আজ: ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রজব, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১১:৫১
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ কারা, কীভাবে টিকা পাবেন

কারা, কীভাবে টিকা পাবেন


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৩/০১/২০২১ , ৭:৩০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ


দীর্ঘ প্রত্যাশার পর আগামী বুধবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন নার্সকে প্রয়োগের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচি। অনলাইনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন আরো ২০ থেকে ২৫ জনকে টিকা দেয়া হবে। এদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকরা থাকবেন।

এরপর ২৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা দেয়া হবে। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দেয়া হবে। তাদেরকে এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে টিকাদান শুরু হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাতীয়ভাবে টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি করা খসড়া অনুযায়ী টিকার সংরক্ষণ, বিতরণ হবে। তবে প্রয়োজনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রথম মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রয়োজনে এতে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। প্রথম ধাপে ৭০ লাখ ডোজ হওয়ায় প্রথম মাসের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

নতুন পরিকল্পনায় প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হবে। প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ দেয়ার পরের মাসে ৫০ লাখ ডোজ। পরের মাসে আবার ৬০ লাখ ডোজ, দ্বিতীয় ডোজ মেলানোর জন্য এভাবে দেয়া হবে। পরের মাস থেকে আবার ৫০ লাখ করে দেয়া হবে।

টিকা সংরক্ষণ: ভারত সরকারের উপহার হিসেবে গত বুধবার আসা ২০ লাখ চার হাজার ডোজ টিকা রাখা হয়েছে তেজগাঁওয়ের ইপিআই স্টোরে। এছাড়া বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে কয়েক ধাপে আসবে মোট তিন কোটি ডোজ টিকা। বেক্সিমকোর মাধ্যমে যে টিকা আসবে তা তাদের ওয়্যারহাউজে রাখা হবে। এসব টিকা ছয়টি ধাপে জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেবে বেক্সিমকো।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সারাদেশে টিকা পাঠানোর জন্য বিশেষায়িত ট্রাক কেনা হয়েছে। জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে টিকা যাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায়। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি জানিয়েছে, ঢাকা থেকে ৬৪টি জেলার ইপিআই স্টোরে টিকা পাঠানো হবে।

সেখান থেকে টিকা যাবে ৪৮৩টি উপজেলা ইপিআই স্টোরে। ইপিআই স্টোরের আইএলআরে (হিমায়িত বাক্সে টিকা রাখার ব্যবস্থা) এসব টিকা রাখা হবে। সেখান থেকে কোল্ড বক্সে করে নেয়া হবে টিকাদান কেন্দ্রে।

আগে পাবেন যারা: টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে আছে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরাসরি নিয়োজিত সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরা। টিকা পাওয়ার পর প্রথম মাসে সবার আগে ৪ লাখ ৫২ হাজার ২৭ সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী টিকা পাবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য সেবায় সরাসরি নিয়োজিত সব ধরনের অনুমোদিত বেসরকারি ও প্রাইভেট মিলিয়ে ছয় লাখ স্বাস্থ্যকর্মী প্রথম ধাপেই টিকা পাবেন।

টিকা অগ্রাধিকার তালিকায় আছেন ২ লাখ ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৫৭ জন, রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ২৫ হাজার জন, সম্মুখসারির ২৫ হাজার গণমাধ্যমকর্মী, ৮৯ হাজার ১৪৯ জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার ৭৫ হাজার কর্মচারী, মৃতদেহ সৎকারে নিয়োজিত কর্মীদের মধ্যে ৩৭ হাজার ৫০০ জন প্রথম মাসে টিকা পাবেন।

এছাড়া জরুরি পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশন, ফায়ার সার্ভিস এবং বিমানবন্দরের দুই লাখ কর্মী, স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের ৭৫ হাজার জন, ৬০ হাজার প্রবাসী অদক্ষ শ্রমিক, জেলা-উপজেলায় জরুরি জনসেবায় নিয়োজিত দুই লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ফুটবল, হকি, ক্রিকেট মিলিয়ে জাতীয় দলের ১০ হাজার ৯৩২ জন প্রথম মাসেই টিকা পাবেন।

বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকরা টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। বয়স বিবেচনার ক্ষেত্রে আগে ৭৭ বছর থেকে ধরা হলেও, বাড়তি টিকা পাওয়ায় এখন ৭৫ বছর থেকে ধরা হবে।

যেভাবে টিকা পাবেনটিকার নিবন্ধনের জন্য গুগল প্লেস্টোর বা অ্যাপল স্টোর থেকে সুরক্ষা অ্যাপস ডাউনলোড করতে হবে। অথবা সুরক্ষাডটজিওভিডটবিডি এই ঠিকানায় গিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল থেকে নিবন্ধন করা যাবে।

অ্যাপসে গেলে একটি নিবন্ধন বাটন পাওয়া যাবে। নিবন্ধন বাটন চেপে টিকা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি কোন শ্রেণিতে পড়েন তা নির্বাচন করবেন। সেখানে সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, সঠিক জন্ম তারিখ দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্মতারিখ দিয়ে যাচাইকরণ বাটনে ক্লিক করবেন।

নিবন্ধনের সময় আবেদনকারীকে মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হবে, যেখানে টিকা সম্পর্কিত তথ্য পাঠানো হবে। অ্যাপসে একটি ঘর থাকবে যেখানে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদী কোনো রোগ আছে কিনা তা জানাতে হবে। কখনো আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সেটাও উল্লেখ করতে হবে।

ঠিকানার ঘরে টিকা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তির বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে। আবেদনকারী যে ঠিকানা নির্বাচন করবেন সেই অনুযায়ী তার টিকাদান কেন্দ্রের নাম আসবে। সব তথ্য দেয়ার পর একটি অঙ্গীকারনামায় টিকা নিয়ে তথ্যগুলো সংরক্ষণ করুন- এই বাটন চাপতে হবে। তথ্য সংরক্ষণ করলেই মোবাইলে একটি এসএমএসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা হবে তার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এই পোর্টাল থেকে যেকোনো সময় আবেদনকারী কার নিবন্ধন কার্ড ডাউনলোড দিতে পারবেন।

‘টিকাকার্ড সংগ্রহ’ এই অপশনে নাম, পরিচয় যাচাই করতে হবে। এ সময় আবেদনকারীর মোবাইলে একটি ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড যাবে। ওই পাসওয়ার্ড দিয়ে নিজের কার্ড নিজে ডাউনলোড করতে পারবেন।

যারা অ্যাপসে নিবন্ধন করতে পারবেন না, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। যাদের অ্যাপস থাকবে না তারা সরাসরি টিকা নিতে হাসপাতালে যাবেন।

টিকা নেয়ার পরে করনীয়বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভ্যাকসিন একটা নিরাপদ ভ্যাকসিন। তবে ভ্যাকসিন নেয়ার পরে কারো কারো ক্ষেত্রে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ভ্যাকসিন প্রয়োগের জায়গায় ফুলে যাওয়া, সামান্য জ্বর হওয়া, বমি বমি ভাব, মাথা ও শরীর ব্যাথা। এ লক্ষণগুলো দুই একদিন থাকতে পারে।

তাই ভ্যাকসিন নেয়ার পর যেকোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে, নির্ধারিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র/ স্বাস্থ্যকর্মী/ চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে। ভ্যাকসিন নেয়ার পর টিকা কেন্দ্রে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। ভ্যাকসিন নেয়ার পরেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবন যাপন করবেন।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: