আজ: ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ১০:৩৩
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, শিক্ষাঙ্গন বেরোবিতে শিক্ষকের নামে ভুয়া মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা দাবি

বেরোবিতে শিক্ষকের নামে ভুয়া মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা দাবি


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ১৪/০৪/২০২১ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,শিক্ষাঙ্গন


শিহাব মন্ডল, বেরোবি প্রতিনিধি:

ফেসবুকের ভুয়া মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট খুলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনীম হুমাইদাকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তোফায়েলের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই শিক্ষিকা। ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভুয়া নোটিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরিপের জন্য টাকা উত্তোলন করে পেশাগত ও ব্যক্তিগত সুনামহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাসনীম হুমাইদার ফেসবুক প্রোফাইলের ছবি ব্যবহার করে হুবহু তার আইডির মত করে তার মেসেঞ্জারে টাকা চাওয়ার একটি ভুয়া কথোপকথনের স্ক্রিনশট তৈরি করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তোফায়েল। এরপর তোফায়েল একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীর ফেসবুক মেসেঞ্জারে সেই ভুয়া স্ক্রিনশট পাঠান এবং শিক্ষিকা তাসনীম হুমায়দার নাম করে ওই ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জরিপের কথা বলে ১০০ টাকা করে উত্তোলন করতে বলেন। তোফায়েল কাজটি করার জন্য বারবার ওই নারী শিক্ষার্থীকে মোবাইলফোনে কল দিয়ে চাপ প্রয়োগও করেন।

অভিযোগপত্রে তাসনীম হুমাইদা উল্লেখ করেন, ৫ এপ্রিল দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে বিভাগের এক ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেসবুকের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাকে জানায়, সে তাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছে কোনো একটা সার্ভের কাজে প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে দিতে বলেছে। এ জন্য অপর একজন ক্লাস প্রতিনিধি তাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ জনের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে তুলেছে।

আমি উক্ত শিক্ষার্থীর পুরো বক্তব্য শুনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি এবং আমার বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস অনুভব করি। আমি মনে করি, এই ঘটনার মাধ্যমে আমাকে সামাজিকভাবে, পেশাগতভাবে এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও ক্ষতি করা হয়েছে এবং আমাকে মারাত্মক কোনো বিপদের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর আমি ডিজিটালি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অভিযোগপত্রে তাসনিম হুমাইদা বলেন, ম্যাসেঞ্জারে বার্তা পাঠানোর ঘটনায় আমি সেই নারী শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তখন সে জানায়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তোফায়েল তাকে এই স্ক্রিনশটটি তৈরি করে দিয়েছে এবং পুরো কাজটি কীভাবে করবে সেই নির্দেশনা দিয়েছে।

এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিবেন কিনা জানতে চাইলে তাসনীম হুমাইদা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে ও নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছি। যদি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার না পাই তাহলে বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তোফায়েল বলেন, যে শিক্ষক এই অভিযোগ করেছেন মূলত এটা তার নোংরা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। তিনি আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিউজ করতে বলেন এবং নিউজ না করার জন্য ক্লাস রুম এবং পরীক্ষার হলে নানাভাবে হয়রানি করেছেন। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রোণোদিতভাবে করা হয়েছে।

স্ক্রিনশটের বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল তোফায়েল বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। এটা নিয়ে আমার সঙ্গে কারও কোনোরকম কথা হয়নি। এ ব্যাপারে আমি দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেব।’

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: