আজ: ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ৭:১৮
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, ময়মনসিংহ বিভাগ ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের টানাটানি

ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের টানাটানি


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ০৭/০৪/২০২১ , ৭:২৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,ময়মনসিংহ বিভাগ


মোঃ তানবীর হাসান,  ময়মনসিংহ:
দিনভর মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের দখলে থাকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সকাল থেকেই তারা সেখানকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবাধ বিচরণ করতে থাকেন। সেই সঙ্গে তারা সিস্টারদের কাছে থাকা রোগীদের ফাইল নিয়েও টানাটানি করেন। সিস্টাররাও তাদের কাছে নির্দ্বিধায় ফাইল দিয়ে দেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরা দলে দলে ভাগ হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে ডাক্তারদের চেম্বারের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন। ছবি তোলেন, দেখেন কোন কোম্পানির ওষুধ লেখা হয়েছে।
অনেকেই আবার নিজেদের মোবাইল ফোন নাম্বার দিয়ে রোগী বা তার স্বজনদের বিভিন্ন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারে পরামর্শও দেন।  হাসপাতালের ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ফটকের  সামনে ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন প্রতিনিধি অবস্থান করছিলেন। পরিচয় জানতে চাইলে তাদের একজন নিজেকে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। নিজের নাম বলেন মোঃ রফিকুল ইসলাম।কেনো অফিস চলাকালীন সময়ে হাসপাতালের  ভিতরে অবস্থান করছেন -জানতে চাইলে দ্রুত সটকে পড়েন। একই সময়ে হাসপাতালের নিচ তলায় বহির্বিভাগ গেটের সামনে অবস্থান করছিলেন সরজুল মিয়া (ছদ্ম নাম)। তিনি বলেন, কয়েকটি কোম্পানির হয়ে কাজ করেন। মূলত কোম্পানিগুলোর তথ্য সংগ্রহ করাই তার কাজ।
ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলছিলেন এ্যান্টিক  ফার্মাসিউটিক্যালের(আয়ূ) প্রতিনিধি  আলমগীর। তিনি জানান, কারও সমস্যা সৃষ্টি করছেন না, শুধু ছবি তুলছেন।
 এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নূরুল হুদা খান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অফিস সময়ে হাসপাতালে যাওয়ার নিয়ম না থাকলেও সকাল ১০টার আগে দলে দলে ভাগ হয়ে সেখানে অবস্থান নেন বিভিন্ন কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভরা। ডাক্তারদের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় থাকার সুযোগ নেন তারা। কোনো কক্ষ থেকে রোগী বের হওয়া মাত্রই  তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেন। ডাক্তার কোন কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন তা জানার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার ডাক্তারের লেখা ওষুধের বদলে নিজের কোম্পানির ওষুধ কেনারও পরামর্শ দেন। তাদের মধ্যে কেউ সুযোগ বুঝেই ঢুকে পড়েন ডাক্তারের কক্ষে। রোগী দেখার সময় সেখানে অবস্থান নিয়ে তিনি নিজ কোম্পানির ঔষধ  লেখানোর চেষ্টা করেন।
সকাল থেকে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ কক্ষের সামনে প্রতিদিন অবস্থান করেন বেশ কয়েকটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এ সময়ে হাসপাতালে রোগীর প্রচণ্ড ভিড় থাকে। একেকজন রোগী ডাক্তারের কক্ষ থেকে বের হন অমনি তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরা। কেউ তাদের ছবি উঠানোর বিষয়টি ফলো করলে দ্রুত সটকে পড়েন। অবস্থান নেন হাসপাতালের প্রবেশ গেটের সামনে।
আবার কৌশলে কয়েকটি ব্যবস্থাপত্র দেখার পর হঠাৎই ডাক্তারের কক্ষে ঢুকে পড়েন। পাশে দাঁড়িয়ে থেকে ডাক্তারকে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি টের পেলে দ্রুত সটকে পড়েন। তাদের এমন দৌরাত্ম্য হাসপাতালের প্রতিদিনের চিত্র। এ অবস্থায় নার্সরা যেন অনেকটাই অসহায়। রোগীসহ তাদের স্বজনরাও চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: