ্তাহে দু’দিন পড়াতে হবে, নাহলে আমার টিউশনিটা চলে যাবে, এজন্যই বাসা থেকে বের হয়েছি।

এদিকে ডিসি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পেজ থেকে জানানো হয়, প্রতিদিনের মত ২০ এপ্রিল ২০২১, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধ ও নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকল্পে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে ৩৭ জন ব‍্যক্তিকে ১৭,৮৫০/- টাকা জরিমানা করা হয় এবং নিত‍্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাজারে দ্রব‍্যমূল‍্য পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি ভালো হতে সময় লাগবে আরো কয়েকদিন। দুই সপ্তাহ পার হলে কমবে আক্রান্তের সংখ্যা আর তিন সপ্তাহ পর কমবে মৃত্যুর সংখ্যা। তাদের মতে, চলমান লকডাউন আর কয়েকদিন চললেই এবারের ঢেউয়ের চেইন ভেঙে যাবে। কমবে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা।এখন সংক্রমণ স্থিতিশীল রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন পরীক্ষার তুলনায় ১৮-২০ শতাংশ লোক আক্রান্ত হচ্ছেন। এটা ৫ এপ্রিল বিধি-নিষেধের ‘ফল’। মৃত্যুর হারের ওপর প্রভাব দেখবো আমরা আরও এক সপ্তাহ পর। আমরা আশাবাদী এই লকডাউনের পর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমবে।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় প্রথম দফায় গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়, যে বিধি-নিষেধের ধারাবাহিকতা চলে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। এটি শেষ হবে ২১ এপ্রিল। তার আগেই জাতীয় কমিটির লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশে চলমান লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: