আজ: ১০ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, রাত ২:২৪
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ দারিদ্র্যতা দমাতে পারেনি দিপাকে

দারিদ্র্যতা দমাতে পারেনি দিপাকে


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/০৪/২০২১ , ৭:২২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


 

ফারুক হাসান কাহার, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: দারিদ্রতা দমিয়ে রাখতে পারেনি দিপা সরকারকে। তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এতিম হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান দিপা সরকার এ বছর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।

 

প্রবল ইচ্ছা শক্তি, অদম্য মেধা ও পরিশ্রমের ফলে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও দমে যায়নি দিপা। পড়ালেখার মাধ্যমে মেধার স্ফূরণ ঘটিয়েছে ।পরিবারের অসীম অভাব অনটনে থেকেও কখনো লেখাপড়ায় পিছুপা হয়নি দিপা। অদম্য ওই প্রতিভা দমিয়ে রাখতে পারেনি অভাব।

 

দিপা ঢাকা ডেন্টাল কলেজ কেন্দ্র থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭১.২৫ নম্বর পেয়েছেন।  তার মেধাক্রম ২ হাজার ৩২৯। সে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

 

দিপা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউপির আলোকদিয়ার গ্রামের মৃত আবুল কালাম সরকার ও মৃত শিরিন বেগমের ছোট মেয়ে। তারা দুই ভাই তিন বোন।

 

২০১৬ সালে নুকালী বহু পার্শিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাধারনে বৃত্তি লাভ করে।২০১৮ সালে নুকালী বহু পার্শিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে এসএসসি এবং শাহজাদপুর সরকারী কলেজ থেকে ২০২০ সালে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে এইচএসসি পাস করেন দিপা।

 

দিপার এমন সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পুরো পরিবার আত্নীয় স্বজন। শুধু পরিবারই নন, দিপার এমন সফলতায় দিপার শিক্ষক সহপাঠী ও গ্রামবাসীরাও খুশি।

 

দিপার মামা আলতাফ হোসেন জানান, দিপার যখন ৩ মাস বয়স তখন দিপার মা মারা যায়। তারপর তার বাবা আরেকটা বিয়ে করলে দিপা তখন তার ছোট চাচার কাছে মানুষ হতে থাকে। দিপার বয়স যখন ৫ বছর হয় তখন তার বাবাও মারা যায়। তখন থেকেই শুরু হয় দিপার কষ্টের জীবন। কিন্তু অভাব দিপাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। লেখাপড়ার প্রতি অদম্য আগ্রহ সাফল্য এনে দিয়েছে তাকে। দিপার মামা আরো জানায় দিপার এমন সাফল্যে আমরা সবাই খুশি।

 

দিপা জানায়, ‘এবার এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়ে আমি অনেক গর্বিত। দিপা তার ছোট চাচা বিপুল ও চাচীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আরো জানান বাবা মা হারিয়ে চাচার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করলেও কখনও মনবল হারাইনি। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন ভালভাবে মেডিকেলে লেখাপড়া করে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারি ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।’

 

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: