আজ: ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১:০৭
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ ধুনটে খাস জমি উদ্ধারে মাথা গোঁজার ঠাই পাচ্ছেন ১০ ভূমিহীন পরিবার

ধুনটে খাস জমি উদ্ধারে মাথা গোঁজার ঠাই পাচ্ছেন ১০ ভূমিহীন পরিবার


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ১৬/১১/২০২০ , ২:৩৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল রনির বিচক্ষণ বুদ্ধিমত্তা ও সুদক্ষ নেতৃত্বে ৩৩ শতক সরকারি খাস জমি উদ্ধার হয়েছে।
রবিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে খাস জমি উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বেদখল সরকারি খাস জমি উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে উপজেলা প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায় মথুরাপুর মৌজায় ৩৩ শতক সরকারি খাস জমির সন্ধান পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল রনি।
ওই জমির এসএ রেকর্ড বা এমআরআর বাংলাদেশ সরকারের নামে এবং আরএস রেকর্ড অর্থাৎ বর্তমান রেকর্ডও বাংলাদেশ সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক বগুড়া নামে রেকর্ড হয়েছে।
গত বুধবার ধুনট ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও নায়েব সেখানে গিয়ে জমি মাপ দিয়ে লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়।
বৃহষ্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল রনি, মথুরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ সেলিম ও গোপালনগর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন সরকারসহ ভূমি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ ওই জমি পরিদর্শনে যান।
সেখানে গিয়ে তারা দেখেন রাস্তা থেকে ১৫ হাত পরে খাস জমির মধ্যে কয়েকটি ইট দিয়ে তৈরি একটি বেদী রয়েছে। ঐ বেদীর উপরে যে ঘাস ছিল তা পরিষ্কার করে ফেলেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা জানায় যে সেখানে বছরে একবার শুধু কালি পূজা হয়ে থাকে।
বিষয়টি শোনার পর ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত ওই জমিটি সরকারি খাস সম্পত্তি এবং সেখানে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর নির্মান করে দেওয়া হবে বলে জানান।
এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে পূজার স্থানে একটা ঘর নির্মানের জন্য কিছু টিন এবং মন্ডপ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এরপর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন খুশি মনে চলে যায়।
কিন্তু স্থানীয় কতিপয় নেতাদের মদদে শুক্রবার সেখানে মন্দিরের জন্য ঘর নির্মাণ করে কিছু লোকজন। পরে সংবাদ পেয়ে ইউএনও কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তারা তা অগ্রাহ্য করে কাজ চলমান রাখে। এ কারণে শনিবার ওই জমিতে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণ কাজ শুরুর কথা থাকলেও তাদের বাঁধার মুখে তা সম্ভব হয় না।
একারনে রবিবার সকাল ১০টায় ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল রনিসহ পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে পৌঁছালে কতিপয় নেতাদের মদদে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনরা আবারও ঘর নির্মানে বাঁধা দেন।
পরবর্তীতে ইউএনও ও ভূমি কর্মকর্তার বিচক্ষন বুদ্ধিমত্তা ও সুদক্ষ নেতৃত্বে ৩৩ শতক সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে একটি পক্ষ ভুল বুঝিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি খাস জায়গায় তাদেরকে একটি মন্দিরও নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: