আজ: ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি, রাত ২:০৬
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধান সংবাদ, বাংলাদেশ, মতামত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এবং মৌলবাদীদের আস্ফালন!

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এবং মৌলবাদীদের আস্ফালন!


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ১৮/১১/২০২০ , ৬:২৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: প্রধান সংবাদ,বাংলাদেশ,মতামত


সম্প্রতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়ে সমাবেশ করেছে মৌলবাদী দুই নেতা। তাদের একজন হলেন চরমোনাই’র পীর ও ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক।

তাদের দাবি, মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তৌহিদি জনতার আন্দোলন চলবে। সরকার যদি ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন থেকে সরে না আসে, তাহলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে তারা। যেই মহান ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশের জন্ম তার ভাস্কর্য বানালে নাকি সেই ভাস্কর্য মৌলবাদীরা বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করবে। এমন আক্রমণাত্মক ভাষায় হুঙ্কারও দিয়েছেন কিছু ধর্মব্যবসায়ী ধর্মান্ধরা। তাদের দাবি, ভাস্কর্য নাকি মূর্তি। তাই মসজিদের শহরে মূর্তি স্থাপন করা যাবে না।

আসলে এই মৌলবাদীরা শান্তিময় দেশকে আফগানিস্তান আর পাকিস্তান বানাতেই মাঠে নেমেছে। তারা কখনও আন্দোলন করে ধর্ম অবমাননার নামে, কখনও কাউকে কাফের আখ্যা দেয়ার নামে, আবার কখনও ভাস্কর্য অপসারণের নামে। আসলে তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

আজ এদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তোলা হচ্ছে। তারা যে আসলে ধর্মান্ধ এবং স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি তা আবারো স্পষ্ট করেছে।

আমরা এখন ভাস্কর্যের বিষয়ে পবিত্র কোরআন-হাদিসের শিক্ষামালা দেখব। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা নবী রাসুলদের ঘটনার বিষয়ে একটি নীতিগত শিক্ষা দিয়ে বলেছেন, নিশ্চয় তাদের (নবী-রাসুলদের) ঘটনাবলীর মাঝে জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ১১১)।

কোরআন শরিফে আল্লাহ’র নবী হজরত সোলায়মান (আ.)-এর সাফল্য ও বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ইয়া’মালুনা লাহু মা ইয়াশাউ মিম মাহারীবা ওয়া তামাসীলা অর্থাৎ তারা তার ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাসাদ ও ভাস্কর্য বানাতো… (সুরা সাবা, আয়াত: ১৩)। এই আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়, হজরত সোলায়মান (আ.)-এর আমলে তার জন্য ভাস্কর্য বানানো হত। আর এই শিল্পশৈলী ও নিপুণ প্রযুক্তি লাভের জন্য এ আয়াতেই আল্লাহতায়ালা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

ভাস্কর্য মাত্রই যদি শিরক হত তাহলে আল্লাহর পবিত্র নবী হজরত সোলায়মান (আ.) কখনই তা করতে পারতেন না। কেননা সব নবী-রাসুলই মূলত: শিরক দূরীভূত করতে আসেন। অন্যান্য শিক্ষা ও বিষয়াদিতে তারতম্য থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু সকল নবী শিরকের বিরুদ্ধে একই অবস্থান ও শিক্ষা প্রদান করেন।

মূর্তি বা ভাস্কর্য মাত্রই শিরকের উপকরণ-এমন কোন কথা নেই বরং যেটি যে উদ্দেশ্যে বানানো হয় সেটিকে সেভাবে বিবেচনা করতে হবে। হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) রাসুল (সা.)-এর সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী ছিলেন। তার (রা.) কয়েকটি পুতুল ছিল বলে হাদীসে স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি (রা.) তার বান্ধবীদের সাথে নিয়ে এসব পুতুল দিয়ে খেলা করতেন। কই, মহানবী (সা.) তো শিরক বলে এসব পুতুল নিয়ে খেলতে বারণ করেন নি? আবার, এসব পুতুল যেহেতু শিরকের উপকরণ তাই আমি এ পুতুলগুলো দিয়ে খেলা বন্ধ করে দিলাম-এ কথাও হজরত আয়েশা (রা.) কখনও বলেন নি। রাসুলুল্লাহর বাসগৃহে পুতুলের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে পুতুল বা ভাস্কর্য মাত্রই শিরকের উপকরণ নয়।

কট্টর ওয়াহাবীপন্থী হুজুররাও এটি জানে, প্রাণীর ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। সৌদি আরবের জেদ্দার মূল কেন্দ্রে দি ফিস্ট নামে একটি ভাস্কর্য আছে, এটি একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। আরও আছে ঘোড়ার ও মাছের ভাস্কর্য। একইভাবে মুসলিম অধ্যুষিত দুবাই ও ইরানে রয়েছে ঘোড়া ও অন্যান্য জীবের ভাস্কর্য। প্রমাণিত হল, ভাস্কর্য জীব দেহের হোক বা জীব দেহের কোন অংশের হোক তা যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত না হয় তবে এতে কোন বারণ নেই।

তবে গোঁড়া তালেবানি ভাবধারায় ভাস্কর্য নির্মাণ নিষিদ্ধ হেফাজতীরা সম্পূর্ণভাবে অ-ইসলামী সেই ভাবধারা প্রবর্তনের কথা বলছে। হেফাজতীরা যদি সত্যিই ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধী হয়ে থাকেন তবে এর প্রমাণ তারা তাদের হাটহাজারীর কাছেই অবস্থিত খাগড়াছড়িতে প্রদর্শন করতে পারেন। খাগড়াছড়ি শহরের দ্বারপ্রান্তে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবের একটি বৃহাদাকার ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে। মানুষের এই মূর্তিটি ভেঙে এরা প্রমাণ করতে পারেন এ বিষয়ে তারা কতটা সিরিয়াস।

অনেকে বলে থাকেন হজরত সোলায়মান (আ.)-এর যুগে মূর্তি বানানোর অনুমতি থাকলেও ইসলামের যুগে তা রহিত হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সত্যিকার বক্তব্য হলো, একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা ও শিরক পরিহার করাই হচ্ছে সকল যুগের সকল নবীর মৌলিক শিক্ষা, এতে কোন ব্যতিক্রম নেই। অতএব তখন হজরত সোলায়মান (আ.)-এর যুগে মূর্তি বানানো আর যাই হয়ে থাক শিরক হতে পারে না। তাই এদের এ দাবি ধোপেও টেকে না। মোদ্দা কথা হলো, মূর্তি ও ভাস্কর্য যে উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য নির্ধারণ করবে এটি বৈধ নাকি অবৈধ।

হেফাজতীদের শিরকের বিরুদ্ধে আন্দোলন-চমৎকার কথা। বিজাতীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান-খুব ভাল কথা। তার আগে হেফাজতীদের কাছে আমাদেরও কিছু জানার আছে। এই যে ধর্ম প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার নামে লং মার্চ, অবরোধ, কুশপুত্তলিকা দাহ, হরতাল, ভাঙচুর-এসব কি অ-ইসলামী সংস্কৃতি নয়? জাতি বলতে মুসলিম জাতি বুঝিয়ে থাকলে প্রথমে আপনাদেরকে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আর আপনারা যদি ‘বিজাতীয়’ বলতে বিদেশি তথা অবাঙালি সংস্কৃতি বুঝিয়ে থাকেন তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, আন্দোলনকারী গোষ্ঠী নিজেরা কতটুকু এ বিষয়ে আমল করছেন? আপনাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কি নিয়মিত জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে দিনের কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়? আপনাদের পোশাক ও বেশভূষায় কতটা বাঙালিয়ানা প্রকাশ পায় তাও সকলেরই জানা।

মাতৃভাষা বাংলাকে কি আপনারা সকল কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন? আপনারা আরবি উর্দু বলেন স্পষ্টভাবে, অথচ আপনাদের বাংলা উচ্চারণ শুনলে আমাদের শিশুরাও লজ্জা পায়! এক্ষেত্রে দু’চারজন ব্যতিক্রম থাকতেই পারেন। কিন্তু সাধারণভাবে যে অবস্থা গোচরীভূত ও প্রতিভাত হয় তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে আপনারা নিজেরাই জাতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুশীলন করেন না। আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও। তাই মিছিল-আন্দোলনে নামার আগে আপনাদের নিজেদের অবস্থা শুধরানো আবশ্যক বলে মনে করি।

মহানবী (সা.) মানুষকে বুঝিয়ে, তাদের মন জয় করে সৎপথে এনেছিলেন। সত্য ও সুন্দর পালন করতে মিছিল-আন্দোলন করেন নি, আইনও পাশ করেন নি। আপনারাও তার পথ ধরে এগোন।

‘মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা’ আপনাদের দাবি। প্রথমেই বলে নিই, ইসলাম ধর্ম কেবল ইসলামের নয় বরং সকল ধর্মমত ও মতবাদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করে। ধর্মীয় মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সকল মত ও পথের অনুসারীদেরকে ইসলাম সমান নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার প্রদান করে। জঘন্যতম আধ্যাত্মিক অপরাধ শিরক করার এবং সমাগত সত্যকে অস্বীকার করারও জাগতিক ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষা করে (সুরা আনআম-এর আয়াত ১০৮, সুরা কাহাফের আয়াত ২৯ প্রভৃতি দ্রষ্টব্য)।

একইসাথে পবিত্র কোরআন এ কথাও বলে, ধর্ম বিষয়ে মতপার্থক্যের বিচার হবে কিয়ামত দিবসে, ইহকালে নয়। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে যে স্পষ্ট শিক্ষা রয়েছে তা খোদাভীরু হাক্কানি আলেম-উলামা বেশ ভালোই জানেন। এ সত্ত্বেও সকল ধর্মের ও মতবাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার্থে কথা না বলে কেবল ‘ইসলাম গেল- ঈমান গেল’ বলে দাড়ি-টুপি আর আলখেল্লার সম্মান আদায় করা আর যাই হোক, ইসলামের খাঁটি অনুসারীদের শোভা পায় না।

দাড়ি-টুপি কি কেবল ইসলামের রেজিস্টার্ড ট্রেড মার্ক? পাগড়ি, পাঞ্জাবি-পাজামা কি কেবল মুসলমানরাই পরে, অন্য মতাবলম্বীরা কি এসব পরে না? ভারতীয় নেতা নেহরুও টুপি পরতেন। অপরিকল্পিত বিবর্তনবাদ তথা নাস্তিক্যবাদের প্রচারক ডারভিনের দাড়ি এবং সেই দাড়ির দৈর্ঘ্য নিয়ে কি কারও মনে সংশয় রয়েছে? আলখেল্লা বা জুব্বা আরবের খ্রিস্টান-ইহুদীরাও তাদের জাতীয় ও আঞ্চলিক পোশাক হিসাবে অহরহ পরছে। পূর্ব পাঞ্জাবের গুরুদয়ারাগুলোতে শিখ মতাবলম্বীদের দাড়ি ও পাগড়ি দেখলে এ বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে। স্পষ্ট বুঝা গেল, ‘দাড়ি-টুপি-আলখেল্লা’ মুসলমানদের একচেটিয়া সম্পত্তি নয় আর তাই এ নিয়ে বাড়াবাড়িরও কোন সুযোগ নেই।

আসল কথাটা কেউ মুখ ফুটে বলতে চায় না। একটি দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সেই দেশের প্রকৃতি, জলবায়ু, ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরই ধারক-বাহক হয়ে থাকে। এটি আইন করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না আবার কৃত্রিমভাবে সৃষ্টিও করা যায় না।

বাংলাদেশের সামাজিক ও জাতীয় জীবনে যেসব অধ্যায় পার করে জাতি আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছে সেখানে এক শ্রেণির হুজুরদের বিষয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা সর্বজনবিদিত।

৭১-এর আগে, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শ্রেণির তথাকথিত আলেম-উলামা যা করেছেন এর কারণে সমাজে তাদের সম্বন্ধে স্বাভাবিকভাবেই একটি নেতিবাচক ধারনা বিদ্যমান। আর এরই স্বাভাবিক প্রতিফলন ঘটে থাকে আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও গণমাধ্যমে। রাজনৈতিক অঙ্গন বাদ দিলেও সমাজ জীবনের বিভিন্ন স্তরে এক শ্রেণির হুজুররা এখনও যা করে যাচ্ছেন সেটাও বা কম কিসের? পানি-পড়া, তাবিজ-কবজ, শিরনি-মানত, কোরআন খতম, তালাক, হিল্লা-বিয়ে, কুলখানি, বখশায়ে দেয়া, নামাজের কাফফারা ইত্যাদি নামে কত কী চলছে আমাদের দেশে! এসবের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিফলন গণমাধ্যমে ধরা পড়াটা নিতান্তই স্বাভাবিক। মূল বা প্রকৃত কারণগুলো দূরীভূত না করে গায়ের জোরে সম্মান আদায় করাটা নিতান্তই বোকামির কাজ। সম্মান আইন করে লাভ করা যায় না। এটি লাভ করতে হয় মানবসেবা করে, দেশসেবা করে, মানুষকে সত্যিকার অর্থে ভালোবেসে। সৎ, খোদাভীরু, মানবদরদী ও আদর্শবানদেরকে মানুষ আপনা-আপনিই মন থেকে শ্রদ্ধা করে, কোন আইন লাগে না।

শেষে এটাই বলব, এ দেশ ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার। আমরা চাই, সবাই তার নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। এক্ষেত্রে যারা বিরোধ সৃষ্টি করতে চাইবে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা যারা ধর্মের নামে অধর্ম করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার পায়তারা করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে ছাড়া দেওয়ার কোন সুযোগ নে। কেননা ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের সাথে যে দেশই সুসম্পর্ক বজায় রাখবে সে দেশে কখনো শান্তি ফিরে আসতে পারে না, পাকিস্তান এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: