আজ: ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১২:১৭
সর্বশেষ সংবাদ
আন্তর্জাতিক ভুয়া খবর রোধে নজির দেখাল তাইওয়ান

ভুয়া খবর রোধে নজির দেখাল তাইওয়ান


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ১৬/১১/২০২০ , ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: আন্তর্জাতিক


গত বছর ডিসেম্বরে তাইওয়ানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন খবর চাউর হয় যে, সমলিঙ্গ বিয়েকে বৈধতা দেওয়ার ফলে সেখানে এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন ডক্টোরাল ডিগ্রি করার সময়ও তাকে নিয়ে অনেক নেতিবাচক প্রচারণা চলে। কিন্তু কোনো অপপ্রচারই হালে পানি পায়নি। চলতি বছরের গোড়ার দিকে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত হন। জনমত প্রভাবিত করতে পারেনি ভুয়া খবর।

শিশু পাচার বা ভুয়া টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিইউব মাসের পর মাস সরগরম থাকতে দেখা গেছে। এসব বিষয় নানাভাবে জনমতের ওপর প্রভাব ফেলে। তাইওয়ান দেখিয়ে দিয়েছে, ভুয়া খবর খুব বড় হুমকি নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বাজারে ভুয়া খবর বা তথ্যের দাপট থাকবে। মত প্রকাশের অধিকার খর্ব না করেও সঠিক তথ্য বা চিত্রটি মানুষের কাছে পৌঁছান সম্ভব। এক্ষেত্রে পশ্চিমা লিবারেল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর চেয়েও বেশি সফলতা দেখিয়েছে তাইওয়ান। ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় পশ্চিমা দেশগুলোর পদক্ষেপ সাধারণত প্রতিক্রিয়ামূলক। তাইওয়ান ভুয়া তথ্যের টুঁটি চেপে না ধরে জনগণ যেন সঠিক তথ্য জানতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়। এই উদ্দেশ্যে দ্বীপ দেশটি একদল প্রযুক্তিবিদকে নিয়োজিত করে। যাদের কাজ ছিল ভুল তথ্য খুঁজে সেগুলো খণ্ডন করা, সঠিক তথ্য জানিয়ে দেওয়া। ভুয়া তথ্যের পাশাপাশি তথাকথিত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অপনোদন করাও এই গ্রুপের কাজ।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার পর অনেক মিডিয়ায় বহু ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম হয়। সঠিকতা যাচাই না করে অনেক মানুষ সেগুলো বিশ্বাস করতে শুরু করে। এ বিষয়ে পশ্চিমা দেশ বা গণমাধ্যমকে মাথা ঘামাতে দেখা যায়নি। এর আগে ১৯৬৯ সালে নাসার অ্যাপোলো-১১-এর চন্দ্রাভিযান নিয়েও বহু তত্ত্ব ডালপালা ছড়িয়ে ছিল। তখন সোশ্যাল মিডিয়া না থাকলেও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নকে এর জন্য দায়ী করা হয়।

বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক জটিল। বাক্স্বাধীনতা পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ কারণে ঐ দেশগুলোতে ভুয়া তথ্য মোকাবিলা করা কিছুটা কঠিন। তাইওয়ান পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ধাঁচের দেশ হয়েও অনন্য নজির স্থাপন করেছে। দেশটি এ ব্যাপারে পুরো সমাজকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে চলার নীতি অনুসরণ করছে। সেখানকার নাগরিক প্রযুক্তি কমিউনিটি কাজ করছে সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে। যেমন তাইওয়ানের জনপ্রিয় মেসেজ সার্ভিস লাইন, এছাড়া বহুল ব্যবহূত চ্যাটবট (অ্যাপ) কোফ্যাক্টস। সাধারণ ব্যবহারকারীরা সন্দেহ বা বিতর্কমূলক তথ্য পেলে ঐ অ্যাপ থেকে সত্যাসত্য যাচাই করে নিতে পারে।

তাইওয়ান ফ্যাক্ট চেক সেন্টারের স্বেচ্ছাসেবীরা রাতদিন এ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এ সেন্টার প্রশাসনের প্রভাবমুক্ত স্বাধীনভাবে কাজ করে। তবে শুধু ভ্রান্ত তথ্য খণ্ডন করাই যথেষ্ট নয়। জনগণকে সঠিক তথ্যের ধারায় রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সংলাপের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন প্ল্যাটফরম। সাধারণত মানুষ এতে যোগ দিয়ে বিতর্কে অংশ নিতে পারে। নিজের জানা তথ্যের বাস্তবতা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হতে পারে। জনগণের মুখ খোলা রেখেই নেওয়া হয়েছে ভুয়া তথ্যে জাল ছিন্ন করার উদ্যোগ। কেবল শহর নয়, পল্লি এলাকাতেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এসব সার্ভিস।

তাইওয়ানের প্রধান উদ্বেগ চীনকে নিয়ে। চীন কখনোই চাইবে না তাইওয়ানে গণতন্ত্র টেকসই হোক। তাইওয়ানের জনগণকে দ্বিধাবিভক্ত করা চীনের অন্যতম লক্ষ্য। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তাইওয়ান মিডিয়া লিটারেসির ওপর গুরত্ব দিচ্ছে। সাই ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছেন। এই লক্ষ্যে তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অড্রে ট্যাংকে প্রশাসনে নিয়োগ দিয়েছেন। ২০১৪ সালে ইউক্রেনে রুশ হস্তক্ষেপ এবং ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠার পর ভুয়া খবর বা তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পশ্চিমাদের। তাইওয়ান এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহল ধারণা করছে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: