আজ: ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৮:২৬
সর্বশেষ সংবাদ
রাজনীতি গণতন্ত্র আজ কবরে: ডা: জাফরুল্লাহ

গণতন্ত্র আজ কবরে: ডা: জাফরুল্লাহ


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ১৭/১১/২০২০ , ৬:৪৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজনীতি


গণতন্ত্র আজ কবরে শুয়ে আছে এখন এটাকে মাটি দেয়ার অপেক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকালে, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে গণস্বাস্থের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র আমাদের বাঁচাতে হলে সকলের সম্মিলিতভাবে আন্দোলন ছাড়া কোন পথ নাই। আমরা জীবন্ত গণতন্ত্র দেখতে চাই, জবাবদিহীতা দেখতে চাই এবং মানুষের কথা বলার অধিকার চাই। সরকার যেভাবে মানুষের কন্ঠরোধ করে রেখেছে সেভাবে দেশ চলতে পারেনা। দেশ ধীরে ধীরে মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে। যেকোন দিন দেশ ভারতের সিকিমে পরিনত হয়ে যাবে।

এ দিকে মাজার জিয়ারত শেষে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যে দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের দৃড় ও সৎ হতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের উচিৎ মওলানা ভাসানীর জীবন চরিত্র ও আদর্শ স্মরন করা। এই দুর্যোগ থেকে অব্যাহতি পেতে আমাদের ত্যাগী হতে হবে। আমরা যারা নেতা তাদের দুর্দশা হবেই। স্বাধীনতায় যার যার মর্যাদা তা স্বীকার করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।এসময় তিনি আরোও বলেন, মওলানা ভাসানীর জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর জন্ম হতোনা।বাংলাদেশ সৃষ্টি হতোনা। বঙ্গবন্ধু আমার রাজনৈকিত পিতা,আর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈকিত পিতা মওলানা ভাসানী।

বিএনপির পক্ষ থেকে মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত এবং শ্রদ্ধা জানাতে এসে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, আজকে ভাসানী বেঁচে থাকলে দেশে ভোটার বিহীন নির্বাচন হতে পারতোনা। ভাসানীর আদর্শে উজ্জিবিত হয়ে এই স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি জ্বালাও পোড়াও রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। জনগনকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে বিএনপি সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাস করে। টাঙ্গাইলে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসুচির মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ভাসানী ফাউন্ডেশন, ভাসানী পরিবার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্বৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সন্তোষে ভাসানীর পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়।

এছাড়াও সরকারী স্বাস্থবিধি মেনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও মাজার জিয়ারতের মধ্যদিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলাউদ্দিন। এরপর ভাসানীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী ও বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভাইচ চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন ও মোনাজাত করেন।

এ সময় কেন্দ্রিয় নেতা খায়রুল কবীর খোকন শিমুল বিশ্বাসসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান আনসারী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের নেতুত্বে মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়। এ দিকে গনস্বাস্থের ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গনসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী, ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক রাশেদ ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন ও মোনাজাত করেন।

এছাড়াও জেলা জাতীয় পার্টি, কমিউনিষ্ট পার্টি, ভাসানী স্মৃতি সংসদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, জাসাস, ভাসানী আদর্শ অনুশীলন পরিষদ, ভাসানী স্মৃতি পরিষদ, ন্যাপ ভাসানী, আওয়ামী সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়।

বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং ক্যাম্পাসে অবস্থিত শাহ্ নাসিরউদ্দিন বোগদাদী এতিমখানায় কোরআন খতম ও এতিমদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরন করা হয়। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বরেণ্য এই নেতা মৃত্যুবরন করেন।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: