আজ: ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি, বিকাল ৪:১৪
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন ভোলায় ঘূর্ণিঝড়: যে সাইক্লোন পাকিস্তানের কফিনে ছিল শেষ পেরেক

ভোলায় ঘূর্ণিঝড়: যে সাইক্লোন পাকিস্তানের কফিনে ছিল শেষ পেরেক


পোস্ট করেছেন: অনলাইন ডেক্স | প্রকাশিত হয়েছে: ১২/১১/২০২০ , ৮:৪৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: বিশেষ প্রতিবেদন


এখন থেকে ঠিক ৫০ বছর আগের কথা। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এক সাইক্লোন আছড়ে পড়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভোলায়। ১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী ওই ঝড়ের আঘাতে ভোলা তছনছ হয়ে যায়। একের পর এক লোকালয় মাটির সাথে মিশে যায়।

তীব্র জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে ভেসে যায় হাজার-হাজার মানুষ, যাদের অনেকেরই আর কোন খোঁজ মেলেনি। এই অঞ্চলের ইতিহাসে ভোলা ঘূর্ণিঝড় ছিল অন্যতম মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তবে সেটি শেষ পর্যন্ত কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগই ছিল না – এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী একটি রাজনৈতিক প্রভাবও পড়েছিল কিছুদিনের মধ্যে।

সাইক্লোনের পরে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের উদাসীনতা প্রমাণ করেছিল যে পূর্ব পাকিস্তানের জীবন-মৃত্যু পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির কাছে খুব একটা গুরুত্ব পায় না।

ভোলা সাইক্লোনের এক মাসের মধ্যেই ১৯৭০ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে একচেটিয়া বিজয় লাভ করে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।

সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন

ভোলায় আঘাত হানা এই সামুদ্রিক ঝড় ‘দ্য গ্রেট ভোলা সাইক্লোন’ নামে পরিচিতি পায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূল দিয়ে এই সাইক্লোন বয়ে গেলেও সবচেয়ে তীব্র আঘাত হেনেছিল ভোলায়।

জাতিসংঘের আওতাধীন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ২০১৭ সালের ১৮মে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে।

ততে ভোলায় আঘাত হানা সাইক্লোনটিকেই ‘সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর সবোর্চ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলীয় এলাকায় ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।

ভোলা সাইক্লোনে কত মানুষ মারা গিয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল তখন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, এ ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় মৃতের সংখ্যা অনেক সময় বাড়িয়ে বলা হয়।

সেজন্য রক্ষণশীল হিসেবকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। সে হিসেবে ভোলা সাইক্লোনে নিহতের সংখ্যা তিন লাখের বিষয়টি সঠিক হতে পারে।

ভোলায় ছিল লাশ আর লাশ

ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার কয়েকদিন পরে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের সাংবাদিক হাওয়ার্ড হোয়াইটেন ভোলায় গিয়েছিলেন। তখন তিনি ভোলার মনপুরায় বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন।

তার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের ১৮ই নভেম্বর গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে হাওয়ার্ড হোয়াইটেন লেখেন, ভোলার মনপুরায় গিয়ে তিনি মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখেছেন।

দ্যা গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনপুরা এলাকার ২২ হাজার মানুষের মধ্যে ১৬ হাজার মানুষই মারা গিয়েছিলেন। এলাকায় ২০ হাজার গবাদিপশুর মধ্যে মাত্র কয়েকশো’ টিকে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী চৌধুরী কামালকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান লিখেছিল, ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে তখন ছিল মধ্যরাত। রেডিওতে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস তারা আগেই শুনেছিলেন। সেজন্য সবাই রাতে জেগেই ছিলেন। কিন্তু জলোচ্ছ্বাসের কোন পূর্বাভাস দেয়া হয়নি।

“অন্ধকারের মধ্যে আমরা হঠাৎ দেখলাম একটি আলোর ঝলকানি আমাদের দিকে আসছে। এরপর বজ্রপাতের মতো শব্দ। এরপর পুরো এলাকা পানিতে ভেসে যায়,” গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন মি. কামাল।

সাংবাদিক হাওয়ার্ড হোয়াইটেনকে মি. কামাল আরও বলেন, “আমরা এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার মৃতদেহ মাটি দিয়েছি। আপনি দেখতে পাচ্ছেন এখনও বহু মৃতদেহ পড়ে আছে।”

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পরবর্তী সময় ছিল আরও মারাত্মক। খাবারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন।

জলোচ্ছ্বাসের কারণে সেখানে খাবার উপযোগী কোন পানি ছিল না। ফলে বহু মানুষ পনিশুন্যতা এবং পানি-বাহিত রোগে মারা গেছেন। এছাড়া ছড়িয়ে পড়ে রোগব্যাধি।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা একটি হেলিকপ্টারে করে ভোলা গিয়েছিলেন। মি. রাজা ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৪ সামরিক ডিভিশনের জিওসি।

তার লেখা বই ‘অ্যা স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওউন কান্ট্রি’ বইতে ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এই সামরিক কর্মকর্তা। তিনি লিখেছেন, ভোলায় যাওয়ার পরে খাদ্য এবং বস্ত্রের জন্য মানুষ তাদের ঘিরে ধরে।

খাদিম হোসেন রাজা অভিযোগ করেন যে উপদ্রুত এলাকায় অবিলম্বে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করার জন্য তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণরকে পরামর্শ দিলেও গভর্ণর সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভূক্ত করতে চাননি।

ইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠক কেন ব্যর্থ হয়েছিলো?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মানুষ তখনই অনুভব করেছিল যে শাসনক্ষমতা যদি পূর্ব পাকিস্তানের হাতে থাকতো তাহলে ত্রাণের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন হতো না।

ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা সম্পর্কে পাকিস্তান সরকার কোন ধারণা করতে পারেনি। ফলে ১২ই নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত রেডিওতে কোন সতর্কবাণী প্রচার করা হয়নি এবং মানুষজন নিরাপদ সরিয়ে নেবার কোন উদ্যোগও নেয়া হয়নি।

তখন পূর্ব পাকিস্তানের রিলিফ কমিশনার ছিলেন আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার নেই এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী যথাযথ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

পাকিস্তান সরকারের উদাসীনতা

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর থেকে পাকিস্তান সরকার দৃশ্যত উদাসীন ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য প্রথম দিন কার্যত কিছুই করেনি পাকিস্তান সরকার। খোদ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান উপদ্রুত এলাকায় যেতেই চাননি।

শুধু প্রেসিডেন্ট নয়, পাকিস্তান সরকারের কোন মন্ত্রী ঘূর্ণিঝড়ের পর উপদ্রুত এলাকায় যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

বামপন্থী রাজনীতিবিদ এবং বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হায়দার আকবর খান রনো তাঁর আত্মজীবনীমূলক ‘শতাব্দী পেরিয়ে’ বইতে সে সময়ের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময় মওলানা ভাসানী ঢাকার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে ঢাকার পল্টন ময়দানে একটি সমাবেশ করেন তিনি।

পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কোন মন্ত্রী যে দুর্গত মানুষদের দেখতে আসেননি সে বিষয়টি জনসভায় জোর দিয়ে উল্লেখ করেন মওলানা ভাসানী।

“পরদিন দৈনিক পাকিস্তানে এক চমৎকার ছবি ছাপা হয়েছিল। এক পাশে বক্তৃতারত ভাসানী। অপর পাশে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার ৫ জন বাঙালি মন্ত্রীর ছবি। নিচে ক্যাপশন ছিল – ওরা কেউ আসেনি” – লিখেছেন হায়দার আকবর খান রনো।

বিষয়টি নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে প্রচণ্ড ক্ষোভ তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। ঘূর্ণিঝড়ের ১৪ দিন পরে অর্থাৎ ২৬শে নভেম্বর সি প্লেনে করে ভোলায় আসলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলেন, ত্রাণ তৎপরতায় তিনি সন্তুষ্ট।

অথচ তখন ত্রাণের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। একজন বিদেশী সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে প্রশ্ন করেন, ত্রাণের হাহাকার নিয়ে মানুষ সমালোচনা করছে কেন?

এ প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন, “মানুষ সমালোচনা করলে আমার কিছু করার নেই। আমার লক্ষ্য হচ্ছে কাজ করা এবং সমালোচনা ভুলে যাওয়া।”

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে সমর্থন করে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট দৃশ্যত বিমর্ষ ছিলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্য তিনি হেলিকপ্টারে করে এলাকা পরিদর্শন করেন।

জেনারেল রাজা বলেন, “নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হেলিকপ্টারটি ১০ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়েছিল। সেই উচ্চতা থেকে প্রেসিডেন্ট ধ্বংসযজ্ঞের আসল চিত্র দেখেননি। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন প্রেসিডেন্টকে ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে যা ধারণা দিয়েছিলেন, তাকে সেটাই গ্রহণ করতে হয়েছিল। “তারা প্রেসিডেন্টকে ধারণা দিয়েছিল যে খুব একটা ক্ষতি হয়নি।”

১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ভোলার সেই সাইক্লোনটি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি বাঙালির অবিশ্বাসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে তখন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে অবস্থান করছিলেন। ঝড়ের দুইদিন পরে তিনি চীন থেকে ঢাকায় আসেন।

কিন্তু উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে না গিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যান।

ফারুক চৌধুরী সে সময় পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরুণ কর্মকর্তা হিসেবে প্রেসিডেন্টের সাথে চীন সফরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন।

তার আত্মজীবনী ‘জীবনের বালুকাবেলায়’ ফারুক চৌধুরী লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান চাইলে চীন থেকে ঝড়ের পরদিন অর্থাৎ ১৩ই নভেম্বর ঢাকায় আসতে পারতেন। সেজন্য বিমান প্রস্তুতও ছিল। কিন্তু সেটা না করে ইয়াহিয়া ১৪ই নভেম্বর পিকিং থেকে ঢাকায় ফিরেন।

ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যে মোটেই চিন্তিত ছিলেন না, তা তার কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছিল।

ফারুক চৌধুরীর বর্ণনায়, “সবাই ভেবেছিল, ঢাকায় থেকে রাষ্ট্রপতি নিজেই ত্রানকার্য তদারক করবেন। তা না করে পরদিনই তিনি চলে গেলেন ইসলামাবাদে। গিয়ে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের কাছে বার্তা পাঠালেন যে সফল হয়েছে তার চীন সফর।”

শেখ মুজিব কীভাবে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির নেতা হয়েছিলেন?

ঝড়ের সময় ভোলায় অবস্থান করছিলেন তোফায়েল আহমেদ, যিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তখন তিনি নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন।

১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোন নিয়ে স্মৃতিচারণ করে একটি নিবন্ধ লিখেছেন তোফায়েল আহমেদ। ‘১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড় ও ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্মৃতিকথা’ শিরোনামের লেখায় মি. আহমেদ বলেন, অসংখ্য মানুষের মৃতদেহ দেখে তিনি দিশেহারা হয়ে যান।

শেখ মুজিবুর রহমান ভোলায় আসেন ১৪ই নভেম্বর – দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। সেখানে তিনি ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেন এবং তোফায়েল আহমেদকে নির্দেশ দেন দুর্গত মানুষকে সাহায্যে কাজ করার জন্য।

দুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে ঢাকায় হোটেল শাহবাগে এসে বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

তোফায়েল আহমেদ লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, দুর্গত এলাকা আমি সফর করে এসেছি। …. পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এখনো দুর্গত এলাকায় আসেননি। আমরা যে কত অসহায় এই একটা সাইক্লোন তা প্রমাণ করেছে।”

তখন নির্বাচনের বাকি মাত্র কয়েক সপ্তাহ। ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর ওই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: