আজ: ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ৭:০৯
সর্বশেষ সংবাদ
মতামত ব্যাংকিং খাত: কুকীর্তিতে নেই রাখঢাক

ব্যাংকিং খাত: কুকীর্তিতে নেই রাখঢাক


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৯/০৩/২০২১ , ১০:২২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: মতামত


ব্যাংকিং খাতের অব্যাহত লুটপাট- আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের হরিলুট কাণ্ড এই খাতকে চরম দুরাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম দুর্নীতি আর এটিএম বুথে জালিয়াতির পর সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নৈরাজ্য কতটা গভীরে বিস্তৃত তা পরিস্কার হয়েছে। জনগণ জানতে পেরেছে। শুধু একটি বা দুটি নয়, ব্যাংকবহির্ভূত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও ভয়াবহ, ভয়ঙ্কর। সব মিলিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত রীতিমতো ধুঁকছে। দিন দিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। দেশের আর্থিক খাতের প্রধান অংশ ব্যাকিং খাতের অবস্থা গত কয়েক বছরে বেশি খারাপ হয়েছে।
গত মাসে একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নতুন করে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয় নাই। তারপরও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পরিচালনাগত অদক্ষতা এবং অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাতে সেপ্টেম্বরের শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ২৪৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল পাঁচ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। অন্তত ১০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের অর্থ সময়মতো ফেরত দিতে পারেনি। পিপলস লিজিং আ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল লিমিটেড নিয়ে তো সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানে তুলকালাম ঘটনা। দেশের ইতিহাসে নতুন নতুন সব আপত্তিকর, অস্বস্তিকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে। গর্ত থেকে বিষাক্ত বিষধর সব সাপের ছাও ডিম বেরিয়ে আসছে। টাকা ফেরত দিতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কম্পানি (বিআইএফসি)। এগুলো ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগের কথা জানা যায়।

গত বছর ট্রান্সফারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় জানা গিয়েছিল, খেলাপি ঋণ আদায়ে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অকার্যকর হয়ে পড়ছে । তাতে বলা হয়েছিল ব্যাংকগুলোর শাখা যত বাড়ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনের সংখ্যা তত কমছে। আবার পরিদর্শনে পাওয়া অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও জটিলতা দেখা যায়। এতসব তর্ক-বিতর্ক, সতর্ক ডামাডোলের মধ্যেও একের পর এক ঘটে যাওয়া ঘটনায়, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে জালিয়াতির ঘটনা। কয়েক মাস ধরেই- জালিয়াতির ঘটনাগুলো আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকরা, আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক গ্রাহক এটিএম কার্ড বাতিল করতে ব্যাংকের কাছে আবেদন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংক মিলে ৯০ লাখের বেশি ব্যাংক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এব মধ্যে ৮৫ লাখ ডেভিট আর ৫ লাখ ক্রেডিট কার্ড । দেশে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ৮ হাজার এটিএম বুথ রয়েছে। এইসবের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়া দুঃখজনক। চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার ঝামেলা এড়াতে এবং সময় বাঁচাতে এটিএম বুথ গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়ে ওঠে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও আবাসিক এলাকার কাছাকাছি, এমনকি অনেক গ্রামাঞ্চলে মানুষের একেবারে হাতের নাগালেই কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ স্থাপন হওয়ায় অর্থ উত্তোলনে খুবই সুবিধা হয়েছে। শুধু গ্রাহক নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও দুর্বৃত্তের দুষ্কর্মের শিকার হয়েছে। এটিএম বুথে টাকা লোড করার সময় লুটেরারা আক্রমণ চালিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে। ব্যাংক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হিসাব করে এখন যত্রতত্র যেখানে সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু হয়েছে। সঙ্গত কারণেই ব্যাংকগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এর যথাযথ নিরাপত্তা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকও বড় ধরনের হ্যাকিং এর শিকার হয়েছে। আর তাতে চলে গেছে রিজার্ভের ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার (৮শ কোটি টাকা) সমপরিমাণ অর্থ। বিস্মিত হওয়ার মতোই খবর। বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিতও। ব্যাংকিং পেশা, সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ব্যাংকারকে সব ধরনের আইন-কানুন সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হয়। ‘সকল কাজের কাজী’ কথাটা ব্যাংকারের জন্য বেশি খাটে । দেশের বন্ধক ও সম্পত্তির স্বত্ব-বিষয়ক আইন-কানুন সম্পর্কে তাকে একটু বেশিই জ্ঞান রাখতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এ বিষয়ে ব্যাংকারের জ্ঞান একজন আইনজ্ঞের জ্ঞানকে ছাড়িয়ে যেতে হয়। এজন আইনজ্ঞ একটি সম্পত্তি বন্ধক রাখার জন্য যে পরামর্শ দিয়ে থাকেন, সে পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক শতকোটি হাজার টাকার ঝুঁকি নিয়ে থাকে। জ্ঞানবুদ্ধি, চিন্তাচেতনা, বিচার বিবেচনা, রিপুর তাড়না প্রভৃতির অধিকারিত্ব এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকারকে অনন্য বৈশিষ্ট্যের হতে হয়। তার মধ্যকার কামনা-বাসনাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম বলেই তারা ব্যাংকার। জ্ঞানবুদ্ধি, বিচারশক্তি হারিয়ে তারা যখন কামনা বাসনার দাস হয়ে যায় তখন তাদের অবস্থা হয়ে যায় অধিক নিষ্ঠুর ও অন্য সাধারণ মানুষের মতো অপরাধী। দেশের আইন-কানুনের দ-বিধিরও ঊর্ধ্বে।
প্রতিভাদীপ্ত চৌকষ ব্যাংক কর্মকর্তা নাই-তা নয়। বেশিরভাগই দক্ষ- সৃজনশীল। এর মধ্যে ঋণখেলাপি সংস্কৃতির অপকর্মে জড়িত কিছু ব্যাংকারও তাঁদের উৎসাহদাতাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতা বাড়াতে হবে। চিরতরে নির্মূলের উপায় খুঁজতে হবে।
খেলাপি ঋণের এই বিপুল পরিমাণের কারণে ব্যাংকের মূলধন ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। বিদেশিরাও বিষয়টি ভালোভাবে নেয় না। যে ব্যাংক তার খণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ সময়মতো আদায় করতে এবং এজন্য কোনো কঠোর শাস্তি দিতে পারে না, তার এলসি গ্রহণে বিদেশি ব্যাংকগুলো আপত্তি জানায়। বিশ্বায়নের এ যুগে অর্থনৈতিক কর্মকা- আগের যে কোনো সময়ের চেয়েও বেশি বিঘ্নিত হয়। কল্পনা আর বাস্তবায়নাধীন উন্নত রাষ্ট্রের চিন্তার স্বার্থে জরুরি করণীয় হয়ে পড়েছে কোনো ঋণকে খেলাপি হতে না দেওয়া। অর্থনীতির নিয়মে কিছু ঋণ খেলাপি হতেই পারে। তার প্রতিকারও রয়েছে। ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত থাকলে ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা নিরুৎসাহিত হয়। তবে সামগ্রিকভাবেই দেশের ব্যাংকিং খাতের অবস্থা আশানুরূপ নয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরো শোচনীয়। ভুয়া খণ, খেলাপি ঋণ, অনিয়ম, লুটপাট ব্যাংকগুলোকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে।
এখন সময় পাল্টেছে। দেশ গরীবের কাতার থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে ডাকাতির ধরনও পাল্টেছে। ডাকাতির নাম পুকুর চুরি। যারা করেন তারা কতিপয় ধুরন্ধর মানুষ, সমাজে উচ্চ আসরে যাদের বিচরণ, যাদেরকে ধরা ছোঁয়া যায় না অথবা ধরা হয় না। এই চতুররা এতো চতুর যে, হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে হজম করতে পারেন অনায়াসে। এসব ডাকাতি গ্রামে নয়, শহরে-রাতের আঁধারে নয়, দিনে দুপুরে-রাজধানীতে-শেয়ার মার্কেটে, ব্যাংকে। শীতল রুমে বসে। এইজন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেম ইনস্টল করার আগে ব্যাংকারদের ই-নিরাপত্তা নিয়ে ভাবা অথবা এ ব্যাপারে পূর্বপ্রস্তুতি জরুরি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ স্ব স্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, মুখ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি ইত্যাদি ই-ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত এবং গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। আইসিটি সিকিউরিটি রিস্ককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনায় আনতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ই-ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় দক্ষ আইটি নিরাপত্তা জনবল প্রস্তুত ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক নিয়োগ করে নিজেদের ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি স্ট্যাটেজি-২০১৪ এর আলোকে ব্যাংকের জন্য স্বতন্ত্র যুগোপযুগী সাইবার পলিসি তৈরি করা এবং নিজেদের ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাইবার সিকিউরিটি বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।
দেখা গেছে, বড় বড় ব্যাংকাররা ব্যস্ত ‘ক্রেডিট’ নিয়ে। এতে সবারই নজর। সমানেই স্বাদ, গন্ধ এবং মজা। টেকনোলজি আর নিরাপত্তার চিন্তায় তাঁদের করসত নেই। এরপরও বিলিয়নেয়ার সক্ষমতায় এশিয় মানের ধারে কাছে নেই বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্বে প্রতি সপ্তাহে নতুন করে আটজন বিলিয়নেয়ার হয়েছেন। পুরো বছরে হয়েছেন ৪২১ জন। বিলিয়নেয়ারদের মোট সংখ্যা রেকর্ড তিন হাজার ২৮৮ জন। বৈশ্বিক ধনীর তালিকা ২০২১-এর দশম সংস্করণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, করোনা মহামারির মধ্যেও ২০২০ সালে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদ ৩২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৪.৭ ট্রিলিয়ন ডলার।
বিলিয়নেয়ারেরা গত বছর যা আয় করেছেন তা জার্মানির জিডিপির সমান, চীনের অর্থনীতির সমান। হুরুন বৈশ্বিক ধনীর তালিকায় বিশ্বের ৬৮ দেশের দুই হাজার ৪০২ কম্পানির তিন হাজার ২২৮ জন বিলিয়নেয়ার স্থান পেয়েছেন। ১৫ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত তাঁদের যে সম্পদের হিসাব তা এ তালিকায় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বিলিয়নেয়ারের দেশ চীন। দেশটিতে রয়েছে এক হাজার ৫৮ জন বিলিয়নেয়ার, গত বছর বেড়েছে ২০০ জনের ওপর। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বিলিয়নেয়ার গত বছর ৭০ জন বেড়ে হয়েছে ৬৯৬ জন, তৃতীয় ভারতে ১৭৭ বিলিয়নেয়ার। বিশ্বের ৫১ শতাংশ বিলিয়নেয়ার এখন এশিয়ায়। এই সমস্ত তথ্য-উপাত্ত, খুঁটিনাটি বিবেচনা করে পুরো ব্যাংকিং নিয়ে পর্যালোচনা দরকার। সরকারের উচিত ব্যাংকিং খাতের জন্য ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করা। দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত হয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংস্কার দ্রুততার সাথে করা আরো জরুরি হয়ে পড়েছে। আর্থিক খাতকে অনিয়মিত থেকে বের করে আনতে ব্যাংকিং খাতকে অনিয়মিত থেকে বের করে আনতে ‘ব্যাংকিং কমিশন’ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম চিহ্নিত করবে এবং সুপারিশ প্রণয়ন ও প্রদান করবে। আমাদের আর্থিক দুরবস্থা দিনদিন বাড়ছে। অভিযোগের পাহাড় জমছে। বিশেষ করে ব্যক্তিবিশেষের প্রভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো গোষ্ঠী প্রভাবে চলছে। নির্দিষ্ট আইন-কানুন মেনে চলছে না। এদের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই নিয়ন্ত্রণহীনতা অত্যন্ত অশনিসংকেত দেশের আর্থিক খাতের জন্য। ইতিমধ্যে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। কুকীর্তি অপকর্মের হোতা, যোগানদাতারা বহাল তবিয়তে থাকলেও, দেশের আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও মান-মর্যাদা, সম্মানের প্রভূত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। হচ্ছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক জেগে না উঠলে, স্বাধীন কমিশন গঠনের মতো কিছু শক্ত পদক্ষেপ না নিলে আর্থিক খাতের বিপর্যয় আরো প্রকট আকার ধারণ করবে

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: