আজ: ২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ২:১০
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে বিপ্লবী পিতার মৃত্যুদিনে ফুটবল ঈশ্বর পুত্রের মৃত্যু !

বিপ্লবী পিতার মৃত্যুদিনে ফুটবল ঈশ্বর পুত্রের মৃত্যু !


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৬/১১/২০২০ , ১২:১৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে


২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর পিতার মৃত্যু হয়। কি অদ্ভুত সমাপতন। চার বছর পরে আজ সেই একইদিনে মৃত্যু হলো পুত্রের নশ্বর শরীরের।
কিন্তু গোটা বিশ্বের নানা কোনায় নানা যুবক যুবতীর স্পন্দনের মৃত্যু হয়? মারাদোনার বাঁ পায়ের নস্টালজিয়ার মৃত্যু আছে? হাতে চে, পায়ে ফিদেলের উল্কি আঁকার আবেগের মৃত্যু হয়? লাতিন আমেরিকান স্পর্ধার মৃত্যু হয়? ধাক্কা খেয়ে, ধুলো ঝেড়ে ফের দৌড়তে যে অদম্য জেদ লাগে তার মৃত্যু হয়? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় বসে সমাজতান্ত্রিক স্বপ্ন দেখার কোন মৃত্যু হয়? শতবার চেষ্টা করেও বিখ্যাত দাড়ি, মুখের চুরুট, কালচে-সবুজ সামরিক পোশাকের অপমৃত্যু হয়?
২০১৬ সালে আজকের দিনে মারাদোনা হাউহাউ করে কাঁদছিল। কিউবায় পৌঁছে মারাদোনা বলে, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই পৃথিবী তার প্রকৃত নেতা হারিয়েছে। আমিও নিজেকে একজন কিউবান মনে করছি। এখন অনেক খেলোয়াড় থাকতে পারে। কিন্তু তিনি বিশ্ব একাদশের মালিক ছিলেন। কারণ, বিভিন্ন বিষয় সমাধান করার জন্য তাঁর মতো নেতা গোটা বিশ্বে আরেকটি মেলা দায়। ফিদেলের কোনও মৃত্যু নেই৷’
ফিদেল, চে, মারাদোনা, পাবলো নেরুদা, হাভানা সিগার, বিদ্রোহ আর চুমুর দিব্যির মৃত্যু নেই, অমোঘ আকর্ষণ আছে৷ সেই টানেই তো হাজার হাজার মাইল দূরের কোন কবি লিখতে পারে, “একটা কুঁড়ি বারুদগন্ধে মাতাল করে ফুটবে কবে, সারা শহর উথাল পাথাল ভীষন রাগে যুদ্ধ হবে”। তাই তো আজও একটা শিল্পী চোয়াল শক্ত করে তুলির টানে প্রতিবাদ জানাতে পারে। তাই তো আজও প্যালেস্টাইন থেকে পাঁশকুড়া কোন খুদে কনুইয়ের গুঁতো খেয়ে, ধাক্কা খেয়ে, রক্তাক্ত হয়ে, ধুলো ঝেড়ে উঠেও একটা গোল দিতে পারার সাহস দেখায়। যতোবার ওই খুদেটা এভাবে গোল দেবে, ততোবার কোন অন্য দুনিয়ায় এক পাগলাটে গাঁট্টাগোঁট্টা লোক ডাগআউটের পাশে দাঁড়িয়ে উল্লাসে ফেটে পড়বে, খেলা শেষে খুদেটার কপালে চুম্বন এঁকে দেবে, বুকে মুষ্টিবদ্ধ হাত ঠুকে আগুন জ্বালাবে হৃদয়ে হৃদয়ে।
বিপ্লবের মহাকাব্যে নায়কদের মৃত্যু হয় না, শোক হয় না। তারা বারুদে, ব্যারিকেডে, পায়ে পায়ে অবিনশ্বর হয়ে থেকে যায় আগামীকে এক দামাল প্রজন্মের রূপকথা শোনাবে বলে। অনেক অনেক উপরে কোন বিপ্লব শেষে, ক্লান্ত শরীরে টিলার ধারে বসে ফিদেল, চে আর মারাদোনা চুরুট আর কিউবা লিব্রা খাবে বলে। কিউবান হোয়াইট রাম, কোলা আর লেবু দিয়ে কিউবা লিব্রা ককটেলটি বানানো হয়। যদিও আজও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ককটেল বিপ্লব, ফুটবল আর ল্যাটিন আমেরিকার বিদ্রোহী নায়কেরা। আজ শেষ বিপ্লবীর মৃত্যু হলো। আজ ঈশ্বরের মৃত্যু হলো।
Hasta siempre কমরেড ।
লিখেছেন: ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ ।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: