আজ: ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ১১:৩২
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ ফেনী কারাগারে সোনাগাজীর আলোচিত প্রেমিক যুগলের বিয়ে

ফেনী কারাগারে সোনাগাজীর আলোচিত প্রেমিক যুগলের বিয়ে


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ১৯/১১/২০২০ , ৩:৪৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


দীর্ঘ দিনের প্রেম তারপর বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক মেলামেসা। জানিজানি হলে দেনমোহর জটিলতায় উভয় পরিবারের বিরোধ অতঃপর প্রেমিকার ধর্ষনের মামলার গ্রেফতার হয়ে কারগারে ঠাই হয় প্রেমিক জহিরুল ইসলাম জিয়ার।অবশেষে হাইকোর্টের আদেশে ফেনী কারাগার কর্তৃপক্ষের তত্বাবধায়নে কারাফটকে আজ বৃহস্পতিবার দুপরে সোনাগাজীর আলোচিত প্রেমিক যুগলের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরুজ্জামানের উপস্থিতিতে কারাবন্দি প্রেমিক জহিরুল ইসলাম জিয়া ও প্রেমিকা বিবি জহুরা ছয় লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে পড়ান মাওলানা আক্তার হোসেন।বিয়ে রেজিষ্ট্রি করেন নিকাহ রেজিষ্টার আব্দুর রহিম।
এর আগে সকালে পরিবার পরিজন নিয়ে কারাগারে আসেন বিবি জহুরা ও কারাবন্দি জিয়ার পরিবার।দুপুরে জেলা কারাগারের জেলার শাহাদাৎ হোসেনের অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন বিবি জহুরা।আগে থেকে ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন কারাবন্দি জহিরুল হক জিয়া।
জেলা কারাগারের সুপার আনোয়ারুল করিম বলেন, হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের সম্মতিক্রমে কারাবন্দি জহিরুল হক জিয়া ও বিবি জহুরার বিয়ে সম্পন্ন্ হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খোকন,নুরুল ইসলাম সোহাগ,কাজি বুলবুল আহমদ সোহাগ,চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভুট্টু,কারা কর্তৃপক্ষের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরো বলেন,জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে উভয় পরিবারের সম্মতির স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।নির্দেশনা অনুয়ায়ী বিয়ের কাবিনসহ যাবতীয় তথ্যাদি হাইকোর্টে প্রেরণ করবো।
বিয়ে সম্পন্নের পর কারাফটকে হাইকোর্টের আদেশের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কনে বিবি জহুরা বলেন, আমরা গরীব মানুষ,আদালতের আদেশে আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি,আমার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দর সংসার জীবন গড়তে আমি সবার সহযোগীতা কামনা করি এবং একই সাথে আমার স্বামীর দ্রুত মুক্তি চাই।
বিবি জহুরার পিতা আব্দুল হাই ও জহিরুল ইসলাম জিয়ার পিতা আবু সুফিয়ান মেম্বার বলেন, কুচক্রিমহলের চক্রান্তে আমরা বিভ্রান্ত ছিলাম। আদালতের আদেশে ছেলে মেয়ের বিয়ে হয়েছে।আমাদের প্রত্যাশা তারা উভয়ে দাম্পত্য জীবনে সুখি হবে।
উল্লেখ্য সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিন পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ানের ছেলে জিয়াউদ্দিন তার প্রতিবেশী কিশোরীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয়ের সম্মতিতে বিয়ের আশ্বাসে তারা শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবার তাদের বিয়ের উদ্যেগ নিলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল টাকা দাবী করে।
জিয়া উদ্দিনের পিতা টাকা দিতে রাজি না হলে কুচক্রী মহলটি কিশোরীর পরিবারকে ফুসলিয়ে চলিত বছরের ২৭ মে সোনাগাজী থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করলে পুলিশ জিয়া উদ্দিন কে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে। পরে পুলিশের তদন্তে ধর্ষনের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ৩০ জুন আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার বাদী ও আসামীপক্ষ আপোষে বিয়েতে সম্মত থাকিলেও নানা কারনে তাহা হয়ে উঠেনি।

হাইকোটের আইনজীবী ফারুক আলমগীর বলেন,নিম্ম আদালতে জামিন না হলে জিয়া উদ্দিনের পরিবার আমার শরানাপন্ন হলে আমি জামিন চেয়ে হাইকোর্টে মিস মামলা দায়ের করি।গত ১ নভেম্বর বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মোস্তাাফিজুর রহমান এর আদালতে জামিন শুনানির সময় আমি আদালত জানায় কথায় কথায় ধর্ষনের মামলা আদালতে না করে আমাদের প্রতিকার দেওয়া বাঞ্চনীয়।
এই বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় আদালত বিয়ের শর্তে আমার মক্কেলকে জামিন দিতে অভিমত ব্যক্ত করে আদেশ প্রদান করেন।আদালত আদেশে উল্লেখ করেন উভয়পক্ষ সম্মত থাকলে ফেনী জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করিবেন এবং বিয়ে সংক্রাক্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টকে অবহিত করিবেন।বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয়েছে করা কর্তৃপক্ষের এমন প্রতিবেদন জমা হলে হাইকোর্টে জমা হলে আদালতে জামিনের আদেশ প্রদান করবেন।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: