আজ: ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ৭:১৬
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন যেভাবে বিবর্তিত হয়েছিল শেখ মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন

যেভাবে বিবর্তিত হয়েছিল শেখ মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৭/০৩/২০২১ , ১:৩২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: বিশেষ প্রতিবেদন


বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির সূচনা হয়েছিল মুসলিম লীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে, পরে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবোধ এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রবক্তা।
তার রাজনৈতিক দর্শন বা চিন্তায় কীভাবে এই পরিবর্তন হয়েছিল? এই প্রশ্ন নিয়েই কথা হয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং গবেষক কয়েকজনের সাথে।

শেখ মুজিবের জন্ম ১৯২০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। ১৯ বছর বয়সেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
যাত্রা শুরু মুসলিম লীগে
মুসলিম লীগের উদারপন্থী অংশের নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে শেখ মুজিব কোলকাতায় গিয়ে তার সাথে দেখা করেছিলেন ১৯৩৯ সালে। সেই সাক্ষাতের পর ফিরে এসে সে বছরই তিনি গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগ এবং মুসলিম লীগ গঠন করেছিলেন। তিনি নিজে মুসলিম ছাত্রলীগের সম্পাদক হয়েছিলেন।
শেখ মুজিব ১৯৪১ সালে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে পড়তে গিয়েও সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকতেন রাজনীতি নিয়ে।
সোহরাওয়ার্দীর সাথে পরিচয়
সরাসরি রাজনীতিতে জড়ানোর আগের বছর ১৯৩৮ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে তাঁর পরিচয় হওয়ার প্রেক্ষাপটও ছিল ভিন্নরকম। সেই প্রেক্ষাপট নিয়ে শেখ মুজিব লিখেছেন তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে- পরে যা বই হয়ে বেরিয়েছে।
‘শেরেবাংলা তখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শ্রমমন্ত্রী। বাংলার এই দুই নেতা একসাথে গোপালগঞ্জে আসবেন। মুসলামানদের মধ্যে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি হলো। তখন স্কুলে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করার ভার পড়ল আমার ওপর। আমি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করলাম দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে।’
সেই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ও তিনি তাঁর বইয়ে লিখেছেন।
‘পরে দেখা গেল, হিন্দু ছাত্ররা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী থেকে সরে পড়তে লাগল। এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলাম, সে বলল কংগ্রেস থেকে তাদের যোগদান করতে নিষেধ করেছে। আমি এ খবর শুনে আশ্চর্য হলাম। কারণ আমার কাছে তখন হিন্দু-মুসলমান বলে কোন জিনিস ছিল না’ লিখেছেন শেখ মুজিব তাঁর অসমাপ্ত আতœজীবনীতে।
হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদের মুখোমুখি মুজিব
গোপালগঞ্জে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সেই সফরের সময়ই তাঁর সাথে শেখ মুজিবের পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে কিছুদিন পত্রবিনিময়ও ঘটে। সে সময়ই গোপালগঞ্জে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবের এক সহপাঠীকে স্থানীয় একটি হিন্দু পরিবারে আটকিয়ে রাখার ঘটনা নিয়ে মারামারি হলে তাঁকে জীবনের প্রথম জেলে যেতে হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ নেতা নূহ আলম লেনিন বলেছেন, হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদের জেরে কিছু নেতিবাচক ঘটনার মুখোমুখি হলেও সেই কিশোর বয়সেও শেখ মুজিবের ওপর সাম্প্রদায়িক চিন্তা প্রভাব ফেলতে পারেনি।
‘তাঁর যে মানস গঠন, সেটা কোনো সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হয়নি। সেই কিশোর বয়সেই মাদারীপুরের পূর্ণ দাসের স্বদেশী আন্দোলনের গ্রুপের সাথেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল। আর তিনি ব্রিটিশ শাসন এবং জমিদারি প্রথার প্রতিও তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।’
নূহ আলম লেনিন মনে করেন, সেই সময়ের বাস্তবতায় শেখ মুজিব মুসলিম লীগকে একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের চিন্তা থেকে ঐ দলে যোগ দিয়েছিলেন।
‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে পরিচয়ের পর ঐ সময়ের বাস্তবতায় তারা মুসলিম লীগকে একটা প্ল্যাটফর্ম মনে করেছিলেন। সেই প্ল্যাটফর্ম মাধ্যমে জমিদারী প্রথার অবসান ঘটিয়ে একটা উদার রাষ্ট্রের স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন’- মন্তব্য করেন লেনিন।
সুভাষ বসুর ভক্ত মুজিব
শেখ মুজিব যে কিশোর বয়সেই ১৯৩৬ সালে স্বদেশী আন্দোলন বা ভারতের বিপ্লবী নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর অনুরাগী ছিলেন, সে কথা তিনি নিজেই তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন।
‘ইংরেজদের এদেশে থাকার অধিকার নেই। স্বাধীনতা আনতে হবে। আমিও সুভাষ বাবুর ভক্ত হতে শুরু করলাম। এই সভায় যোগদান করতে মাঝে মাঝে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর যাওয়া আসা করতাম। স্বদেশি আন্দোলনের লোকের সাথে মেলা মেশা করতাম’- লিখেছেন শেখ মুজিব।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মুজিব
‘বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সময়’-এই শিরোনামে এক প্রবন্ধে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান লিখেছেন, মুসলিম লীগের রাজনীতিতেও উদার অংশের নেতা সোহরাওয়ার্দী এবং আবুল হাশিমের সাথে থেকে শেখ মুজিব রাজনৈতিক শিক্ষা নিয়েছেন।
সে কারণে শুরু থেকেই অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির চিন্তা নিয়ে তার রাজনৈতিক মানস তৈরি হয়েছিল।
শেখ মুজিব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে গবেষণা করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশিদ। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই শেখ মুজিব অসাম্প্রদায়িক চিন্তা নিয়ে গণতন্ত্রের আন্দোলন শুরু করেন।
‘বঙ্গবন্ধু কখনই সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। মুসলিম লীগে থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন তিনি করেছেন, কিন্তু তাঁর রাষ্ট্র ভাবনায় ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সাথে আরও কিছু এলাকা নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘৪৭ সালে যখন সেই আন্দোলন ব্যর্থ হলো, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলো – সেই ৪৭ সাল থেকেই নতুন করে তিনি আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। এবং দেখুন মাত্র সাড়ে চার মাসের মধ্যেই ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করলেন। আর ২২ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করলেন মুসলিম আওয়ামী লীগের।’
শেখ মুজিব তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তেও পাকিস্তানের প্রতি মোহভঙ্গ হওয়ার বিষয়ে কয়েকবার উদাহরণ দিয়েছেন।
মুজিবের রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগের বছরই ১৯৪৬ সালের কোলকাতায় সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ডের জেরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল নোয়াখালী এবং বিহারে। সাম্প্রদায়িক সেই দাঙ্গার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন শেখ মুজিব।
পরে অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবোধকেই তিনি তাঁর রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে নির্দিষ্ট করে আওয়ামী মুসলিম লীগের মাধ্যমে এগিয়েছেন বলে গবেষকরা বলেছেন। সেই আন্দোলনের একপর্যায়ে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়েছিল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খুরশিদা বেগম শেখ মুজিবের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে গবেষণা করেছেন।
তিনি বলছেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই ধর্মনিরপেক্ষ স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন শেখ মুজিব।
‘পাকিস্তান আন্দোলনের সময় ১৯৪৬ সালে ডাইরেক্ট অ্যাকশন একটি কর্মসূচি হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে ভয়ঙ্কর হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা তিনি দেখেছেন। যা তিনি তার অসমাপ্ত আতœজীবনীতেও লিখেছেন। ফলে তিনি সাম্প্রদায়িক মঞ্চে দাঁড়িয়েও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা করছেন।’
অধ্যাপক খুরশিদা বেগম মনে করেন, শেখ মুজিব তাঁর রাজনৈতিক দর্শন স্থির করে এগিয়েছেন এবং সেজন্য তিনি হয়ে ওঠেন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রবক্তা।
‘পরে তিনি (শেখ মুজিব) ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানে নিজেকে দেখেছেন এবং ধর্মনিরপেক্ষ দর্শনকে নিজের রাজনৈতিক দর্শন হিসাবে নির্দিষ্ট করছেন। অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র- এই দর্শনগুলো নির্দিষ্ট করার পাশাপাশি এগুলোর বাস্তবায়ন বা প্রায়োগিক রূপ দেয়ার জন্য তিনি যে অভিপ্রায়কে লালন করেছেন, সেটি স্বাধীনতা।’
‘বাঙালী জাতীয়তাবাদের শক্তিকে ব্যবহার করেছেন মুজিব’
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার আন্দোলনও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বা ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম ধাপেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল শেখ মুজিবকে। তিনি জেলে থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন।
খুরশিদা বেগম বলেছেন, শেখ মুজিব তাঁর রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের আন্দোলনে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন।
‘জাতীয়তাবোধ বাঙালীর ছিল ১৯০৫ সাল থেকেই সেটা দেখা যায়। এই জাতীয়তাবোধকে তিনি (শেখ মুজিব) জাতীয়তাবাদে রূপান্তরিত করলেন। এই বাঙালী জাতীয়তাবাদ হলো চেতনার শক্তি। জনগণ নিজ পরিচয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বার্থ রক্ষার জন্য এটা চরম শক্তি। এই জাতীয়তাবাদকে সর্বজনীনতায় নিয়ে গিয়ে তিনি চরম শক্তিটিকে ব্যবহার করেছিলেন। যে শক্তিতেই শেষপর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল’ বলেন খুরশিদা বেগম।
ছয়দফা টার্নিংপয়েন্ট : অবিসংবাদিত নেতা হন মুজিব
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয় ১৯৬২ সালে। এর পর অল্প সময়ের মধ্যে ১৯৬৬ সালের ছয়দফা প্রস্তাব শেখ মুজিবের রাজনৈতিক চিন্তা বাস্তবায়নের বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে।
ছয়দফা প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে গণঅভ্যূত্থান এবং এরপরে ৭০-এর নির্বাচন – এসব রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেখ মুজিব ধাপে ধাপে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন।
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শেখ মুজিব তাঁর রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বছরের পর বছর মানুষের কাছে গেছেন, সে কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছিল।
‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা একদিনে বা একটি ভাষণে বা একটি ঘোষণায় তৈরি হয়নি। পাকিস্তানের ব্যাপারে মোহভঙ্গ হতে ২৪ বছর সময় লেগেছিল। এই সময়ে রাজনীতির সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিলেন শেখ মুজিব। এবং ৬৬ সালে তাঁর দেয়া ছয় দফা ছিল ঐ সময়ের রাজনীতির এবং জনমানুষের আকাঙ্খার সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট এবং ধারালো আটিকুলেশন। যার পথ বেয়ে এসেছে স্বাধীনতা’- বলেন মহিউদ্দিন আহমেদ।
মহিউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, শেখ মুজিব মাঠের মানুষের ভাষা বুঝে তার ভিত্তিতে রাজনৈতিক চিন্তা ঠিক করে এগিয়েছেন।
‘রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মাতামাতি আছে। এরা অনেকেই কাগজে বাঘ। শেখ মুজিব ছিলেন মাঠের রাজা। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন কী- এটা এককথায় বলতে গেলে বলতে হয়-একটা বিষয় নিয়ে লেগে থাকা এবং মানুষের চোখ ও মনের ভাষা পড়ে তাকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া, এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়।’
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ মুজিবকে তাঁর জীবনের চৌদ্দ বছরই কারাগারে কাটাতে হয়েছে। এর পরও রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থানে থেকে তিনি গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন।
সে জন্যই সেই সময়ের অন্য সব নেতাকে ছাপিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা হয়েছিলেন তিনি, এবং প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: