আজ: ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ১:১৫
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন ভাঙের আছে আশ্চর্য ওষধিগুণ, কেন শিবের এত প্রিয় এই পানীয়?

ভাঙের আছে আশ্চর্য ওষধিগুণ, কেন শিবের এত প্রিয় এই পানীয়?


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/০৩/২০২১ , ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: বিশেষ প্রতিবেদন


হিন্দু ধর্মের দেবতা শিবের আরেক নাম আশুতোষ। অর্থাৎ তিনি অল্পেই তুষ্ট হন। তাঁর স্বভাবও বেশ শান্ত। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে এই শিব-ই ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে দক্ষের যজ্ঞ ধ্বংস করিয়েছিলেন। তাঁর ক্রোধ থেকেই জন্ম নিয়েছিলেন বীরভদ্র, ভৈরবের মতো ভীতিকর শিবগণেরা। আবার ভারতীয় পুরাণ মতে ব্রহ্মা যেমন এই বিশ্ব সৃষ্টি করেন, বিষ্ণু যেমন তা পালন করেন, তেমনই শিবের হাতে এর ধ্বংসসাধন হয়।
লোকবিশ্বাস বলে, শিবের এই ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে আনতেই না কি মন্ত্রের মতো কাজ করে গাঁজা এবং ভাং। স্বামী যাতে শান্ত থাকেন, সেই জন্য লোকমতানুসারে দেবী পার্বতী নিজে হাতে ভাং বেটে সরবত তৈরি করে দেন। সেই প্রথা অনুসারে মহাশিবরাত্রির পুণ্য তিথিতেও ভগবানের উদ্দেশে ভাং উৎসর্গ করার রেওয়াজ আছে। পাশাপাশি, অনেকে গাঁজাও উৎসর্গ করে থাকেন।

তবে এই প্রসঙ্গে একটা প্রবাদবাক্য ভুলে গেলে চলবে না- ভগবানের লীলাখেলা, পাপ লিখেছে মানুষের বেলা! বক্তব্য কঠিন কিছু নয়। ভগবানকে যা মানায়, তা সাধারণ মানুষের সংযমের বাইরে। অতএব, নিয়মিত অপরিমিত ভাং সেবন আমাদের শরীরে নানা বিপদ ডেকে আনতে পারে। তবে আদতে গাঁজা হোক ভাং, এর মূল উপাদান ক্যানাবিস নানা ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আায়ুর্বেদশাস্ত্রেও আছে রোগবিশেষে এর নানা নিদানের কথা। মহাশিবরাত্রির প্রাক্কালে তাই দেখে নেওয়া যাক শিবের এই প্রিয় পানীয়র অত্যাশ্চর্য ওষধিগুণ!
স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি থেকে মুক্তি দেয় ভাং।
মস্তিষ্কে হরমোনের ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণ করে ভাং, পরিণামে মুক্তি দেয় অবসাদ থেকে।
স্নায়ুর উত্তেজনা প্রশমিত করে ভাং, তাই স্নায়বিক অসুখেও এর প্রয়োগ আছে।
স্নায়ুর উত্তেজনা দমন করার পাশাপাশি ভাং শারীরিক ব্যথা থেকেও রেহাই দেয়।
ত্বকচর্চাতেও ভাং ব্যবহৃত হয়। এর প্রলেপ ক্ষত সারাতে, ক্ষতের দাগ দ্রুত মেলাতে অব্যর্থ কাজে দেয়। পাশাপাশি, রোদে ত্বক পুড়ে গেলে সেই কালচে দাগ তুলতেও ভাঙের প্রলেপ মলমের মতো কাজ করে।
চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নিয়মিত পরিমাণে ভাং খেলে অরুচি দূর হয়, পরিপাকশক্তি বৃদ্ধি পায়।
সঠিক পরিমাণে রোজ সেবন করলে অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে ভাং।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই দিক থেকেও কাজে আসে ভাং, তা হাড় শক্ত রাখে।
পিত্তদোষ, বমিভাব কাটাতেও ভাং ব্যবহার করা হয় ওষুধ হিসাবে।
গাঁজা বা ভাঙের যা মূল উপাদান, সেই ক্যানাবিস হালফিলে ক্যানসারের ওষুধ তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: