আজ: ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ৭:৪৭
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, প্রধান সংবাদ, প্রশাসন, রাজশাহী বিভাগ দুই ওসির বিরুদ্ধে নারী পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ

দুই ওসির বিরুদ্ধে নারী পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ অনলাইন | প্রকাশিত হয়েছে: ২৫/০৩/২০২১ , ৬:৪৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,প্রধান সংবাদ,প্রশাসন,রাজশাহী বিভাগ


রাজশাহী ব্যুরো:  রাজশাহী মহানগর পুলিশের দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে কুপ্রস্তারে সাড়া না দেওয়ায় এক নারী পুলিশ পরিদর্শকের স্বামীকে সাজানো মামলায় গ্রেফতার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে বুধবার (২৪ মার্চ) রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। তার এই অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার গোলাম ফারুক।

অভিযুক্তরা হলেন- নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ ও দামকুড়া থানার ওসি মাহবুব আলম।

ভুক্তভোগী ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক হিসেবে ঢাকায় কর্মরত। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত।

অভিযুক্ত ওসি মাহবুব আলম ওই নারীর সাবেক স্বামী। ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাদের। পরে নগরীর চন্দ্রিমা থানার ললিতাহার এলাকার আব্দুল ওদুদের ছেলে মাহবুব হুসাইনকে বিয়ে করেন ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা।

অভিযোগে ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, এক সময় তার সাবেক স্বামী মাহবুব পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময় সেখানে ওসি হিসেবে যোগদান করেন নিবারন চন্দ্র বর্মণ । কথা প্রসঙ্গে তিনি ওসিকে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই নানা কায়দায় তাকে বিরক্ত করতে শুরু করেন ওসি। বিষয়টি না বোঝার ভান করে তিনি এড়িয়ে গেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৬ মার্চ রাত দেড়টার দিকে তার স্বামীর বাসায় যান বোয়ালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) লতিফ। তিনি ফোনে কথা বলার পর পুলিশ বাসা থেকে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে এসে পুলিশ তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। যোগাযোগ করা হলে তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন পরিদর্শক (তদন্ত) লতিফ। তার ফোনে বারবার কল দিয়েও তিনি তুলে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে পারেননি।

পরদিন সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি সরাসরি বোয়ালিয়া থানায় যান। ডিউটি অফিসার এএসআই চাঁদ সুলতানের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, রাত ২টা ৩০ মিনিটের পর তার স্বামীকে থানায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওসির নির্দেশ না থানায় ওই সময় স্বামীর সঙ্গে তিনি দেখা করতে পারেননি।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওসি থানায় এসে বলেন, তোমার স্বামী তো শিবির করে। আমি বললাম, না স্যার ও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। তখন তিনি বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার স্যারের কাছে তোমার কথা বলে তিনি বললে তোমার স্বামীকে ছেড়ে দিব।’

আমি বললাম, স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে কমিশনার স্যারের কাছে যাবো? নিবারণ স্যার বললেন, না তোমার যেতে হবে না। তখন আমি ডিউটি অফিসাবের রুমে অসহায়ের মত বসে থাকলাম। এরপর আনুমানিক বেলা ১টার দিকে ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ থানায় ফিরলেন। আমি পেছনে পেছনে তার অফিস রুমে ঢুকলাম। তিনি বললেন, তোমার স্বামীর নামে মামলা হবে।

তখন আমি বললাম, স্যার আমি কি আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে পারবো? তিনি অনুমতি দিলেন। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর মুখে-হাতে আঘাতের চিহ্ন। আমি আমার স্বামীকে দেখে তার দুটি মোবাইলের একটি ওসি স্যারের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে কোর্টে চলে আসি।

ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমার স্বামীসহ গ্রেফতারকৃত অন্যান্যদের কোর্ট নিয়ে আসে পুলিশ। তখন জানতে পারি আমার স্বামীর নামে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দিয়েছে এবং তার নামের পাশে শিবিরকর্মী লিখে দিয়েছে। অথচ আমার স্বামী কোনোভাবেই জায়ামাত-শিবিরের সঙ্গে জড়িত না। মূলত আমার স্বামী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ই জড়িত নয়। কোনো দলীয় কমিটিতে আমার স্বামীর নাম কেউ দেখাতে পারবে না। এরপর আমি জেলখানায় আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে আমার স্বামী আমাকে জানায়- বোয়ালিয়া থানার এসআই মতিনসহ ওই টিমে থাকা অন্যান্য সদস্যরা শুধু তাকে শারীরিক নির্যাতন করেছে। এসআই মতিন আমার স্বামীকে বলেছে, ‘শালা মাহবুব স্যারের বউকে বিয়ে করার শখ হয়েছে। মাহাবুব স্যার তোর জীবন বরবাদ করে দিবে। তুই মনে রাখিস।’

ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, আমার স্বামী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। আমি আমার স্বাামীকে নিয়ে সহজ স্বাভাবিক ও শান্তিময় জীবন-যাপন করছিলাম। ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ তার ব্যক্তিগত নোংরা উদ্দেশ্য আমার ওপর প্রয়োগ করতে না পেরে এবং ওসি মাহবুব আলম আমার ওপর পূর্ববর্তী আক্রোশ থেকে আমার জীবনটা ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীকে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় চালান দিয়েছে। আমি পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে যেন হেয় প্রতিপন্ন হই সে জন্যই এই ধরনের কাজ করেছে। আমি বাংলাদেশ পুলিশের একজন নারী সদস্য। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রোশবশত আমার এবং আমার স্বামীর ওপর এই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ এবং ওসি মাহবুব আলমসহ আমার স্বামীকে যারা থানায় শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিনীত আবেদন করছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ  বলেন, ওই নারীর সঙ্গে তার এক বা দুইবার দেখা হয়েছে, কোনো আপত্তিকর কথা হয়নি। তিনি আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তার পুরোটাই মিথ্যা। তার স্বামীকে জামায়াতের নাশকতা পরিকল্পনার বৈঠক থেকে ধরা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মাহবুব আলম। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তারপর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। এরপর থেকে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: